ইরান যুদ্ধের জেরে গোটা বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। যুদ্ধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে জ্বালানি খাতে, যা থেকে বাদ যায়নি বাংলাদেশও। রাজধানীসহ সারাদেশের পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও যানবাহন চালকেরা পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত তেল। এই অস্থিরতার মধ্যেও চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল পাচ্ছেন লঞ্চ মালিকরা ও ট্রলার চালকরা।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সরেজমিনে সদরঘাট ও বুড়িগঙ্গার তীর ঘুরে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
লঞ্চ মালিকরা জানান, সার্বিক জ্বালানি সংকট সত্ত্বেও তাদের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল পাওয়ায় লঞ্চ চলাচলে কোনও ধরনের বিঘ্ন ঘটছে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়সূচি ও পূর্বের নিয়ম মেনেই লঞ্চ চলাচল অব্যাহত রয়েছে।
সুন্দরবন-১৬ লঞ্চের ম্যানেজার মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, “চারদিকে জ্বালানি সংকটের খবর থাকলেও আমাদের কার্যক্রমে এর তেমন কোনও প্রভাব পড়েনি। আমরা প্রতিদিনের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত জ্বালানি পাচ্ছি। ফলে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ীই পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। যাত্রীদের সেবাতেও কোনও বিঘ্ন ঘটছে না। সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে, বর্তমানে আমাদের কার্যক্রম পুরোপুরি স্থিতিশীল রয়েছে।”
তাসরিফ-৩ লঞ্চের কর্মী ইবাদত বলেন, “আমাদের লঞ্চ আগের মতোই নিয়মিত চলাচল করছে। জ্বালানি নিয়ে কোনও ধরনের সমস্যা বা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়নি। আমরা প্রতিদিনই প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পাচ্ছি, তাই নির্ধারিত সময়েই লঞ্চ ছেড়ে যাচ্ছে। যাত্রীরাও স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারছেন। এখন পর্যন্ত জ্বালানি সংকটের কোনো নেতিবাচক প্রভাব আমরা অনুভব করিনি।”
এমভি তাসরিফ লঞ্চের ব্যবস্থাপক জালালুদ্দিন বলেন, “সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে আমরা নিয়মিতভাবে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছি। এর ফলে লঞ্চ পরিচালনায় কোনও ধরনের সমস্যা হচ্ছে না। যাত্রীসেবা নির্বিঘ্নভাবে দেওয়া যাচ্ছে।”
রাজধানী দিয়ে বয়ে যাওয়া বুড়িগঙ্গা নদীতে ট্রলার চালান মো. সিদ্দিক হোসেন। জ্বালানি সংকট নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়নি তাকে। সিদ্দিক বলেন, “আমরা নিয়মিত মোহাম্মদপুর, হাসনাবাদ এবং এই পাড় থেকে ওই পাড়ে যাত্রী পারাপার করি। চারদিকে জ্বালানি সংকটের কথা শোনা গেলেও এখন পর্যন্ত আমাদের তেমন কোনও সমস্যা হয়নি। প্রতিদিনের প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পাচ্ছি বলেই ট্রলার চালাতে পারছি।”
আব্দুল কাদের নামে আরেক ট্রলার চালক বলেন, “আমাদের কাজ পুরোপুরি জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে আলহামদুলিল্লাহ তেলের কোনও সংকট অনুভব করছি না। আগের মতোই যাত্রী পারাপার করতে পারছি। ভাড়া বাড়ানোরও প্রয়োজন পড়েনি। সব মিলিয়ে ভালোই চলছে।”
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার ঢাকা নদীবন্দর শাখার আহ্বায়ক ও লঞ্চ মালিক সমিতির সদস্য মো. মামুনুর রশিদ বলেন, “বর্তমানে আমাদের লঞ্চগুলোতে কোনও ধরনের জ্বালানি সংকট দেখা দিচ্ছে না। প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা নিয়মিতভাবে তেল সরবরাহ পাচ্ছি। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে প্রতিদিনের কার্যক্রম নিশ্চিত করছি, যাতে যাত্রীদের যাতায়াতের কোনও ধরনের বিঘ্ন না ঘটে।”









