তাবলিগ জামাতের চলমান সংকটের স্থায়ী সমাধান দাবি 

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট 
১৫ জানুয়ারি ২০২৫, ১৭:২৬আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৫, ১৮:৪১

কয়েক বছর ধরে তাবলিগ জামাত নিয়ে দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত এই আয়োজনটি বিতর্কের মুখে পড়েছে। অব্যাহত রয়েছে এটি নিয়ে নানামুখী চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র। এতে তাবলিগ জামাত পরিচালনাকারী গ্রুপ দুটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। 

তাবলিগ জামাত মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের প্রতীক এবং সারা বিশ্বে ইসলামের দাওয়াহ কার্যক্রমের অন্যতম মাধ্যম। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের অভ্যন্তরীণ বিভেদ সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে, প্রাণহানির মতো দুঃখজনক ঘটনাও ঘটেছে। এমতাবস্থায় তাবলিগের সাদ ও জোবায়েরপন্থিদের চলমান বিবাদের স্থায়ী সমাধান এবং বৈষম্য নিরসনের দাবি জানিয়েছে ‘সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সচেতন ছাত্র সমাজ’ নামের একটি সংগঠন। 

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী জহুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমরা লক্ষ করছি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাবলিগ জামাতের অভ্যন্তরীণ বিভেদ সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে, যার ফলশ্রুতিতে প্রাণহানির মতো দুঃখজনক ঘটনাও ঘটেছে। এই পরিস্থিতি শুধু তাবলিগ জামাতেরই ক্ষতি করছে না, বৃহত্তর মুসলিম সমাজের ঐক্য ও সৌহার্দকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি, তাবলিগ জামাতের বিবদমান পক্ষদ্বয়ের মধ্যে একটি পক্ষ চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।”

তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে শুরাই নেজাম প্রথম পর্বের ইজতেমা আয়োজন করে আসছেন। বিশ্ব মারকাজ নিজামুদ্দিনের অনুসারীরা বারবার দ্বিতীয় পর্বে স্থান পেয়েছেন। কিন্তু বিশ্ব মারকাজ নিজামুদ্দিনের মূলধারা তাবলিগের কর্মীরা বিভিন্ন মসজিদে আমল করতে গেলে প্রায়ই বাধার সম্মুখীন হন।

মসজিদে অবস্থান, দাওয়াহ কার্যক্রম ও আমল পরিচালনায় শুরাই নেজামের পক্ষ থেকে বাধা দেয়া হয়। এ ধরনের আচরণ তাবলিগের মূল দর্শন পরিপন্থি। শুরাই নেজাম টঙ্গীর ময়দানে পাঁচ দিনের জোড় সফলভাবে আয়োজন করেছে। কিন্তু বিশ্ব মারকাজ নিজামুদ্দিনের মূলধারা তাবলিগের কর্মীরা এই সুযোগ থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হয়েছেন।

এসময় এসব সংকট সমাধানে তিনটি প্রস্তাবনা ‍উপস্থাপন করা হয়। প্রস্তাবনাগুলো হলো: 

১. সাদ ও জোবায়েরপন্থিরা যেন সর্বোচ্চ মুরুব্বিদের নিয়ে নিজ কার্যক্রম (জোড়, ইজতেমা ও অন্যান্য আমল) পরিচালনা করতে পারেন তা নিশ্চিত করা। 

২. উভয়পক্ষের জন্যই কাকরাইল মসজিদ, টঙ্গীর ময়দান এবং দেশের প্রতিটি মসজিদে আমলের সমতা নিশ্চিত করা।

৩. সম্প্রীতি ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উসকানিমূলক বক্তব্য এবং কার্যক্রম থেকে বিরত থাকা। ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।  

সংবাদ সম্মেলন আরও বলা হয়, ২০ জানুয়ারির মধ্যে কোনও পদক্ষেপ গৃহীত না হলে ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর স্থগিতকৃত ‘প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি’ সচেতন ছাত্র সমাজ ও নাগরিকদের নিয়ে জোরালোভাবে পালন করা হবে। 

এসময় বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

/এএজে/এমওএফ/
সম্পর্কিত
ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষের ওপর হামলা, প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ শিক্ষকরা
আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো এবারের বিশ্ব ইজতেমা
ইজতেমায় হামলার হুমকির অভিযোগে যুবক আটক, যৌতুকবিহীন ৯ বিয়ে
সর্বশেষ খবর
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক