নারীয় প্রতি সহিংসতা: মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের ক্ষোভ ও উদ্বেগ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৯ আগস্ট ২০২৫, ১৮:২৬আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৫, ১৮:২৬

সম্প্রতি সংঘটিত দুটি মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ঢাকার সৈয়দা ফাহমিদা তাহসিন কেয়া (২৫) এবং গাজীপুরের জেমি আক্তারকে (১৯) নির্মমভাবে হত্যা করেছে।

এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের নারীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী সংকটকে আরও প্রকট করেছে— যা গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

এতে বলা হয়, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যানুসারে, শুধু ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৩২২ জন নারী পারিবারিক সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ১৩৩ জন নারী স্বামীর হাতে নিহত হন। একই সময়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে স্বামীর নির্যাতনের অভিযোগে ৯ হাজারের বেশি কল রেকর্ড হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৪ সালের নারীর প্রতি সহিংসতা জরিপে দেখা গেছে, ৭০ শতাংশ নারী কোনও না কোনও ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন, যার অর্ধেকের বেশি স্বামী সহিংসতার শিকার।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই অপরাধীরা বারবার এমন নৃশংস অপরাধ করার সাহস পাচ্ছে। অসংখ্য ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না এবং এমনকি ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটলেও অভিযোগ দায়েরের অভাবে আইনি প্রক্রিয়ায় ধীরগতি লক্ষ্য করা যায়।

তিনি কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সব মামলা পর্যালোচনা করে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং বিচার প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে হবে।

শাহীন আনাম আরও বলেন, নিম্ন আয়ের অনেক নারী সহিংস দাম্পত্য জীবন থেকে মুক্তি পান না। সামাজিক মর্যাদার ভয়ে এবং আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে বাবা-মা তাদের মেয়েকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে পারেন না। আর্থিক নিরাপত্তা না থাকায় সন্তানদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় অসংখ্য নারী চুপচাপ পারিবারিক নির্যাতন সহ্য করতে বাধ্য হন।

সরকার, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সমাজের প্রতি এমজেএফ’র আহ্বান—

পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং আইনের সহজ ব্যাখ্যা প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

নারী নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগীদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র, কাউন্সেলিং ও জীবিকা সহায়তা সেবা সম্প্রসারণ করতে হবে।

যেসব বাধা ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা সমূহ ভুক্তভোগীদের নীরব করে রাখে, তা চিহ্নিত করে দূর করতে হবে।

পারিবারিক সহিংসতাকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়ার সংস্কৃতি ভাঙতে জাতীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান চালু করতে হবে।

কেয়া ও জেমির মর্মান্তিক মৃত্যু কোনোভাবেই নীরবতার আড়ালে চাপা পড়ে যেতে পারে না। এ ঘটনা আমাদের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা। অবিলম্বে বিচারহীনতার অবসান ঘটাতে হবে এবং নারীদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকারের সুরক্ষা দিতে হবে।

 

/কেএইচ/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
অর্থনীতিতে নারীর ক্ষমতায়নে পিছিয়ে বাংলাদেশ
দুর্গম চরে নিরাপদ মাতৃত্বে নতুন দিগন্ত
ঢাকার যেসকল মসজিদে থাকছে নারীদের ঈদের নামাজ পড়ার ব্যবস্থা
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম