কয়েকদিন বাদেই আসছে ঈদুল ফিতর। কর্মজীবী মানুষেরা পেতে যাচ্ছে লম্বা ছুটি। ঈদের এই ছুটিতে নাড়ির টানে বাড়িতে ছোটেন নগরবাসী। এতে করে রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোতে থাকে বাড়ি ফেরা যাত্রীদের ঢল। তবে এবার এই ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোতে এখনও দেখা যায়নি ঘরমুখো মানুষের বড় চাপ।
দূরপাল্লার বাসগুলো নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে গেলেও কিছু রুটে ফাঁকা সিট নিয়েই গাড়ি ছাড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সরকারি-বেসরকারি অফিসে ছুটি শুরু হওয়ার পর, বিশেষ করে ১৭ থেকে ১৮ তারিখের দিকে মূল ঈদযাত্রা শুরু হতে পারে। তবে আপাতত বেশিরভাগ রুটেই টিকিট সহজে পাওয়া যাচ্ছে এবং নির্ধারিত ভাড়াতেই যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে।
রবিবার (১৫ মার্চ) রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল সরেজমিনে ঘুরে বিভিন্ন রুটের বাস কাউন্টারগুলো এবং যাত্রীদের সাথে কথা বলে এই চিত্র দেখা যায়।
গাবতলী বাস টার্মিনালে সকাল থেকেই দূরপাল্লার বাসগুলো যাত্রী নিয়ে একের পর এক ছেড়ে যেতে দেখা যায়। তবে ঈদ সামনে থাকলেও টার্মিনালে এখনও সেই বরাবরের মতো যাত্রীদের ভিড় চোখে পড়েনি। টিকিট কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের ছোটখাটো উপস্থিতি থাকলেও দেখা যায়নি দীর্ঘ লাইন। অনেক যাত্রী কাউন্টারে এসে সরাসরিই টিকিট সংগ্রহ করছেন। কিছু বাসে যাত্রীসংখ্যা পরিপূর্ণ থাকলেও কয়েকটি বাস যাত্রা করে ফাঁকা সিট নিয়েই।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অফিস-আদালত ছুটি শুরু না হওয়ায় এখনও বেশিরভাগ মানুষ ঢাকাতেই অবস্থান করছেন। ফলে টার্মিনালে বড় ধরনের যাত্রীচাপ তৈরি হয়নি। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ঈদযাত্রা জমে উঠবে বলে ধারণা করছেন তারা।
বাস আছে, যাত্রীদের চাপ নেই
বরিশাল-কুয়াকাটা রুটের সাকুরা পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার আজহারুল ইসলাম রাজু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমরা এখনো ঈদের চাপ পাইনি। সবসময় যেরকম থাকে তার থেকে সামান্য যাত্রী বেশি। বাস ফুল হয়েই যাচ্ছে। তবে চাপটা বাড়বে হয়তো ১৮ তারিখ থেকে। আর যাত্রীরা ওই দিনের টিকিটই চাচ্ছে। এমনিতে সময়মতোই যাচ্ছে সব বাস। তবে ১৮ তারিখ থেকে হয়তো একটু এদিক-সেদিক হতে পারে।”
সকাল ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ১০-১২টা বাস ঢাকা ছেড়ে যায়। সেগুলো সময় মতোই ছেড়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
বগুড়া-দিনাজপুর-রংপুরে রুটে চলাচলকারী শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার আমিনুর রহমান বলেন, “আমাদের গাড়ি ফুল হয়ে যাচ্ছে না। ফাঁকা সিটেও গাড়ি ছাড়তে হচ্ছে। কারণ সেভাবে যাত্রী নেই। আমাদের রানিং যে বাসটা যাবে— সেটাতেও এসে যাত্রীরা যেতে পারছে। সিট খালিই রয়েছে। তবে চাহিদা রয়েছে ১৭-১৮ তারিখের বাসের সিটের জন্য। তবে যাত্রীরা সিট পাচ্ছে। পাচ্ছে না এমনটা বলা যাবে না।”
নিজেদের চলাচল করা বাস সার্ভিস নিয়ে তিনি আরও বলেন, “সকাল ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আমাদের ৫০টা গাড়ি যায়। তবে আমাদের বাস টাইম মেনে যেতে পারছে না। এর কারণ হচ্ছে পাম্পে তেল নিতে গিয়ে অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতেই আমাদের সময় শিডিউল মিস হয়ে যাচ্ছে।”
যশোর-সাতক্ষীরাগামী এনআর পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার মো. সোহেল বলেন, “আজ আমরা যাত্রীর অভাবে গাড়ি ছাড়তে পারছি না। অথচ আমাদের ১৭-১৮ তারিখের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গিয়েছে। এখন নতুন গাড়ি যুক্ত হলে আমাদের ওই তারিখের টিকিট পাওয়া যাবে। আসলে ১৬ তারিখ অফিস করে ছুটি শুরু হবে বলেই এমন অবস্থা।”
ঢাকা থেকে খুলনা-সাতক্ষীরা-বেনাপোলগামী সোহাগ পরিবহন (প্রা:) লিমিটেডের কাউন্টার মাস্টার মো. আসিফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “মূলত আজ থেকেই ঈদের যাত্রা মোটামুটি শুরু হয়েছে। আমাদের গাড়ি ফুল হয়েই যাচ্ছে। কোনও সমস্যা হচ্ছে না। টাইম টু টাইমই যাচ্ছে। আমাদের সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আনুমানিক এক থেকে দেড় ঘন্টা পরপর আটটি গাড়ি ছেড়ে যায়।”
যাত্রীরা যা বলছে
লালমনিরহাটগামী যাত্রী শাফিউল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমি আজ ভোরে লালমনিরহাট থেকে অফিসের কাজে ঢাকা এসেছিলাম। আবার আজই চলে যাচ্ছি কাজ শেষে। আমি থাকি লালমনিরহাটেই, তাই এটাকে ঈদের যাত্রা বলা যাচ্ছে না।”
টিকিট পাচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আজকের টিকিটতো পাওয়া যাচ্ছেই। আমি আসলাম আবার যাচ্ছিও। কোনও সমস্যা হচ্ছেনা, চাপও নেই। বাড়তি ভাড়াও নেওয়া হচ্ছে না। সরকার যা নির্ধারণ করে দিয়েছে সেটাই নিচ্ছে।”
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কুষ্টিয়া যাচ্ছেন এক যাত্রী আহাদুজ্জামান। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “আমরা বাড়িতে যাচ্ছি। কিন্তু এটা ঈদযাত্রা না। আমার মা অসুস্থ ছিলেন। চিকিৎসার জন্য ঢাকা থাকতে হয়েছে কিছুদিন। আজ হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি।”
খুব কাছেই ঈদের ছুটি, টিকিট পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা সবার টিকিটই পেয়েছি। টিকিট কিনতে কোনও সমস্যা হয়নি। এভেইলেবল টিকিটই রয়েছে দেখলাম।”
সরোয়ার হোসেন যাচ্ছিলেন বগুড়া। তিনি বলেন, “আজ টিকিট পেতে কোনও সমস্যা হয়নি। আমি ধরে নিয়েছিলাম যেহেতু বড় ছুটি আছে হয়তো টিকিট পাওয়া নিয়ে ঝামেলা হবে। কিন্তু সেরকম কিছুই হয়নি, উল্টো টার্মিনাল দেখছি ফাঁকা।”








