রাজধানীর গুলিস্তানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের দ্বিতীয় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বিকাল ৫টার দিকে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট থেকে বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেট এলাকায় এই সংঘর্ষ শুরু হয়।
সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস ছুড়তে দেখা যায়। এসময় পুলিশ ৮-১০টি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং অন্তত দুজনকে আটক করতে দেখা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সংঘর্ষে প্রায় ৪০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বর্তমানে তারা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন আশিক (১৯), রাকিবুল হাসান (২১), আসাদ আহমেদ (১৮), হাসান (১৮), আফসানা (১৮), মুগ্ধ (১৯), অন্তর (২০), শাকিল (২৩), শাওন (১৯), তানসিন (২০), সিয়াম (১৮), মাহিম (১৮), রেদোয়ান ইসলাম (২০), হাসিব (১৮), নেহাল (২০) প্রমুখ।
আহত শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষা উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা সচিবালযের সামনে বিক্ষোভ করছিলেন। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এতে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে শিক্ষার্থীরা আহত হন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, সচিবালয়ের সামনে থেকে প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়ে হাসপাতালে এসেছেন। তাদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে, দুপুর আড়াইটার দিকে শিক্ষা উপদেষ্টা ও শিক্ষা সচিবের পদত্যাগ দাবিতে সচিবালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তারা সচিবালয়ের গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে যায় এবং সচিবালয়ের বাইরে থাকা কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দিলে সংঘর্ষ বেধে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় সচিবালয়ের সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সচিবালয়ের সামনের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের অনেককে সচিবালয়ের মূল গেটের উপরে উঠে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে।
প্রথমে তারা তিন নম্বর গেটের সামনে অবস্থান নেয়। পরে সচিবালয়ের অন্য গেটগুলোতেও অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে একটি গেট ভেঙে তারা সচিবালয়ের ভেতরে ঢুকে পড়ে। তখন পুলিশও ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় কয়েকটি সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে শিক্ষার্থীদের বাইরে বের করে দেয়।
সচিবালয়ের বাইরে এসে শিক্ষার্থীরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে।
এরপর বিকাল পাঁচটার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা গুলিস্তান জিরো পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। পুলিশ সরিয়ে দিতে চাইলে শুরু হয় দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষ। বিকাল পৌনে ছয়টার দিকেও শিক্ষার্থীরা বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট এলাকায় অবস্থান করছে। এদিকে জিরো পয়েন্টে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মো. সুমন বলেন, “এত বড় বিপর্যয়ের পরও আজকের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত আসে গভীর রাতে। আমার ভাইবোনেরা আহত, কেউ কেউ মারা গেছে। আমরা এমনিতেই ট্রমার মধ্যে আছি। অথচ রাত ৩টার আগে কোনও ঘোষণা নেই। এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন শিক্ষা উপদেষ্টা ও সচিবের পদত্যাগ চাই। তাই সচিবালয়ের সামনে এসেছি।”
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিস্তান এলাকায় সব দোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
উল্লেখ্য, সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত শতাধিক। ফলে শিক্ষার্থী হতাহত হওয়ার ঘটনায় আজকের (মঙ্গলবার) এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করেছে সরকার। এদিকে এই সিদ্ধান্ত কেন গভীর রাতে নেওয়া হয়েছে—প্রশ্ন তুলে শিক্ষা উপদেষ্টা ও শিক্ষা সচিবের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা সকাল থেকেই সচিবালয়ে সামনে বিক্ষোভ করছিল।









