সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি গ্রেড ভেঙে ১০ ধাপে বেতন কাঠামো নির্ধারণের মাধ্যমে বৈষম্য নিরসনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংগঠনটির ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশ থেকে এই দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, কর্মচারীদের বহুল প্রত্যাশিত ৯ম বেতন কমিশন গঠন করা হলেও কাঙিক্ষত অগ্রগতি দৃশ্যমান হচ্ছে না। তারা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বেতন কমিশনের প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের দাবি জানান।
বৈষম্য নিরসনে বিদ্যমান ২০টি গ্রেডকে ভেঙে ১০ ধাপে বেতন নির্ধারণ, সচিবালয়ের মতো সমকাজে সমমর্যাদা ও পদবী পরিবর্তন, সকল দফতরে এক ও অভিন্ন নিয়োগবিধি, টাইমস্কেল-সিলেকশন গ্রেড, শতভাগ পেনশন প্রথা পুনরায় বহাল, আউটসোর্সিং নিয়োগ প্রথা বিলোপ এবং আইএলও সনদ মোতাবেক গণকর্মচারীদের ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার প্রদানের দাবি জানান সংগঠনটির নেতারা।
সমাবেশের আগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন বিশ্ব ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের প্রেসিডিয়াম মেম্বার ও জাতীয় শ্রমিক জোট সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ।
সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের অতিরিক্ত মহাসচিব মো. রোকনুজ্জামান ও জিল্লুর রহমান খান’র যৌথ সঞ্চালনায় মোহাম্মদ আজিমের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট’র সভাপতি ও শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়ক রাজেকুজ্জামান রতন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন শ্রমিক নেতা আব্দুল কাদের হাওলাদার।
প্রধান বক্তা হিসেবে সংগঠনের নীতি নির্ধারণী পরিষদের চেয়ারম্যান নোমানুজ্জামান আজাদ বলেন, ‘আন্দোলন সংগ্রামের পথ পরিক্রমায় দেশের বৃহত্তম গণকর্মচারী সংগঠন বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ আজ ৩৭ বছরে পদার্পণ করেছে। সংগঠনের এই দীর্ঘ যাত্রাপথে এ দেশের গণকর্মচারীদের অসংখ্য দাবি এই সংগঠনের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে।’
স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনের মহাসচিব বদরুল আলম সবুজ বলেন, ‘নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নে কর্মচারীদের অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, সরকারি কর্মচারী মহিলা পরিষদের সভাপতি ফাহমিদা আক্তার ইলা, কামাল হোসেন শিকাদার, প্রবীণ নেতা এম এ আউয়াল, কুতুব উদ্দিন সেলিম, মো. সেলিম ভূইয়া, মো. ইউসুফ আলী, দেলোয়ার হোসেন, সরকার গোলাম মোস্তফা, শ্রী বিশু লাল, বাবুল খান তাপস, মো. ইব্রাহীম, মো. জুলহাস ফকির প্রমুখ।








