সাকরাইন পুরান ঢাকার অন্যতম প্রাচীন ও বৈচিত্র্যময় উৎসব। মূলত পৌষ মাসের শেষ দিনে মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে এই উৎসব পালিত হয়। দিনভর নানা রঙের ঘুড়ি ওড়ানো ও বর্ণিল আতশবাজি আর রঙ-বেরঙের ফানুস ওড়ানোর মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয় এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব।
তবে সূত্রাপুরে এবারের উৎস ছিল ভিন্ন মাত্রার। দিনভর নানা ধরনের ঘুড়ি ওড়ানো হলেও ছিল না কোনও আতশবাজি বা গান-বাজনার আয়োজন। এতে উৎসবটি ফিকে হয়ে গেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা বলছেন, স্থানীয় একটি গোষ্ঠীর বিরোধিতার কারণে এবার তারা গান-বাজনার সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী উৎসবটি পালন করতে পারেননি। তবে কারা বাধা দিয়েছেন, এ বিষয়ে কিছুই জানাতে পারেননি তারা।
জানা গেছে, প্রতি বছর এ উৎসবকে ঘিরে পুরান ঢাকায় থাকে বিশেষ আয়োজন। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের ঢল নামে ঘুড়ি ওড়ানো ও উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে। দিনব্যাপী ঘুড়ি ওড়ানো শেষে পুরান ঢাকার অলিগলিতে, বাসা-বাড়ির ছাদে আয়োজন হয় ডিজেপার্টি-নাইট পার্টি। তবে গান-বাজনার বিষয়টিকে স্থানীয় অনেকে অপসংস্কৃতি বলে মনে করেন। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর সাকরাইনকে ঘিরে গান-বাজনা করা স্থানীয়দের একটি অংশের প্রকাশ্য বিরোধিতা করেছেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা গেছে, নারিন্দা, গেন্ডারিয়া ও সূত্রাপুর এলাকার একাধিক মসজিদ থেকে কিছু মানুষ সাকরাইনের বিরুদ্ধে মিছিল করেছেন। এ ছাড়া শব্দদূষণ ও ধর্মীয় অনুশাসনের পরিপন্থি দাবি করে আদর্শ সমাজ বিনির্মাণ কমিটির পক্ষ থেকে এলাকাবাসীর মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ঐতিহ্যবাহী উৎসবকে ঘিরে আনন্দের কমতি ছিল না এই এলাকার বাসিন্দাদের। পৌষ মাসের শেষদিন বুধবার সাকরাইন উৎসবে মেতেছিলেন তারা। বিভিন্ন ভবনের ছাদ উড়িয়েছেন বাহারি রঙের ঘুড়ি, চলেছে ঘুড়ি কাটাকাটির খেলা।
সূত্রাপুর থানার ওসি মো. মতিউর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার থানা এলাকায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাকরাইন উৎসব পালিত হয়েছে। তবে একটাও সাউন্ড সিস্টেম বাজেনি। সাকরাইনে শব্দদূষণ, অশ্লীলতা, বেহায়াপনা ও অসামাজিক কার্যকলাপ রোধে আগে থেকেই আমরা সোচ্চার ছিলাম। এজন্য সুন্দরভাবে ঐতিহ্য ধরে রেখে সারকাইন উৎসব পালিত হয়েছে।’
উল্লেখ্য, সকরাইন উৎসব যুগ যুগ ধরে বহন করে চলছে পুরান ঢাকাবাসী। বাংলা পৌষ মাসের শেষ ও মাঘ মাসের শুরুতে ঐতিহ্যবাহী এ ঘুড়ি উৎসবের আয়োজন করে পুরান ঢাকাবাসী। দিনভর ঘুড়ি উড়িয়ে সন্ধ্যায় বর্ণিল আতশবাজি আর রঙ-বেরঙের ফানুস উড়িয়ে সাকরাইন উৎসবকে আনন্দঘন করে তোলে। কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতী, এমনকি বয়োবৃদ্ধরা এ উৎসবে শামিল হন। দিনভর ঘুড়ি উড়িয়ে সন্ধ্যায় বিভিন্ন আয়োজনে সবাই আনন্দে মেতে ওঠেন।









