রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় নিজ বাসায় রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় গৃহবধূ ফাহমিদা তাহসিন কেয়ার (২৫)। বুধবার (১৩ আগস্ট) রাতে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) কেয়ার স্বামী সিফাত আলীসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন স্বজনরা। তবে ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন সিফাত।
কেয়া হত্যার প্রতিবাদ এবং তার সন্তানদের মায়ের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর ও পুলিশের অসহযোগিতার অভিযোগে শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় কেয়ার মরদেহ নিয়ে মিরপুর মডেল থানার সামনে বিক্ষোভ করেন তার স্বজনরা।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নিহতের ফুপা শামসুদ্দোহা খান বলেন, আমাদের মেয়েটাকে ওরা মেরে ফেলেছে। হত্যাকারীদের ধরতে পুলিশের দৃশ্যমান কার্যক্রম নেই। এছাড়া কেয়ার চারটি সন্তান রয়েছে, যাদের শ্বশুরবাড়ির লোকজন জিম্মি করে রেখেছে। বাচ্চাদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না।
শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে শামসুদ্দোহা খান মোবাইল ফোনে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সন্ধ্যায় কেয়ার লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করায় পুলিশের মধ্যস্থতায় তার সন্তানদের আমাদের কাছে দেওয়া হয়েছে। আমরা এখন কেয়ার মরদেহ নিয়ে নরসিংদীর রায়পুরা যাচ্ছি। শনিবার সেখানে তাকে দাফন করা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমান বলেন, সন্তানদের বিষয়ে আমাদের হাতে আইনি ক্ষমতা সীমিত। দুই পক্ষ একসঙ্গে বসলে সমাধান সম্ভব।
তিনি জানান, কেয়ার মা নাজমা বেগম বাদী হয়ে তার মেয়ে-জামাতা সিফাত আলী, তাদের গাড়িচালকসহ মোট ৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
নিহতের পরিবার জানায়, বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে সিফাত আলী কেয়ার মা নাজমা বেগমকে ফোন করে জানান— কেয়া অসুস্থ। কিছুক্ষণ পরে বলেন, কেয়া আর বেঁচে নেই।
নাজমা বেগম ও তার স্বামী মেয়ের বাসায় গিয়ে দেখেন সিফাত কেয়াকে নিয়ে পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে যাচ্ছেন। চিকিৎসকরা কেয়াকে মৃত ঘোষণা করলে সিফাত সেখান থেকে উধাও হয়ে যান।
পরে তারা আবারও কেয়ার বাসায় ফিরে গিয়ে দেখতে পান তালা দেওয়া। পরিবারের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে কেয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।








