বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চু ও তার স্ত্রী সন্তানদের নামে পৃথক চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকালে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন। তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন ছাড়াও ২৫০ কোটি টাকারও বেশি অর্থের মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে।
আক্তার হোসেন জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত্ব বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চু স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ৬৮ কোটি ৭৬ লাখ ৪৬ হাজার ১৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়াও ৫৬ কোটি ৫৭ লাখ ১০ হাজার ২০৬ টাকা কানাডায় পাচারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কানাডায় পাচার ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জনসহ সর্বমোট ১২৪ কোটি ৯৩ লাখ ৬ হাজার ২৭৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ কানাডায় পাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, দুদক ও মানিলন্ডারিং আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এছাড়াও শেখ আব্দুল হাই বাচ্চু বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ৫৮টি ভূয়া প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণামূলকভাবে ঋণ দিয়ে ওই অর্থ অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন। এসব অভিযোগে ৫৮টি মামলার তদন্ত শেষে তাকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
দুদকের কর্মকর্তা আরও জানান, শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুর স্ত্রী শিরিন আকতার স্বামীর সহায়তায় ৩৬ কোটি ৫১ লাখ ৩৪ হাজার ৩০৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন। এ অভিযোগে শিরিন আক্তার ও তার স্বামী শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুর ছেলে শেখ ছাবিদ হাই অনিক পিতার সহায়তায় বাংলাদেশে ৪৩ কোটি ৬২ লাখ ৬০৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন। তিনি তার পিতার কাছ থেকে ২৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের ২ কাঠা জমি হেবা দলিল মূলে প্রাপ্ত হয়েও দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে গোপন করেছেন। এছাড়া অবৈধভাবে উপার্জিত ৮৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৭ টাকা কানাডায় পাচার ও সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপনের অভিযোগে শেখ ছাবিদ হাই অনিক ও শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুর আরেক সন্তান শেখ রাফা হাই পিতার সহায়তায় বাংলাদেশে ৪০ কোটি ৪১ লাখ ৪৫ হাজার ১৬৪ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন। পিতার কাছ থেকে ৮৬ লাখ ২৫ টাকা মূল্যের ৬ কাঠা জমি হেবা দলিল মূলে পেয়েও দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে গোপন করেছেন। অবৈধভাবে উপার্জিত ৭৪ লাখ ৮১ হাজার ৪৬২ টাকা কানাডায় পাচার ও সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপন করেছেন। এসব অভিযোগে শেখ রাফা হাই এবং শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুর নামে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়।









