জুলাই বিপ্লবের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বর্তমানে বহাল সিন্ডিকেট শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এই নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্যদের ‘ফ্যাসিবাদের দালাল’ আখ্যা দিয়ে তাদের পদত্যাগ ও নতুন সিন্ডিকেট গঠনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকালে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে আন্দোলন করেন তারা। এরপর উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি জমা দেয় তাদের প্রতিনিধি দল।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘ফ্যাসিবাদের/আওয়ামী লীগের সিন্ডিকেট, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’ স্লোগান দেন।
আন্দোলনরত বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী তারেক মাসুদ ইরফান বলেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে হলে পুরো সিস্টেমের সংস্কার চাই। শ্রীলঙ্কায় শিক্ষার্থীরা যে বিপ্লব করেছিল, সেটা স্থায়ী হয়নি কারণ তারা ব্যক্তিকে পরিবর্তন করতে পারলেও সিস্টেমের পরিবর্তন করতে পারেনি।
তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের সময় শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে দিয়ে আন্দোলনকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। যদি সে সময় আমাদের হলে অবস্থান করতে দেওয়া হতো, তাহলে যে পরিমাণে মানুষ শহীদ হয়েছে, আহত হয়েছে, সে পরিমাণে হতো না। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে গিয়ে যে সিন্ডিকেট ফ্যাসিবাদের পক্ষ নিয়েছে, সেই সিন্ডিকেট আমরা মানি না। এই সিন্ডিকেট অনতিবিলম্বে ভেঙে দিয়ে নতুন সিন্ডিকেট ঘোষণা করতে হবে। অন্যথায় আমরা কঠোর কর্মসূচিতে যাবো এবং আন্দোলন চলমান থাকবে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম হচ্ছে সিন্ডিকেট। কিন্তু গত ১৫ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট ফোরামে ফ্যাসিবাদের দালালদের বসানো হয়েছে। ১৫ জুলাই যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টোকাই দিয়ে হামলা করা হয়েছিল, আমাদের বোনদের রক্তাক্ত করা হয়েছিল, তখন এই সিন্ডিকেট কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।
তিনি আরও বলেন, এই সিন্ডিকেটের কথা ছিল শিক্ষার্থীদের রক্ষা করা। যখন আন্দোলন বিস্তৃতি লাভ করছিল, তখন এই সিন্ডিকেট শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সব দিক থেকেই এই সিন্ডিকেট ব্যর্থ হয়েছে। ফলে এই সিন্ডিকেট স্বাধীন দেশে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।









