বাংলাদেশে বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত ও কার্যকর করার লক্ষ্যে বেবিচক এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের (এফএসসিডি) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এই সমঝোতা স্মারকের মূল লক্ষ্য হলো দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা এবং দেশব্যাপী বিমানবন্দর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় সম্ভাব্য দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড বা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত, সমন্বিত ও কার্যকর উদ্ধার এবং অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম পরিচালনা নিশ্চিত করা।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর কুর্মিটোলায় বেবিচক সদরদফতরের লেভেল-৬ এ অবস্থিত চেয়ারম্যানের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনাড়ম্বর এক অনুষ্ঠানে এই সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক এবং এফএসসিডির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল।
অনুষ্ঠানে বেবিচকের পরিচালক (এটিএম) মো. শামসুল হক এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের উপপরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) মো. মামুনুর রশিদ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সমঝোতা স্মারকে সই করেন।
এ সময় আরও ছিলেন– বেবিচকের সদস্যরা, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের কর্মকর্তা ও ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক।
এই সমঝোতা স্মারকের মূল উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার বিধি-বিধান অনুযায়ী বিমানবন্দর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় কোনও ধরনের অগ্নিকাণ্ড, দুর্ঘটনা বা অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে দ্রুত ও সমন্বিতভাবে অনুসন্ধান, উদ্ধার এবং অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী উভয় প্রতিষ্ঠান জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা দেন, সমন্বিত প্রশিক্ষণ, তথ্য আদান-প্রদান এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে বিমান চলাচল নিরাপত্তা জোরদারে কাজ করবে। এর ফলে বিমানবন্দর এলাকায় সম্ভাব্য দুর্ঘটনা মোকাবিলা, উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা এবং অগ্নিনির্বাপণ সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।
এছাড়াও, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আসন্ন আন্তর্জাতিক অডিটে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে এই সমঝোতা স্মারক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে নিরাপত্তা ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে দুই প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে এবং দেশের বিমানবন্দরগুলো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।









