পুলিশ সংস্কারে জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় সরকার

জামাল উদ্দিন
০৫ মার্চ ২০২৬, ২২:০০আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৬, ২২:১১

পুলিশ সংস্কার ও পুনর্গঠনের জন্য জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনচির সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ সহযোগিতা কামনা করেন। প্রশিক্ষণ, ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিকিং, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। কারণ এসব ক্ষেত্রে জাপান পুলিশের প্রশংসনীয় দক্ষতা রয়েছে। জাপানের পুলিশিং ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম কার্যকর মডেল হিসেবেও বিবেচিত হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, জাপান পুলিশ সংস্কারে প্রধানত পাঁচ ধরনের সহায়তা দিতে পারে। সেগুলো হলো—প্রশিক্ষণ ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, কমিউনিটি পুলিশিং মডেল, প্রশাসনিক ও কাঠামোগত সংস্কার, প্রযুক্তি ও আধুনিক সরঞ্জাম এবং অবকাঠামো উন্নয়ন।

জাপান ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশে পুলিশিং ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও প্রশাসনিক সক্ষমতা উন্নয়নে কাজ করেছে। সে ক্ষেত্রে পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন এবং আধুনিক পুলিশ নীতিমালা তৈরিতে বাংলাদেশ জাপানের সহায়তা নিতে পারে। এছাড়া প্রযুক্তি ও আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহেও জাপান বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগিতা কর্মসূচির মাধ্যমে সহায়তা দিয়ে থাকে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি, স্মার্ট নজরদারি সিসিটিভি, ডাটা সিস্টেম এবং ডিজিটাল অপরাধ বিশ্লেষণ ব্যবস্থার উন্নয়নেও দেশটি সহায়তা করতে পারে।

জাপান কিছু দেশে পুলিশ অ্যাকাডেমি, প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং থানার অবকাঠামো নির্মাণেও সহায়তা করেছে। বাংলাদেশেও আধুনিক পুলিশ প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমি, ট্রাফিক কন্ট্রোল সেন্টার এবং বিশেষায়িত তদন্ত ল্যাব স্থাপনে জাপানের সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে।

৩ মার্চের বৈঠকে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনচি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘‘ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক সেফটি প্রকল্পটি গত বছর শেষ হয়েছে। আমরা পুলিশ ও ডিএমপির সঙ্গে আরও কাজ করতে আগ্রহী।’’

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘জাপান বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু এবং অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার। জাইকার মাধ্যমে দেশটি মেট্রোরেল ও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে। জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতার অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। এর আগে জাপান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক সেফটি ব্যবস্থার উন্নয়নেও কাজ করেছে। ভবিষ্যতে পুলিশ সংস্কার ও পুনর্গঠনে জাপান সহযোগিতা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কয়েকটি প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’’

সংশ্লিষ্টরা জানান, দক্ষ ও সুসংগঠিত পুলিশিং ব্যবস্থার কারণে জাপান পৃথিবীর নিরাপদ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। দেশটিতে অপরাধের হার তুলনামূলক কম এবং পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা অনেক বেশি। ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির মাধ্যমে জাপানে পুলিশের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

জাপানের পুলিশিং ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট পুলিশ বুথ বা ‘কোবান’ ব্যবস্থা। এসব বুথ থেকে পুলিশ সদস্যরা স্থানীয় মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। পথনির্দেশ দেওয়া, হারানো জিনিস উদ্ধার করা, কিংবা ছোটখাটো সমস্যা সমাধানে সাধারণ মানুষকে সহযোগিতা করেন তারা। এর ফলে পুলিশ ও নাগরিকদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয় এবং অপরাধ প্রতিরোধ সহজ হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশেও এ ধরনের কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা জোরদার করা যেতে পারে। পাশাপাশি স্বচ্ছ তদন্ত ব্যবস্থা, স্বাধীন অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত প্রক্রিয়া, অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি দমনে কঠোর ব্যবস্থা এবং মানবাধিকারভিত্তিক আধুনিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন। প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং ও বিশেষায়িত তদন্ত দক্ষতা বাড়ানো গেলে দ্রুত অপরাধ শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

তবে এ ক্ষেত্রে নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, জাপানের নাগরিকরা আইন মেনে চলার সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী এবং সামাজিকভাবে অনেক বেশি সচেতন, যা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান জানান, পুলিশের পুনর্গঠন ও সংস্কারে সহায়তা বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূতের আন্তরিক আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কিছু প্রস্তাবনা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কবে নাগাদ তা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

/এপিএইচ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
থানার ভেতরে আটকে বিএনপি নেতাকে মারলো কারা?
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের মিতসুই কোম্পানির প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ  
বাসা থেকে পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার
সর্বশেষ খবর
পদত্যাগ করেছেন শন টেইট
পদত্যাগ করেছেন শন টেইট
আদ-দ্বীনে ছয় নবজাতকের মৃত্যু: যা আছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে
আদ-দ্বীনে ছয় নবজাতকের মৃত্যু: যা আছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে
চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ ৭ দফা দাবিতে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি
চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ ৭ দফা দাবিতে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু কি এখন দুই পথের পথিক?
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু কি এখন দুই পথের পথিক?
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের