চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯ জন নারী শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি ও চবি প্রক্টরের নারীবিদ্বেষী মন্তব্যের প্রতিবাদে মশাল মিছিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কয়েকটি বাম ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়। মিছিলটি টিএসসি থেকে শুরু হয়ে ভিসি চত্বর ঘুরে টিএসসির মিলন চত্বরে এসে শেষ হয়।
মিছিল পরবর্তী সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা বিভাগের শিক্ষার্থী সামি আব্দুল্লাহ্ এবং সভাপতিত্ব করেন ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী ঢাবি সংসদের সভাপতি নূজিয়া হাসিন রাশা। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী অনির্বাণ মৈত্র, দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সদস্য মতিয়ার রহমান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, "চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সুমাইয়া শিকদারসহ ৯ জন নিরপরাধ নারী শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ ষড়যন্ত্রমূলক। জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় থাকা নারী শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। ৪ জানুয়ারি দিবাগত রাতে শেখ হাসিনা হলে শিক্ষার্থীদের ওপর যে মব আক্রমণ চালানো হয়, তা প্রশাসনের উপস্থিতিতেই ঘটে। এর আগে হলটির নাম পরিবর্তনের জন্য নারী শিক্ষার্থীরা একাধিকবার আবেদন করলেও প্রশাসন তা আমলে নেয়নি। বরং, তারা নারীদের অনিরাপদ পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়। মব সন্ত্রাসী, সাংবাদিক ও প্রক্টোরিয়াল বডিকে জবাবদিহির আওতায় আনা হয়নি। সকল পক্ষের কথা না শুনে, নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়াই সুমাইয়াসহ ৯ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।"
নূজিয়া হাসিন রাশা বলেন, "১০ আগস্টের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে সংগঠিত মব-সন্ত্রাস এক নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে, যার পৃষ্ঠপোষকতা স্বয়ং রাষ্ট্র ও ইন্টেরিম সরকার করছে। ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পরও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ফ্যাসিবাদী কাঠামো ভাঙতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে, নব্য ফ্যাসিস্টদের আগ্রাসন আমরা এখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রত্যক্ষ করছি। ইনক্লুসিভ বাংলাদেশের কথা বলা হলেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীবিদ্বেষী ব্যক্তিদের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে– এই ইনক্লুসিভনেস শুধুই ফাঁকা বুলি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠিত হামলা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি ফ্যাসিবাদী দমননীতিরই অংশ।"
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ফ্যাসিবাদী আচরণের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, "আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অন্যায়ভাবে ট্যাগিং করে দমিয়ে রাখার চেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। আমরা অবিলম্বে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানাই। পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি জানাই।"









