হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং-সেবা দিতে বাংলাদেশ বিমানের গ্রাউন্ড সাপোর্ট ইকুইপমেন্ট (জিএসই) বহরে যোগ হচ্ছে অত্যাধুনিক ইকুইপমেন্ট।
বিগত কয়েক বছর ধরেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে গত দুই বছরে ৪৮টি মোটরাইজড ইকুইপমেন্ট এবং ৩৫০টি নন-মোটরাইজড ইকুইপমেন্টসহ অত্যাধুনিক নানা ইকুইপমেন্ট কেনা হয়েছে। যোগ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে আরও কিছু ইকুইপমেন্ট।
চলতি বছরের শেষের দিকে থার্ড টার্মিনালটি চালু করার কথা জানিয়েছেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভুঁইয়া।
বিমানকে থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের জন্য মনোনীত করার পর থেকে যন্ত্রাপাতি কেনার এই প্রক্রিয়া আরও জোরদার করেছে বাংলাদেশ বিমান।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘থার্ড টার্মিনাল যেহেতু চালুর বিষয়টি সন্নিকটে চলে এসেছে, এ কারণে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং-সেবা নিশ্চিত করার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছে।’
বোসরা ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এই সেবাকে ঘিরে নানা প্রশ্নও অনেকেই তুলেছিলেন। আমরা আমাদের সেবা দিয়ে এটা নিশ্চিত করতে চাই যে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এ ক্ষেত্রে যে ধরনের সেবা দেওয়া হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং বিষয়ে সেই সেবাই নিশ্চিত করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বর্তমানে যে ধরনের প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির মাধ্যমে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং -সেবা দেওয়া হয়, আমরাও একই ধরনের যন্ত্রপাতি কিনেছি। সেগুলো পরিচালনার জন্য আমরা কাজও করছি। ইতোমধ্যে কমিশনিংও সম্পন্ন হয়েছে। কিছু যন্ত্রপাতি যোগ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। সবমিলিয়ে আমরা থার্ড টার্মিনালের সেবা দিতে এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।’
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্র জানায়, থার্ড টার্মিনাল গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং-সেবার জন্য মোট ৮৮টি মোটরাইজড ও ৬৫০টি নন-মোটরাইজড ইকুইপমেন্ট কেনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া গত এক সপ্তাহে ৭টি এয়ার কন্ডিশনিং ইউনিট, ২টি এয়ার স্টার্ট ইউনিট এবং ৯টি বেল্ট লোডার হযরত বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেছে।
সূত্র আরও জানায়, এয়ারক্রাফট এয়ার কন্ডিশনিং ইউনিটগুলেঅ কমিশনিং ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এয়ার স্টার্ট ইউনিট ও বেল্ট লোডারের কমিশনিং শিগগিরই সম্পন্ন হবে। কমিশনিং সম্পন্ন হলে ইকুইপমেন্টগুলো জিএসই বহরে যুক্ত করে অপারেশনাল কাজে ব্যবহার করা হবে। এই ইকুইপমেন্টগুলো জিএসই বহরে সংযোজনের ফলে ব্যাগেজ ডেলিভারি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং স্বল্প সময়ে যাত্রীদের কাছে ব্যাগেজ পৌঁছানোর পাশাপাশি যথাসময়ে ফ্লাইটের বহির্গমন সম্ভব হবে। এছাড়া এয়ারক্রাফট এয়ার কন্ডিশনিং ইউনিটের মাধ্যমে গ্রাউন্ডে থাকা অবস্থায় এয়ারক্রাফটের ভেতরে আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া এয়ার স্টার্ট ইউনিটের মাধ্যমে যথাসময়ে ফ্লাইটের বহির্গমন নিশ্চিত করা যাবে।
মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আরও ৪টি অ্যাম্বুলিফট, ২টি কন্টেইনার প্যালেট লোডার, ১২টি কন্টেইনার প্যালেট ট্রান্সপোর্টার, ৪টি পুশব্যাক টো-ট্রাক্টর, ৬টি প্যাসেঞ্জার স্টেপ, ২৫০টি ব্যাগেজ কার্ট এবং ৪০০টি ইউএলডি শিগগিরই জিএসই বহরে সংযুক্ত হবে। এই ইকুইপমেন্টগুলো জিএসই বহরে যুক্ত হলে অসুস্থ যাত্রী পরিবহন, দ্রুত ব্যাগেজ পরিবহন ও ডেলিভারি এবং যাত্রী ওঠা-নামায় সক্ষমতা বাড়বে।









