রাজধানীর উত্তরায় শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সদ্য সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও সাফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রী বিথীসহসহ চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন এই আদেশ দেন।
আদালত মামলার প্রধান আসামি সাফিকুর রহমানের স্ত্রী বিথী খাতুনের ৭ দিন এবং সাফিকুর রহমানের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়া তাদের বাসার দুই গৃহকর্মী সুফিয়া বেগমের ৬ দিন ও রূপালী খাতুনের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তাহমিনা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শুনানি চলাকালে বাদীপক্ষের আইনজীবী ফাহমিদা আক্তার বলেন, “এই শিশুটিকে টয়লেটের ভেতরে আটকে রাখা হতো। দিনের পর দিন খাবার না পেয়ে সে টয়লেটের পানি ও টিস্যু খেয়ে বেঁচে ছিল। মারার জন্য গরম খুন্তি সব সময় প্রস্তুত রাখা হতো।” ১২ বছরের কম বয়সী শিশুকে কাজে রাখা এবং এমন অমানবিক নির্যাতনের ঘটনাকে তিনি বর্তমান সরকারের জন্য লজ্জাজনক বলে অভিহিত করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করে বলেন, আঘাতের সংজ্ঞা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। এ সময় তারা অভিযুক্ত গৃহকর্মী রূপালীর কোলের শিশুদের কথা বিবেচনায় নিয়ে মানবিক কারণে জামিন চান।
শুনানিকালে বিচারক প্রধান আসামি বিথী খাতুনের কাছে নির্যাতনের কারণ জানতে চান। বিথী নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি শুধু দু-একটা চড় মেরেছি, দাগ আগে থেকেই ছিল।” তখন আদালত ভুক্তভোগী শিশুর জখমের ছবি দেখিয়ে বলেন, “এত দাগ কই থেকে আসলো? আগে একটি আঘাত থাকলেও বাকি সব জখম যে আপনাদের বাসায় হয়েছে, তা ছবিতে স্পষ্ট।”
পরবর্তীতে আদালত বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুর রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনার পদ অনেক উঁচুতে। আপনার বাসায় এমন জঘন্য কাজ কেন হবে?”
আদালত ১০ কার্যদিবসের মধ্যে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে রিমান্ড চলাকালীন আসামি রূপালী বেগমের ছোট শিশুদের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সে বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে সতর্ক থাকার আদেশ দেন।
ভুক্তভোগী শিশুর বাবা গোলাম মোস্তফা জানান, গত বছরের জুন মাসে ভালো থাকা-খাওয়ার প্রতিশ্রুতিতে মেয়েটিকে ওই বাসায় কাজে দিয়েছিলেন। কিন্তু গত ৩১ জানুয়ারি মেয়েটিকে ফেরত দেওয়ার সময় সারা শরীরে গুরুতর জখম ও খুন্তির ছেঁকা দেখতে পান তিনি। বর্তমানে শিশুটি গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় ১ ফেব্রুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করা হয়।









