আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শতাধিক গুম ও খুনের দায়ে অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিতে এসে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া। তিনি সেনাবাহিনীকে নিয়ে গিবত গেয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের আইনজীবী নাজনীন নাহার।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন। শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জিয়াউলের বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষী হিসেবে প্রথম দিনের মতো জবানবন্দি দিয়েছেন ইকবাল করিম।
নাজনীন নাহার বলেন, জিয়াউল আহসানের মামলায় আজ জবানবন্দি দিতে এসেছেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া। তার জবানবন্দি এখনও শেষ হয়নি। একটি গৌরবময় অধ্যায় রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর। দেশ গঠনে, বিপদে-আপদে বা কোনও সংকটে পড়লে আমরা সেনাবাহিনীর দিকে তাকিয়ে থাকি। দীর্ঘ ৪০ বছর সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন ইকবাল করিম ভূঁইয়া। তিনি সেনাপ্রধান ছিলেন। অথচ সেনাবাহিনী সম্পর্কে অনেক গিবত গেয়েছেন তিনি। একজন সাবেক সেনাবাহিনীর প্রধানের কাছ থেকে এটা আমি আশা করিনি।
তিনি আরও বলেন, জবানবন্দিতে উনি (ইকবাল করিম) বলেছেন, ১৯৭২ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত যত অন্যায়-অপরাধ হয়েছে সবকিছুর সঙ্গে সেনাবাহিনী যুক্ত। ওনার মোদ্দাকথা আমি এটুকুই বুঝতে পেরেছি। তার জবানবন্দি সম্পন্ন হলে আমরা বলবো।
এর আগে গত ৮ জানুয়ারি জিয়াউলের বিরুদ্ধে আনা প্রসিকিউশনের তিনটি অভিযোগের বিরোধিতা করেন তার আইনজীবীরা। রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য-উপাত্ত মতে, এসব ঘটনার সঙ্গে তার কোনও সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করা হয়। এজন্য ট্রাইব্যুনালের কাছে তার অব্যাহতি প্রার্থনা করেন তারা। গত ৪ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন। এতে জিয়াউলের অপরাধমূলক সব কর্মকাণ্ডের বিবরণ দেওয়া হয়। তথ্যপ্রমাণাদি বিবেচনায় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন করেন চিফ প্রসিকিউটর।
এ মামলায় সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ আনা হয়। প্রথমটি হলো, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইলে সড়কের পাশে জিয়াউলের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিন হত্যা।
দ্বিতীয় অভিযোগে অপরাধের সময়কাল হলো ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত। এ সময়টায় বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী খালঘেঁষা বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যা।
তৃতীয় অভিযোগেও ৫০ হত্যার অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন। অর্থাৎ দ্বিতীয় অভিযোগে উল্লিখিত সময়ে বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনের বিভিন্ন অঞ্চলে তথাকথিত বনদস্যু দমনের আড়ালে মাসুদসহ ৫০ জনের প্রাণ নেওয়া।
এসব হত্যাকাণ্ডের দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ২৩ ডিসেম্বর জিয়াউলকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। ১৭ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়। একই দিন সকালে ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।









