আশুলিয়ায় শ্রমিক হত্যা গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার বিরোধী দাবি করে এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং শ্রমিক হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিচার দাবি করেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। এছাড়াও শ্রমিকদের আন্দোলন দমনে সরকারের ভূমিকা শ্রমিক বিরোধী বলেও দাবি তাদের।
বুধবার (২ অক্টোবর) গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির পক্ষে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়। পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অতি দ্রুত বন্ধ কারখানা খুলে দিয়ে শ্রমিকদের বকেয়া, সার্ভিস বেনিফিট পরিশোধসহ সকল দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার টঙ্গাবাড়ী এলাকায় যৌথবাহিনীর সদস্যদের বুলেটের আঘাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে কাউসার খান নামে একজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং আরও চার জন শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। কাউসার খান ম্যাঙ্গোটেক্স লিমিটেডের অপারেটর ছিলেন। শ্রমিক হত্যার এই ঘটনায় গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়, আমরা দেখেছি, ২০২৩ সালে গার্মেন্টস শ্রমিকরা ২৫,০০০ টাকা ন্যূনতম মজুরি দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলেন এবং এর ফলে তাদের উপর নেমে এসেছিল আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদের খড়গ। সেই সময় চারজন শ্রমিক হত্যা করে আওয়ামী সরকার এবং মামলা, ছাটাই, নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে জোর করে ১২,৫০০ টাকা মজুরিতে কারখানায় পাঠায় শ্রমিকদেরকে। এরপর জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গার্মেন্টস শ্রমিকরা রাজপথে ছাত্র-জনতার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। আশুলিয়ায় প্রায় ৪৬ জন গার্মেন্টস শ্রমিক এই আন্দোলনে শহীদ হন। তাদের অধিকাংশই পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন। তাই পরিবারগুলোর জীবনও হুমকির মুখে পড়ে।
শ্রমিক আন্দোলনকে প্রতিবিপ্লবী ট্যাগ দিয়ে নস্যাৎ করা হয়েছে বলে দাবি করে বিবৃতিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরে গার্মেন্টস শ্রমিকরা বন্ধ কলকারখানা খুলে দেওয়া, বকেয়া ও মজুরির দাবি আদায়ে আন্দোলন শুরু করায় সরকার এই আন্দোলনকে ‘বহিরাগতের উসকানি’, ‘প্রতিবিপ্লবী’ ট্যাগ লাগিয়ে নস্যাৎ করতে চেয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কয়েক দিন পরপর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী একাধিক কারখানা অনির্দিষ্টকালীনভাবে বন্ধ করে দেওয়া, শ্রমিকের বকেয়া এবং সার্ভিস বেনেফিটের টাকা আটকে রাখা, শ্রমিক ছাঁটাই এবং লে অফের ঘটনা ঘটেই চলেছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বার্ডস গ্রুপের শ্রমিকদের নির্ধারিত পাওনাদি পরিশোধের কথা ছিল। এই তারিখ পিছিয়ে আরও তিন মাস সময় চায় কর্তৃপক্ষ। শ্রমিক প্রতারণার এই দুরভিসন্ধি বাস্তবায়নের জন্য কতিপয় দালাল শ্রমিক নেতার সঙ্গে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে দফারফা করে এবং শ্রমিকের আন্দোলনকে দ্বিধাবিভক্ত করার অপচেষ্টা চালায়। এর ফলে শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করে।
এতে আরও বলা হয়, অন্যদিকে একই দিনে সার্ভিস বেনিফিট ও ক্ষতিপূরণসহ বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে প্রায় ৫ ঘণ্টা আশুলিয়ায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ডংলিয়ন গ্রুপের শ্রমিকরা। পাশাপাশি মণ্ডল গ্রুপের শ্রমিকদের প্রতিনিধির সঙ্গে মালিকপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ত্রিপক্ষীয় বৈঠক চলাকালীন সময় শ্রমিকরা রাজপথে অবস্থা নেন। এ সময় দায়িত্বরত পুলিশসহ যৌথ বাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা লাঠিচার্জ শুরু করেন। শ্রমিকদের বিক্ষোভে যৌথবাহিনী বুলেট ছুঁড়ে একজন শ্রমিককে হত্যা করে।
শ্রমিকদের ওপর গুলি চালানো বন্ধে সরকারকে শক্ত অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা এই শ্রমিক হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং শ্রমিক হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিচারের দাবি করি। পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অতি দ্রুত বন্ধ কারখানা খুলে দিয়ে শ্রমিকদের বকেয়া, সার্ভিস বেনেফিট পরিশোধসহ সব দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়ার সুস্পষ্ট আহ্বান জানাই। শ্রমিকদের উপর আর যেন একটি গুলিও না চলে সেই বিষয়ে সরকারকে অবশ্যই শক্ত অবস্থান নিতে হবে।









