আটক সকল বম নাগরিকদের মুক্তির দাবি ১৩০ বিশিষ্ট নাগরিকের

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট  
১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৭:৫৫আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৭:৫৫

২০২৪ সালের এপ্রিলে বান্দরবানের রুমা ও থানচি উপজেলায় কুকি চীন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) কর্তৃক সংঘটিত ব্যাংক ডাকাতি ও অস্ত্র লুটের ঘটনার পর রুমা উপজেলার বেথেল পাড়াসহ আশেপাশের এলাকায় অভিযান শুরু করে যৌথবাহিনী। সেই অভিযানে গ্রেফতার ব্যক্তিদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে ১৩০ বিশিষ্ট নাগরিক।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) নিউ এইজের সাংবাদিক সায়দিয়া গুলরুখ ও গবেষক ইসাবা শুহ্‌রাতের পাঠানো এক বার্তায় এ দাবি জানানো হয়েছে।

বিগত কয়েক বছরে মিথ্যা মামলায় আটকসহ ব্যাংক ডাকাতি ঘটনায় গণগ্রেফতারের শিকার ২১ জন নারী-শিশুসহ প্রায় ৮০ জনের মত বম নাগরিক জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তবে এখনও ৬০০ দিনের বেশি সময় ধরে আটক আছেন ৯ নারীসহ ৯৪ জন বম নাগরিক। তাদের মুক্তির দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ১৩০ জন নাগরিক।

গ্রেফতার ৯ নারী হলেন- লাল তানহ কিম বম (৩০), টিনা বম (১৭), পারঠা জোয়াল বম (১৮) এবং জেসি জিংরিনহ পার বম (২০)। এছাড়াও বাকতাই পাড়ার অধিবাসী মেলরি বম (২৬), লাল রিন তলোয়াং বম (২১), জুমচাষী নেম পেনহ বম (৩৮), কুছয় খুমি, আকিম বম (১৫)।

নাগরিক সমাজের বিবৃতিতে বলা হয়, কেএনএফের ‘সন্ত্রাসী’ তৎপরতা দমনের নামে সমগ্র বম জাতির ওপর এই কালেকটিভ পানিশমেন্ট বা কতিপয়ের অপরাধে পুরো বম জনগোষ্ঠীকে শাস্তি দেওয়ার নীতির প্রয়োগ স্বৈরাচারী আওয়ামী শাসনামলে শুরু হয়েছিল। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরশাসকের পতনের পর এই নীতিমালা থেকে অন্তবর্তীকালীন সরকার সরে আসেনি।

বিবৃতিতে নাগরিক সমাজ বলেন, ‘আমরা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, বম জনগোষ্ঠী, সর্বোপরি পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনজীবনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যাবে না।’ এ সময় তারা তিনটি দাবি জানান।

১। সুষ্ঠু ও গ্রহনযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে ব্যাংক ডাকাতি ঘটনার সঙ্গে কেএনএফসহ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের সনাক্ত করে তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনতে হবে।

২। অবিলম্বে বম জনগোষ্ঠীকে কালেক্টিভ পানিশমেন্ট প্রদানের কৌশলকে প্রত্যাহার করতে হবে এবং নির্বিচারে আটককৃত বম বাসিন্দাদের মুক্তি দিতে হবে।

৩। যৌথ বাহিনীর অভিযানকালে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে আনীত সকল মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চত করতে হবে এবং যে সকল আইন শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বম জনগোষ্ঠীর সদস্যদের মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছে তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

/এএইচএস/এমএইচআর/
সম্পর্কিত
দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে অস্ত্রসহ কেএনএফ সদস্য আটক
জঙ্গল সলিমপুরে ৩০০ জনের বাহিনী কার, রাজনৈতিক পরিচয় কী
মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে মাদকবিরোধী যৌথ অভিযান শুরু
সর্বশেষ খবর
‘গ্যাস সংকটের কারণে’ বন্ধ হলো ফুয়াং ফুডের কারখানা
‘গ্যাস সংকটের কারণে’ বন্ধ হলো ফুয়াং ফুডের কারখানা
টেটনের স্বচ্ছ জলে ডুব, সঙ্গে পাহাড়ের অপূর্ব দৃশ্য
টেটনের স্বচ্ছ জলে ডুব, সঙ্গে পাহাড়ের অপূর্ব দৃশ্য
যুক্তরাষ্ট্রের ‘অঙ্গরাজ্য’ হওয়ার সুবিধা চায় কানাডা: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের ‘অঙ্গরাজ্য’ হওয়ার সুবিধা চায় কানাডা: ট্রাম্প
১৫আগস্টে নাশকতার পরিকল্পনা, আরও ১৫ জন রিমান্ডে
১৫আগস্টে নাশকতার পরিকল্পনা, আরও ১৫ জন রিমান্ডে
সর্বাধিক পঠিত
নতুন দায়িত্বে চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন 
নতুন দায়িত্বে চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন 
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান কি ছুটিতে যাচ্ছেন?
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান কি ছুটিতে যাচ্ছেন?
৪০ ক্যামেরা বসিয়েও খোঁজ মেলেনি সুন্দরবনের সেই বাঘিনীর
৪০ ক্যামেরা বসিয়েও খোঁজ মেলেনি সুন্দরবনের সেই বাঘিনীর
কোন কারণে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি জানিয়েছে ‘তৌহিদি জনতা’
কোন কারণে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি জানিয়েছে ‘তৌহিদি জনতা’
১০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও ব্যাংক কর্মকর্তারা, প্রতিবাদ জানাতে এসে অজ্ঞান ব্যবসায়ী
১০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও ব্যাংক কর্মকর্তারা, প্রতিবাদ জানাতে এসে অজ্ঞান ব্যবসায়ী