খাগড়াছড়িতে ত্রিপুরা কিশোরীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে ঢাবিতে বিক্ষোভ

ঢাবি প্রতিনিধি
১৮ জুলাই ২০২৫, ২০:৩৬আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৫, ২১:৫০

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভাইবোনছড়া এলাকায় এক ত্রিপুরা কিশোরীর ধর্ষণের বিচার ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর সেনাবাহিনীর লাঠিচার্জ এবং কেএনএফ সন্দেহে আটক অবস্থায় কারাগারে ভান লাল রোয়াল বমের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ জুলাই) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের সামনে বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, হিল উইমেন্স ফেডারেশন, বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্টস কাউন্সিল, ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরাম বাংলাদেশ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জুম্ম শিক্ষার্থী পরিবারের আয়োজনে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। 

প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্যের পাদদেশে  গিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দীপায়ন খীসা, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সদস্য ফাল্গুনী ত্রিপুরা, বাংলাদেশ আদিবাসী পরিষদের প্রচার সম্পাদক বিভূতিভূষণ মাহাতো, বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্টস কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অংশৈসিং মারমা, বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অর্থ সম্পাদক জানকি চিসিম, বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্টস কাউন্সিল, ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক উসাইন মারমা প্রমুখ। 

পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি জগদীশ চাকমা তার বক্তব্যে বলেন, খাগড়াছড়িতে যে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, সেটি শুধু ধর্ষণ নয়। এটি আদিবাসীদের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র। এ দেশের পথপরিক্রমায় পরিবর্তিত সব শাসকই আদিবাসীদের অস্তিত্বকে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র করে গেছে। আর তা হয়েছে আদিবাসী নারীদের ধর্ষণ, ভূমি দখল, সাম্প্রদায়িক হামলা এবং গণহত্যার মাধ্যমে। 

তিনি দাবি রাখেন, বিগত কয়েক বছর ধরে কেএনএফ দমনের নামে সাধারণ নিরীহ বম জনগোষ্ঠীকে জেলে রেখে বিনা চিকিৎসায় মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে। 

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য দীপায়ন খীসা বলেন, যারা ধর্ষণ করেছে তাদের একটা রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে। কিন্তু সেই রাজনৈতিক দল ও ধর্ষকদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নিতে দেখিনি। তারা সবাই বিএনপির নেতাকর্মী। ধর্ষকদের গ্রেফতারের সময় আসামিদের মুখে হাসি দেখেছি। কারণ তারা ভালো করেই জানে আইন তাদের কিছু করতে পারবে না। আইন, প্রশাসন সব সেই সেটেলারদের হাতে। বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে বলতে চাই, আপনার আমলে তিন তিন জন নিরীহ বম চিকিৎসার অভাবে কারাগারে মারা গেছে। আপনাকে অবশ্যই এর দায় নিতে হবে। আপনারা আপনাদের অভ্যুত্থানের একটি বছর পার করেছেন। কিন্তু আপনারা আদিবাসীদের জন্য কিছুই করতে পারেননি। বরং আমরা দেখেছি জমিদারের নাতি ইপিজেড নির্মাণ করার জন্য সমতল আদিবাসীদের তাদের পিতৃ জমি থেকে তাড়ানোর হুমকি দিয়েছে। আমরাও স্পষ্ট করে বলতে চাই, যদি দেশের আদিবাসীরা ভালো না থাকে, তাহলে এই দেশও ভালো থাকবে না। 

ফাল্গুনী ত্রিপুরা বলেন, একটা ত্রিপুরা মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে অথচ রাষ্ট্র এখনও নিশ্চুপ। উল্টো যারা প্রতিবাদ করেছে তাদের ওপর অন্যায়ভাবে লাঠিচার্জ করা হয়েছে। ধর্ষকদের নানানভাবে রক্ষা করে, প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরগুলোকে ভয়ভীতি দেখিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্র আদিবাসীদের ওপর চলা নির্যাতনকে আরও উৎসাহ দিয়ে যায়। রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকা অবস্থায় ভান লাল রুয়াল বমের মৃত্যুর দায় রাষ্ট্রকে বহন করতে হবে। অবিলম্বে সব নিরীহ বমদের মুক্তি দিতে হবে। 

বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অর্থ সম্পাদক জানকি চিসিম বলেন, জুলাই পরবর্তী পাহাড়ে অনেক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এই পর্যন্ত একটা মামলারও সুস্থ সমাধান হয়নি। বরং আমরা দেখতে পাচ্ছি ধর্ষকরা হেসেখেলে ঘুরে বেড়ায় আর সুইসাইড করে আদিবাসী নারী।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীল বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর আমরা এমন একটি দেশ আশা করেছিলাম, যেখানে আদিবাসী, বাঙালি সবাই সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবে। এ জন্য আমরা শেখ হাসিনা সরকার পতন আন্দোলনে নেমেছিলাম। কিন্তু ইউনূস সরকারও ঠিক একই পথেই হাঁটছেন। শেখ হাসিনা যদি পার্বত্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতেন তাহলে আদিবাসীদের এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো না।

/এমকেএইচ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
অনশনরত ওয়াংচুককে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ আদালতের
ককরোচ পার্টির আহতদের দেখতে হাসপাতালে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা
‘প্রশ্নফাঁস জাতীয় উদ্বেগের বিষয়’, দোষীদের কঠোর শাস্তির নির্দেশ মোদির
সর্বশেষ খবর
কাস্টমসের নথি না পাওয়ায় ৮ হাজার কোটি টাকা পাচার অনুসন্ধানে ধীরগতি
কাস্টমসের নথি না পাওয়ায় ৮ হাজার কোটি টাকা পাচার অনুসন্ধানে ধীরগতি
বগুড়ায় হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়, খুলছে উত্তরবঙ্গে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত
বগুড়ায় হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়, খুলছে উত্তরবঙ্গে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
ফাইনালের আগে ড্রেসিংরুমে কী ঘটেছিল? মেসির ভিডিও ঘিরে রহস্য
ফাইনালের আগে ড্রেসিংরুমে কী ঘটেছিল? মেসির ভিডিও ঘিরে রহস্য
সর্বাধিক পঠিত
এমপির ‘দ্বিতীয় বিয়ে’ নানান প্রশ্ন, দ্বিতীয় স্ত্রী ও শ্বশুরের বক্তব্যে অমিল
এমপির ‘দ্বিতীয় বিয়ে’ নানান প্রশ্ন, দ্বিতীয় স্ত্রী ও শ্বশুরের বক্তব্যে অমিল
জামায়াত এমপির ভিডিও ভাইরাল, জানা গেলো আসল ঘটনা 
জামায়াত এমপির ভিডিও ভাইরাল, জানা গেলো আসল ঘটনা 
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় পরিবর্তনের পথে ইসি
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় পরিবর্তনের পথে ইসি
এবার কাশিমপুর মহিলা কারাগারের জেল সুপার বদলি, জেলার বরখাস্ত
এবার কাশিমপুর মহিলা কারাগারের জেল সুপার বদলি, জেলার বরখাস্ত
আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিলেন ভিডিও ছড়িয়ে পড়া এমপির প্রথম স্ত্রী
আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিলেন ভিডিও ছড়িয়ে পড়া এমপির প্রথম স্ত্রী