নির্বাচনে ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক: আসক

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:১৫আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:১৫

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় ধর্মকে ব্যবহার করা কিংবা অন্যান্য ধর্মচর্চাকারী নাগরিকদের ওপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ চাপ সৃষ্টি করে ভোট চাওয়ার প্রবণতাও উদ্বেগজনক। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ, সহিংসতা, উসকানিমূলক বক্তব্য এবং উত্থাপিত অনিয়মের অভিযোগের ঘটনায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছে আসক।

এসব ঘটনা নির্বাচনকালীন পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে, যা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিপন্থি বলে মনে করেন মানবাধিকার সংগঠনটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্যক্তি ও কর্মীরা সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। গতকাল শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতি উপজেলায় জামায়াতের স্থানীয় একজন নেতা নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, একই ঘটনায় বিএনপি দলীয় একজন নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়াও সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৩০ জন কর্মী সমর্থক আহত হন। বিগত কয়েকদিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মী-সমর্থকেরা প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়েছেন।

আসক জানিয়েছে, প্রচারণাকালে নারীদের বোরকা বা নেকাব জোরপূর্বক খুলে ফেলার একটি অভিযোগ উঠেছে, যা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। নির্বাচনি কার্যক্রমে অংশগ্রহণের কারণে কোনও নাগরিককে এ ধরনের অপমান বা চাপের মুখে পড়তে যাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একইসঙ্গে এসব আচরণ সংবিধানে নিশ্চিত নাগরিকের সমান মর্যাদা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকারের পরিপন্থি। 

এ ছাড়া ভোটারদের প্রভাবিত করতে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা, প্রচারণাকালে ভয়ভীতি প্রদর্শন, শিষ্টাচারবিরোধী ও অশালীন ভাষার ব্যবহার এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বিষোদ্‌গার করার অভিযোগ গণমাধ্যম সূত্রে পাওয়া যাচ্ছে।  

আসক মনে করে, নির্বাচন একটি মৌলিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের ভয়মুক্ত পরিবেশে নিজ পছন্দ অনুযায়ী ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত দায়িত্ব হলো— এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে সহিংসতা, অনিয়ম, বৈষম্য ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কোনও স্থান থাকবে না।  

আসক স্পষ্টভাবে বলতে চায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে কোনও ধরনের সহিংসতা, উসকানি, ভোটারকে অর্থ দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা, ধর্মের অপব্যবহার এবং শিষ্টাচারবিরোধী আচরণ সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য। একটি গ্রহণযোগ্য, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের স্বার্থে এসব ঘটনার বিরুদ্ধে অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। পাশাপাশি পারস্পরিক সম্মান, সংযম ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখে নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছে।

/এমকেএইচ/
সম্পর্কিত
এমপি মাসুদের দম্ভোক্তির জোর কোথায়?
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিনেমা প্রদর্শন-নেত্রকোনায় বাউল গান বন্ধের ঘটনায় আসকের নিন্দা
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে যা বললেন প্রতিমন্ত্রী
সর্বশেষ খবর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম