প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচিত সাবেক জেলা জজ মাসদার হোসেনের সাক্ষাৎ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১৯:৩২আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১৯:৩২

বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক করতে মুখ্য ভূমিকা পালন করা সাবেক জেলা জজ মাসদার হোসেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করে সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম।

শফিকুল ইসলাম বলেন, সাক্ষাৎকালে মাসদার হোসেন দেশের অধস্তন আদালতের বিচারকদের পক্ষে ‘মাসদার হোসেন মামলা’ পরিচালনায় প্রধান বিচারপতির বাবা ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদের অবদান সম্পর্কে স্মৃতি চারণ করেন।

তিনি (মাসদার হোসেন) উল্লেখ করেন যে, সম্পূর্ণ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বিনা পারিশ্রমিকে মামলাটি পরিচালনা করে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণে ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ যে অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন, সেই অবদানকে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যরা আজও কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। বিশেষ করে, মাসদার হোসেন মামলার রায়ের মাধ্যমে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের ব্লু-প্রিন্ট প্রস্তুত থাকার পরেও তৎকালীন রাজনৈতিক সরকারের সদিচ্ছার অভাবে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ কার্যকর না হওয়ার প্রেক্ষাপটে মাসদার হোসেন চট্টগ্রামে ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদের এক সফরের স্মৃতি উল্লেখ করেন।

মাসদার হোসেন বলেন, ‘ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ চট্টগ্রামে তার কাছে ব্যক্ত করেছিলেন যে, বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের রায় বাস্তবায়ন তিনি তার জীবদ্দশায় দেখে যেতে চান।’

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের বিচার বিভাগের সার্বিক মানোন্নয়নে প্রধান বিচারপতি কর্তৃক ঘোষিত রোডম্যাপে বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা ও স্বতন্ত্রীকরণের রূপরেখা তুলে ধরেন। তাই মাসদার হোসেন প্রধান বিচারপতিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বর্তমান প্রধান বিচারপতির হাত ধরেই বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ চূড়ান্তরূপে বাস্তবায়ন হবে।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ প্রদত্ত রায়ের মাধ্যমে দেশের অধস্তন আদালতের বিচারকদের সিভিল সার্ভিসের সদস্য হিসেবে গণ্য না করে একটি পৃথক সার্ভিস হিসেবে বিবেচনা করায়— এ দেশে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের দ্বার উন্মোচিত হয়। মাসদার হোসেন মামলার রায় ১৯৯৯ সালে ২ ডিসেম্বর ঘোষিত হলেও পরবর্তী রাজনৈতিক সরকারগুলো ওই রায় বাস্তবায়ন করেনি।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের লক্ষ্যে ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন এবং জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন বিধিমালা, ২০০৭ প্রণয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশে পৃথক জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন করে। বর্তমান প্রধান বিচারপতি গত ২১ সেপ্টেম্বর দেশের অধস্তন আদালতের বিচারকদের প্রতি অভিভাষণ প্রদানকালে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠাসহ বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের পরিপূর্ণ রূপরেখা তুলে ধরেন।

/বিআই/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
আ.লীগ নেতা অ্যাড. হুমায়ুনের মৃত‍্যুতে প্রধান বিচারপতির শোক
শর্তসাপেক্ষে ড. আবুল বারকাতের জামিন আপিলে বহাল 
সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন
সর্বশেষ খবর
আর্জেন্টিনার সমর্থকদের জন্য সুখবর
আর্জেন্টিনার সমর্থকদের জন্য সুখবর
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম