নতুন চুক্তির আবেদন প্রক্রিয়াধীন, সেই ১৬ প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিপাকে বেবিচক

ইমরান আলী 
১০ আগস্ট ২০২৫, ১০:০০আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৫, ১০:০০

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে ইজারায় পরিচালিত ১৬টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধের পর এখনও নতুন করে ইজারা দেয়নি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। তবে ইজারা বাতিলের পর এক ধরনের বেকায়দায় পড়েছেন বেবিচকের কর্মকর্তারা। মেয়াদ শেষ হওয়ায় আগের মালিকরাই ইজারা পেতে নানা ধরনের তদবির চালাচ্ছেন, নতুন ইজারাও বাধাগ্রস্ত করছেন।

ঢাকার শাহজালাল, চট্টগ্রামের শাহ আমানত ও নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরের ওই ১৬ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম গত ৩০ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। নতুন অর্থবছরের শুরু থেকে বেবিচক এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রতিষ্ঠানগুলো হলো– এরোস ট্রেডিং, মেসার্স সজল এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স মাহবুবা ট্রেডার্স, নাহার কনস্ট্রাকশন, অ্যাভিয়েশন ট্রান্সপোর্ট লিমিটেড, এ ফাইভ রোডওয়ে লিমিটেড, ওয়ার্ল্ড ট্রাস্ট ট্যুরিস্ট কার সার্ভিসেস কোং, শিরিন এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স হাওলাদার অ্যান্ড সন্স, মেসার্স অথৈ এন্টারপ্রাইজ, ওলফ করপোরেশন, আড়িয়াল ক্রিয়েটিভ স্পেস, ধানসিঁড়ি কমিউনিকেশন এবং ডিপার্টমেন্ট এস কনসালটিং। এছাড়া রয়েছে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী প্রান্তিক ভবনের দ্বিতীয় তলার বহির্গমন এলাকায় অবস্থিত ফ্যালকন এজেন্সি এবং সৈয়দপুর বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ বহির্গমন এলাকায় কার্যক্রমরত ফ্যালকন এয়ারপোর্ট সার্ভিস টিম।

এ সংক্রান্ত বেবিচকের আদেশে বলা হয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের নবায়নের জন্য কোনও আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না। বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা।

সূত্র জানায়, এসব প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর একাধিকবার ইজারা নবায়নের সুযোগ পেলেও যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং তাদের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক স্বার্থে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রশাসনিক জটিলতা তৈরির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছিল। বেবিচকের এমন সিদ্ধান্তের পর থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের লোকজন নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করে পূণরায় ইজারা নবায়নের চেষ্টা করে। কিন্তু নতুন আদেশে আবেদনের সুযোগ না রাখায় ক্ষিপ্ত হয়ে নানা অভিযোগ করে যাচ্ছে।

সূত্র আরও জানায়, এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই অতীত সরকারপন্থি রাজনৈতিক নেতা বা তাদের ঘনিষ্ঠদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণে ছিল। এই রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের ফলে তারা দীর্ঘসময় ধরে কার্যত বিমানবন্দরের ভেতরে একটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক বা ছায়া-সাম্রাজ্য গড়ে তোলে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বর্তমানে দুর্নীতিসহ বিভিন্ন মামলায় কারাবন্দি, আবার কেউ দেশের বাইরে পলাতক অবস্থায় রয়েছেন।

এসব প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগে সাইফুল ইসলাম, রশিদ আহমেদ, আব্দুল্লাহ আল মানিকসহ কয়েক জনের নাম রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বেবিচকের মুখপাত্র কাওছার মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আগের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আমরা তা বাতিল করেছি। এখন আমরা নতুন করে ইজারার জন্য সব সরকারি নিয়ম মেনেই কাজ করছি। তবে আগের প্রতিষ্ঠানগুলোর লোকজন সমস্যা করছে।

বেবিচকের উপ-পরিচালক মাহমুদ আখতার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা দুটি প্রক্রিয়ায় কাজ করি। একটি টেন্ডার, অন্যটি আবেদন প্রক্রিয়া। বিমানবন্দরের ভেতরে যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেগুলো আবেদনের ভিত্তিতেই আমরা করি। প্রতিষ্ঠানগুলো আবেদন করে। এরপর আমরা যাচাই-বাছাই করে চুক্তি করি। ওই চুক্তিতে শর্তই থাকে বেবিচক যেকোনও সময় যেকোনও মুহূর্তে চুক্তি বাতিল করতে পারবে। এটি জেনেই তারা স্বাক্ষর করেন। ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় আমরা তা বাতিল করে দিয়েছি। এরপর থেকেই তারা আমাদের ওপর এক ধরনের ক্ষিপ্ত।

তিনি বলেন, বর্তমানে একটি পুরনো চক্র নতুন রূপে আবির্ভূত হয়েছে। তারা বিগত সরকারের রাজনৈতিক বলয় পুনর্গঠন ও নিজেদের স্বার্থ আদায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে বেবিচকের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে। মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে তারা বেবিচকের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করছে এবং তা গণমাধ্যমেও ছড়িয়ে দিচ্ছে। এতে আমরা কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছি। তবে আমরা আমাদের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবো।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিমানবন্দরের ভেতরের ওইসব স্থানে নতুন প্রতিষ্ঠান করার আবেদন আমাদের কাছে এসেছে। আমরা যাচাই-বাছাই করে নতুন চুক্তি করবো।

/আরকে/
সম্পর্কিত
‘শাহজালালে হাজিদের লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ সঠিক নয়’
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
শাহজালালে ১৫০ হাজির লাগেজ কাটার অভিযোগের সত্যতা মেলেনি: বিমান
সর্বশেষ খবর
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে