সেমিনারে বক্তারা

‘সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প নেই’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৩ নভেম্বর ২০২৪, ২০:১৯আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২৪, ২০:১৯

‘বাংলাদেশে দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। বিগত তিনটি নির্বাচন তার জ্বলন্ত প্রমাণ। কাজেই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যে নামেই ডাকা হোক না কেন, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা অন্তর্বর্তী সরকারের বিকল্প নেই। তাই নির্বাচনি সংস্কারের প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

শনিবার (২৩ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জাতীয় রাষ্ট্রচিন্তা পরিষদ’ এর উদ্যোগে আয়োজিত 'বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন: কার্যকর ও টেকসই সংস্কার’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম।

সেমিনারে অন্য বক্তারাও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও গণতান্ত্রিক চর্চা থাকাসহ আরও বিভিন্ন বিষয়ে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা বলে, দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম, একাদশ ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন তার জ্বলন্ত প্রমাণ।’ 

নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করার পরেও সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন নজরুল ইসলাম। কারণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পুরো নির্বাচনটি পরিচালনা করে সরকারের নির্বাহী বিভাগের লোকেরা, আমলাতান্ত্রিক প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং সরকারি-বেসরকারি কর্মচারীরা। নির্বাচন কমিশন সেখানে কেবল লজিস্টিক সাপোর্টস এবং গাইডিং প্রিন্সিপালস সরবরাহ করে মাত্র। তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি প্রশাসনের সদস্যরাই এ–সংক্রান্ত নির্বাহী কার্যক্রম সম্পন্ন করে।’

অধ্যাপক নজরুল ইসলাম আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনি প্রক্রিয়ার ত্রুটিগুলো দূর করতে এবং বাংলাদেশে নির্বাচনকে সত্যিকার অর্থে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে হলে সংস্কারের বেশ কিছু ক্ষেত্র বিবেচনা করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, আইনি সংস্কার এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য পদ্ধতিগত পরিবর্তন।

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য অধ্যাপক দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে যখন একটার পর একটা নির্বাচন হলো ১৯৯১ সালে, ১৯৯৬ সালে এবং ২০০১ সালে—তার প্রতিটি নির্বাচনে দেখা গেছে, একদম সুষ্ঠুভাবে ভোট হয়েছে এবং সুন্দর একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশে বাংলাদেশে বিরাজমান ছিল। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে স্বৈরাচার স্থাপন করল। তারপর ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনের প্রতিটিতে দেখা গেল, এমনকি আমি নিজে ভোট দিতে গিয়ে দেখি আমার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে।

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় রাষ্ট্রচিন্তা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম বলেন, আজকের সেমিনারের বক্তব্যগুলো সমন্বিত করে প্রথমে নির্বাচনি ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের কাছে দেবেন। পরে তা নির্বাচন কমিশনের কাছেও দেবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক কাজী মাহবুবুর রহমানের সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন সাবেক সচিব শেখ মোতাহার হোসেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তারেক ফজল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের চেয়ারম্যান মেজবাহ উল-আজম সওদাগর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স ম আলী রেজা, আয়োজক সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ জিয়া হাসান এবং জ্যেষ্ঠ নাগরিক শাহ আবদুল হালিম প্রমুখ।

/এএইচএস/ইউএস/
সম্পর্কিত
ঢাকা স্টেট কলেজে মনোবৈজ্ঞানিক সেমিনার
সেমিনারে বক্তারামূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ স্থবিরতা ও জ্বালানি সংকটে চাপে অর্থনীতি, উদ্বেগ
দেশের ১০ হাজারেরও বেশি স্কুলে নেই খেলার মাঠ
সর্বশেষ খবর
কথা বলার সময় স্মার্টফোন দ্রুত গরম হয়ে যায়? কারণ ও প্রতীকারের উপায়
কথা বলার সময় স্মার্টফোন দ্রুত গরম হয়ে যায়? কারণ ও প্রতীকারের উপায়
ট্রাম্পকে বড় ধাক্কা: মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাস
ট্রাম্পকে বড় ধাক্কা: মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাস
কিছু টিপস মেনে চললেই গরমে ত্বক সুন্দর রাখা যায়
কিছু টিপস মেনে চললেই গরমে ত্বক সুন্দর রাখা যায়
সত্যি কি বাংলাদেশের শ্রমিকদের জোরপূর্বক কাজ করানো হয়
সত্যি কি বাংলাদেশের শ্রমিকদের জোরপূর্বক কাজ করানো হয়
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের