এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রকল্পের ৮৫৫ কোটি টাকা দুর্নীতির খবরটি সঠিক নয় বলে জানিয়েছে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং এটুআই কর্তৃপক্ষ। বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যেমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সংক্রান্ত সংবাদের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।
এটুআই প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আইসিটি ডিভিশনের অতিরিক্ত সচিব মো. মামুনুর রশিদ ভূঁইয়া সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন গণমাধ্যমে ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি ‘এটুআই প্রকল্পের ৮৫৫ কোটি টাকা দুর্নীতি: দুদকের অভিযান’ উল্লেখিত সংবাদ প্রচারিত ও প্রকাশিত হয়। এটা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং এটুআই প্রোগ্রামের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
উল্লেখিত সংবাদে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বরাত দিয়ে এটুআই প্রকল্পের ৮৫৫ কোটি টাকার অনিয়মে কিংবা দুর্নীতির যে বিষয়টি উঠে এসেছে, তা সঠিক নয়। সংবাদে প্রচারিত ও প্রকাশিত দুদক কর্মকর্তার বক্তব্যের কোথাও তিনি এটুআই প্রকল্পের ৮৫৫ কোটি টাকার দুর্নীতি, আত্মসাৎ, লুটপাট বা অনিয়মের বিষয়টি উল্লেখ করেননি। বরং দুদক কর্মকর্তা এটুআই প্রকল্পে প্রকিউরমেন্ট, নিয়োগ, বিল ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং নানা বিষয়ের অভিযোগের বিষয় উল্লেখ করেন। দুদক কর্মকর্তা তার বক্তব্যে জানান, তাদের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করছেন, এ ধরনের অনিয়ম থাকতে পারে, তবে রেকর্ডপত্র আরও যাচাই-বাছাই করতে হবে।
এটুআই প্রোগ্রামের চলমান প্রকল্পটি ২০২০ সালের জানুয়ারিতে অনুমোদন হয়, যার মেয়াদকাল ছিল ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। বাজেট ছিল ৪৮৫ দশমিক ৪৪ কোটি (সরকারি খাত: ৪০৩ দশমিক ৬৪ কোটি এবং উন্নয়ন সহযোগী অনুদান: ৮১ দশমিক ৭৯ কোটি)। পরবর্তী সমেয় এর প্রকল্পটি সংশোধিত হয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই বছর মেয়াদ বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজেটও বৃদ্ধি হয়। এর মোট বাজেট অনুমোদিত হয় ৮৫৫ দশমিক ৪৭ কোটি টাকা (সরকারি খাত: ৫৫৩ দশমিক ৬৪ কোটি এবং উন্নয়ন সহযোগী অনুদান: ৩০১ দশমিক ৮৩ কোটি)।
২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর সময়ে পাঁচ বছরে সর্বমোট খরচ হয়েছে ৫৬৮ দশমকি ৫৪ কোটি টাকা (সরকারি খাত: ৪০২ দশমিক ৪৯ কোটি এবং উন্নয়ন সহযোগী অনুদান: ১৬৬ দশমিক ৫ কোটি)। এর আওতাধীন সব ক্রয় কার্যক্রম (প্রকিউরমেন্ট) বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ও বিধি (পিপিএ, ২০০৬ ও পিপিআর, ২০০৮) অনুসরণ করে যথাযথভাবে সম্পাদন করা হয়। সরকারি অর্থায়নের খরচের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সরকারি অডিট টিম দ্বারা যথারীতি প্রতি বছর অডিট সম্পন্ন করা হয়। পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী অনুদান অংশের খরচের অডিট বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প অডিট অধিদফতর থেকে এবং ইউএনডিপি থেকে নিযুক্ত সিএ ফার্ম দ্বারা পুনরায় অডিট সম্পন্ন করা হয়।
প্রকল্পের এই মেয়াদে ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নে তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক নাগরিক সেবা উদ্ভাবনে এটুআই নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। উল্লেখযোগ্য উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে: সরকারের ৩৪ হাজারের বেশি দফতরের (মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অন্যান্য দফতর) সমন্বিত ওয়েব প্ল্যাটফর্ম জাতীয় তথ্য বাতায়ন, ১৫ হাজারের বেশি সরকারি দফতরে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে দক্ষ ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার প্ল্যাটফর্ম ‘ই-নথি/ডি-নথি’, সরকারি সেবার সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম ‘মাইগভ’, জাতীয় হেল্পলাইন ৩৩৩, প্রান্তিক জনগণের হাতের মুঠোয় সেবা পৌঁছে দিতে ডিজিটাল সেন্টার, বিচারিক কার্যক্রমে বিচার বিভাগীয় বাতায়ন, অনলাইন কজলিস্ট (ই-কার্যতালিকা), জুডিসিয়াল মনিটরিং ড্যাশবোর্ড ও আমার আদালত (মাইকোর্ট), অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (জিআরএস), রিপোর্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, শিক্ষকদের জন্য ‘শিক্ষক বাতায়ন’, অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ‘মুক্তপাঠ’সহ ৩০টিরও বেশি বিভিন্ন উদ্যোগ।
একইসঙ্গে প্ল্যাটফর্মগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি ব্যবস্থাপনা, প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের সক্ষমতা উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কিত নীতি প্রণয়ন, সরকারি দফতরে উদ্ভাবনী সংস্কৃতির প্রচলনসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এই পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পটির মোট বাজেটের পুরো অংশ ৮৫৫ কোটি টাকা অনিয়ম কিংবা দুর্নীতি হওয়ার কোনও সুযোগ নেই। পাশাপাশি গণমাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত সংবাদটি সঠিক নয়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং এটুআই কর্তৃপক্ষ থেকে এর প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং পেশাগত দিক বিবেচনায় সঠিক তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের আরও সচেতনতার অনুরোধ জানানো হয়।








