স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পালাবদলের মুহূর্ত ২০২৪ সালের জুলাই। গত বছরের জুলাই-আগস্ট মাসের দিনগুলো ফিরে দেখতে বাংলা ট্রিবিউনের এই প্রয়াস।
আজ ১৯ জুলাই। এদিন সারা দেশে কারফিউ জারি করে সরকার। একইসঙ্গে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েনেরও সিদ্ধান্ত হয়। ১৮ জুলাই দিবাগত রাত ১২টা থেকেই কার্যকর হয় এসব সিদ্ধান্ত।
টানা পাঁচ দিন সারা দেশে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার দ্বিতীয় দিন ছিল ১৯ জুলাই। প্রথম আলো সূত্রে জানা যায়, এদিন সংঘর্ষে নিহত হন ৫৬ জন। তিন দিনে নিহত হয় ১০৩ জন।
চলমান কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। তারা ৯ দফা দাবি জানিয়ে বলেন, দাবিগুলো মানার পর শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে গিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরামর্শ করে সংলাপে বসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।
প্রধানমন্ত্রীর ‘প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া’, দুই মন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবি জানিয়ে শাটডাউন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় তিন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন আন্দোলনকারীদের তিন নেতা। সেখানে আট দফা দাবি তুলে ধরেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সহসমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম। বৈঠকে সরকারের তরফে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এবং তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত উপস্থিত ছিলেন।
এ দিন নরসিংদীর জেলা কারাগারের গেট ভেঙে ৮২৬ জন কয়েদি পালিয়ে যায়। লুট করা হয় অস্ত্র। পালিয়ে যাওয়া কয়েদিদের মধ্যে আনসরুল্লাহ বাংলা টিমের সাত সদস্য ও জেএমবি’র দুই নারী সদস্যও ছিল। এ সময় ৮৫টি অস্ত্র ও ১ হাজার ৫০টি গুলি ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।









