স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পালাবদলের মুহূর্ত ২০২৪ সালের জুলাই। গত বছরের জুলাই-আগস্ট মাসের দিনগুলো ফিরে দেখতে বাংলা ট্রিবিউনের এই প্রয়াস।
আজ ৩০ জুলাই। ২০২৪ সালের এই দিনে সহিংসতায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের স্মরণে সরকার একটি শোক দিবস পালনের ঘোষণা দিলে আন্দোলনকারীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। প্রতিবাদস্বরূপ আন্দোলনকারীরা তাদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল লাল রঙ করে দেন।
শেখ হাসিনা সরকার কোটা সংস্কার আন্দোলনের সুষ্ঠু ও মানসম্পন্ন তদন্ত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির জন্য বিদেশি কারিগরি সহায়তা নেওয়ার কথা বলে। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির জন্য বিদেশি কারিগরি সহায়তা নেবো, যাতে এটি যথাযথ, মানসম্পন্ন এবং উচ্চ মানসম্পন্ন হয়। তিনি আরও বলেন, এই তদন্তে সহায়তা নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাতিসংঘের (ইউএন) সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষ-সংঘাতে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণ করে এবং এসব ঘটনার বিচার চেয়ে ঢাকায় বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকার বাইরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবদুল কাদের অনলাইনে বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ টেলিগ্রামে তাদের গ্রুপে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এতে বলা হয়, ৩০ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টায় মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচি পালন করা হবে।
সারা দেশে ছাত্র-জনতার ওপর গণহত্যা, গণগ্রেফতার, হামলা, মামলা, গুম-খুনের প্রতিবাদে এবং জাতিসংঘ কর্তৃক তদন্তপূর্বক বিচারের দাবিতে, ছাত্রসমাজের ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে দেশের সব আদালত, ক্যাম্পাস ও রাজপথে ওই কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ২৮ জুলাই বাংলাদেশে নতুন করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরুর বিষয়ে তিনি অবগত। তিনি সবাইকে শান্ত ও সংযত থাকতে তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। শিক্ষার্থী আন্দোলন ঘিরে হাজারো তরুণ ও রাজনৈতিক বিরোধীদের গণগ্রেফতারের খবরেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব।









