‘সিসা লাউঞ্জ’ বন্ধে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের আবেদন

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:১৭আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:১৭

অনুমোদনবিহীন ‘সিসা লাউঞ্জ’ নামের মাদক স্পট বন্ধ, জড়িত কর্মকর্তা শনাক্তকরণ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু এ আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর বনানী, গুলশানসহ সারা দেশে অনুমোদনবিহীন ‘সিসা লাউঞ্জ’ নামের আড়ালে মাদকের শ্রেণিভুক্ত দ্রব্য সেবন ও বেচাকেনা পরিচালিত হচ্ছে— এমন গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব কার্যক্রম যুবসমাজকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে এবং সমাজব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

পুলিশ কমিশনার সাজ্জাত আলী এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের ডিজি মারুফ হোসেনের নির্দেশনায় ইতোপূর্বে বনানী, গুলশানসহ সারা দেশে অভিযান পরিচালনা করে বহু মাদক স্পট বন্ধ ও প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে— যা প্রশংসনীয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে— মাঠ প্রশাসনের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে পুনরায় এসব মাদক স্পট চালু করে দিচ্ছে। ফলে পূর্ববর্তী অভিযানের সুফল বিনষ্ট হচ্ছে।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে মন্তব্য করেছেন যে— মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত অপরাধ দমনে আইন প্রয়োগে কোনও প্রকার শৈথিল্য গ্রহণযোগ্য নয় এবং আইনগত কোনও বাধা নেই। সিসা বা হুক্কা মাদকদ্রব্য, তা অবশ্যই আইনের আওতাভুক্ত হবে।

এছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মাদক উৎপাদন, পরিবহন, সংরক্ষণ, সরবরাহ ও সেবন— সবই দণ্ডনীয় অপরাধ এবং কঠোর শাস্তির বিধান বিদ্যমান। অতএব, সিসা লাউঞ্জের আড়ালে পরিচালিত মাদক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায় কোনও আইনগত বাধা নেই।

আবেদনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে কয়েকটি দাবি জানানো হয়। সেগুলো হলো—

১. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হোক।

২. বনানী, গুলশানসহ সারা দেশে অনুমোদনবিহীন সিসা লাউঞ্জ ও সব মাদক স্পটের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হোক।

৩. প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।

৪. মাদক ব্যবসায় সহায়তাকারী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও পুলিশ বাহিনীর জড়িত কর্মকর্তা বা সদস্যদের শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

৫. অভিযান-পরবর্তী কঠোর মনিটরিং ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হোক, যাতে পুনরায় কোনও মাদক স্পট চালু না হতে পারে।

/বিআই/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ চায় বাংলাদেশ
মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে মাদকবিরোধী যৌথ অভিযান শুরু
জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য থাকবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সর্বশেষ খবর
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
ইরানি ইসলামি শাসনবিরোধী শিল্পী মারজান সাত্রাপির প্রয়াণ
ইরানি ইসলামি শাসনবিরোধী শিল্পী মারজান সাত্রাপির প্রয়াণ
হজে গিয়ে পাসপোর্ট হারালে যা করবেন
হজে গিয়ে পাসপোর্ট হারালে যা করবেন
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী