শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতের দায়িত্ব রাষ্ট্রের: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৮:৫১আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৮:৫১

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন, ‘শিক্ষা ও স্বাস্থ্য কখনওই প্রাইভেট খাতের হাতে ছেড়ে দেওয়ার মতো বিষয় নয়, এগুলো রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হওয়া উচিত।’

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘সাক্ষরতায় বাংলাদেশের অর্জন এবং আগামীর পরিকল্পনা’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে ‘নিমো লার্নিং’।

অধ্যাপক বিধান রঞ্জন রায় বলেন, ‘জাতীয় উন্নয়নের পথে এগোতে চাইলে জনগণকে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী এবং সুশিক্ষিত নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা ছাড়া কোনও বিকল্প নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায়ই বড় বড় শব্দকে অবমূল্যায়ন করি। যেমন কাউকে “প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা” ঘোষণা করলেই তার মর্যাদা প্রথম শ্রেণির হয়ে যায় না। বাস্তবে যদি সেই সুবিধা বা মর্যাদা কার্যকর না হয়, তবে তা কেবল কাগজে কলমেই থেকে যায়। শিক্ষা ক্ষেত্রেও অনেক সময় এ ধরনের কাগুজে উন্নয়ন হয়, কিন্তু বাস্তবে আমরা একচুলও এগোতে পারি না।’

একটি দেশের উন্নতির মূল শর্ত সুস্বাস্থ্য ও সুশিক্ষা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এগুলো কখনওই প্রাইভেট বিষয় হতে পারে না, বরং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হিসেবে দেখতে হবে। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম বাড়াতে হবে। তবেই জাতি হিসেবে আমরা এগোতে পারব, না হলে একই চক্রে ঘুরপাক খেতে হবে।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের দেশের স্বাস্থ্য ও শিক্ষাকে ধীরে ধীরে জাতীয় দায়িত্ব থেকে প্রাইভেট খাতে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। ফলে মুষ্টিমেয় গোষ্ঠী লাভবান হলেও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা হয়নি। শিক্ষা ব্যবস্থায় বিভাজন তৈরি হয়েছে- একদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, অন্যদিকে প্রাইভেট ও ইংলিশ মিডিয়াম। এ বিভাজনই শিক্ষার ঐক্য নষ্ট করছে।’

উপদেষ্টা উদাহরণ দিয়ে আরও বলেন, ‘২০১৪ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের তৃতীয় শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করা হলেও তারা তৃতীয় শ্রেণির সুবিধা হারান, আবার দ্বিতীয় শ্রেণির সুবিধাও পুরোপুরি পাননি। এতে তারা আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রবাসীরা বিশ্বের শ্রমবাজারে তুলনামূলকভাবে কম আয় করেন। এর প্রধান কারণ তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতার ঘাটতি। প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে এগিয়ে যেতে হলে মানসম্মত শিক্ষা অপরিহার্য। চীন, ভারত বা অন্যান্য দেশের অগ্রগতির মূল ভিত্তি হচ্ছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক শৃঙ্খলা। আমাদেরও একই পথে হাঁটতে হবে।’

বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার মনে করেন, ‘১৯৯০ সালে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার আইন করা হলেও তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি।’ তার ভাষায়, ‘যদি প্রাথমিক শিক্ষা আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক হয়, তবে এত বিপুলসংখ্যক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কেন গড়ে উঠল? সরকারি স্কুলগুলো কেন মানসম্পন্ন শিক্ষা দিতে পারল না? এর দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম বা ভলান্টারি প্রতিষ্ঠানের অভাবও জাতীয় দুর্বলতা।’ এ ধরনের উদ্যোগ বাড়লে শিক্ষার পাশাপাশি সমাজ উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাবেক অতিরিক্ত সচিব এবং নিমো লার্নিংয়ের চেয়ারম্যান জাফর রাজা চৌধুরীর সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব সোহরাব হাসান, সাবেক শিক্ষিকা ও খ্যাতিমান অভিনেত্রী দিলারা জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গণিত বিভাগে খ্যাতনামা অধ্যাপক এবং একাডেমিয়া লিমিটেডের সম্মানিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. কুতুবউদ্দিন, বিএনসিসির সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাহিদুল ইসলাম খান, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক দেবব্রত চক্রবর্তী এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রফেসর রবিউল কবির চৌধুরী।

এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর বিভাগের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. সিদ্দিকুর রহমান।

/এএইচএস/এমএইচআর/
সম্পর্কিত
৩৭ লাখ টাকায় স্কুল ভবন নির্মাণ, নেই দোতলায় ওঠার সিঁড়ি
অর্থনৈতিক কূটনীতিতে জোর দেবে সরকার: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
ইউনূস সরকার বাতিল করলেও প্রাথমিকে সংগীত শিক্ষক নিয়োগ দেবে সরকার 
সর্বশেষ খবর
টেইটের জায়গায় তালহা জুবায়ের, প্রশংসায় ভাসালেন হান্নান সরকার 
টেইটের জায়গায় তালহা জুবায়ের, প্রশংসায় ভাসালেন হান্নান সরকার 
৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারে দিতে হবে না বাড়তি দাম
৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারে দিতে হবে না বাড়তি দাম
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
ছোট ছেলে শ্বশুরবাড়ি, বড় ছেলের ঘরের মেঝে খুঁড়ে মায়ের লাশ উদ্ধার
ছোট ছেলে শ্বশুরবাড়ি, বড় ছেলের ঘরের মেঝে খুঁড়ে মায়ের লাশ উদ্ধার
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের