বেআইনিভাবে চাঁদা তোলার অভিযোগে রাজধানীর গুলশানের জব্বার টাওয়ারে বাংলাদেশ অ্যাসিয়েশন অব ব্যাংকার্স (বিএবি) কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এছাড়া অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে রাজধানীর আগারগাঁও আইসিটি টাওয়ার ভবন, সাতক্ষীরায় সার বিক্রির দোকান এবং রাজশাহী বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের উপ-পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম।
তিনি জানান, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্সের (বিএবি) চেয়ারম্যান ও নির্বাহীদের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বেআইনিভাবে চাঁদা উত্তোলন করার অভিযোগ পায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে অ্যাসিয়েশনের গুলশান কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে বিভিন্ন রেকর্ডপত্র ও বিএবি'র ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা যায় যে, বিএবি'র আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশনে বিধান না থাকা সত্ত্বেও অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার ও অন্যান্য সদস্য ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে শত শত কোটি টাকা চাঁদা তুলেছেন। যা বিএবির আয়-ব্যয় হিসাবে যথাযথভাবে প্রতিফলন হয়নি। দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযোগ সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করেছে। রেকর্ডপত্র বিশ্লেষণ করে কমিশন বরাবর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
অপরদিকে, রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ার ভবনে প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখান থেকে পাওয়া রেকর্ডপত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পর্যালোচনা করা দেখা যায়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘ডিজিটাল সরকার ও অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ (ইডিজিই)’ প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা ধরা হলেও সংশোধন করে ব্যয় ২ হাজার ৮০৭ কোটি টাকা ধরা হয়। প্রকল্পটির মেয়াদ ছিল ৫ বছর। অর্থাৎ ২০২২ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত হলেও ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসেও ওই প্রকল্পের মাত্র ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ইউনিফায়েড কমিউনিকেশন কম্পোনেন্ট এবং ন্যাশনাল জব পোর্টালসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ও জনকল্যাণমূলক ইভেন্ট ও অঙ্গ এখনও চালু করা হয়নি। সার্বিক পর্যালোচনায় প্রকল্পটির বিভিন্ন ইভেন্ট বা কার্যক্রম বাস্তবায়ন ধীরগতির ছিল মর্মে দুদকের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। প্রকল্প সংক্রান্ত সকল তথ্য পর্যালোচনা করে কমিশন বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
অপরদিকে, সাতক্ষীরায় সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যের অধিকমূল্যে কৃষকদের নিকট সার বিক্রি করার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে সরেজমিনে স্থানীয় তালা ও পাটকেলঘাটা বাজার পরিদর্শনে কৃষকদের নিকট সরকারের নির্ধারিত মূল্যের অধিকমূল্যে সার বিক্রয়ের প্রথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। অধিকন্তু বিএডিসি’র লাইসেন্সধারী দোকানে ইউরিয়া সার বিক্রয়ের অনুমোদন না থাকলেও অবৈধভাবে বিক্রয় করার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়।
এছাড়া বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) ‘ভূগর্ভস্থ সেচ নালা বর্ধিতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে ১৯কোটি টাকার কাজ বিধিবহির্ভূতভাবে বিক্রয় করার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। সরজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, ওই প্রকল্পে ৯৫টি লটে মোট প্রাক্কলিত মূল্য ২২ লাখ ২০ হাজার ১১ টাকা। কাজটি ইজিপিতে ওপেন টেন্ডারিং মেথডে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্প সংক্রান্ত যাবতীয় রেকর্ডপত্র বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।









