দেশের অন্যতম খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান স্বপ্ন’র বিরুদ্ধে ভয়াবহ ডাটা ফাঁস ও অবহেলার অভিযোগে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মূল কোম্পানি এসিআই লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে এই নোটিশ প্রেরণ করা হয়।
সোমবার (৩০ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার লুৎফে জাহান পূর্ণিমা এই নোটিশ প্রেরণ করেন।
নোটিশে বলা হয়েছে, “২০২৫ সালের আগস্টের দিকে স্বপ্ন’র গ্রাহক ডাটাবেজে গুরুতর নিরাপত্তা ভঙ্গের ঘটনা ঘটে, যেখানে অননুমোদিত তৃতীয় পক্ষ গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যে প্রবেশ করে এবং তা প্রকাশ না করার জন্য মুক্তিপণ দাবি করে। পরবর্তীতে গ্রাহকদের নাম, মোবাইল নম্বর, ক্রয়-সংক্রান্ত তথ্যসহ সংবেদনশীল ডাটা অবৈধভাবে জনসমক্ষে ছড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ করা হয়।”
এতে আরও বলা হয়, “প্রতিষ্ঠানটির ডাটা সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল অপ্রতুল, যা গ্রাহকদের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য সুরক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ সময় ধরে এ বিষয়ে অবগত থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকদের সময়মতো অবহিত করেনি। ফলে তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন।” এতে প্রতারণা, অননুমোদিত লেনদেন ও পরিচয় চুরির ঝুঁকি বহুগুণে বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
নোটিশে অভিযোগ করা হয়, “সুপার শপ স্বপ্ন পরবর্তীকালে সিস্টেম নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি করলেও চুরি হওয়া ডাটা সুরক্ষিত বা অকার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছে— যা গুরুতর অবহেলা ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়।” এতে দেশের বিপুলসংখ্যক গ্রাহক ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
এ ধরনের কর্মকাণ্ড সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের অধীনে নাগরিকদের সমতা, আইনি সুরক্ষা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকারের লঙ্ঘন বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে একে চরম অবহেলা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
তাই আইনি নোটিশে স্বপ্ন কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের তালিকা প্রদান, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত করা, ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা চালু, সাইবার নিরাপত্তা জোরদার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যথায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব নির্দেশনা পালন না করলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে জনস্বার্থে রিটসহ প্রয়োজনীয় দেওয়ানি ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে জানানো হয়েছে।









