পিরোজপুর জেলা পুলিশ মেসের তত্ত্বাবধায়ক মো. ইউনুস ফকিরের ওপর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সদস্যদের নৃশংস নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ এবং তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি এই ঘটনাকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভয়ংকর অপপ্রয়োগ হিসেবে অভিহিত করেছে।
এদিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জেলা ডিবি পুলিশের ওসির টাকা চুরির সন্দেহে ইউনুস ফকিরকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার ওপর নির্মম শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাকে মারধর, বৈদ্যুতিক শক প্রদান এবং অমানবিক ও অবমাননাকর আচরণ করা হয়েছে। এমনকি তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে পরিবারের কাছে অর্থ দাবি ও চাপ প্রয়োগের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
ইউনুস ফকিরকে যে ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠে এসেছে, তা শুধু মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন নয়,বরং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভয়াবহ অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত বলে জানায় সংস্থাটি।
বিবৃতিতে আসক উল্লেখ করে, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১, ৩২ এবং ৩৫(৫) অনুচ্ছেদে নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার সুরক্ষিত রয়েছে। এ ছাড়া নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী হেফাজতে নির্যাতন একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনের পক্ষ হিসেবে বাংলাদেশ যে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার করেছে, এ ঘটনায় তারও স্পষ্ট লঙ্ঘন ঘটেছে।
দীর্ঘদিনের দায়মুক্তির সংস্কৃতি ও জবাবদিহিতার অভাবেই এমন বর্বরতা বারবার ঘটছে উল্লেখ করে আসক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি নিম্নোক্ত আহ্বান জানিয়েছে:
১. অভিযুক্ত ডিবি সদস্যদের বিরুদ্ধে ‘নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী দ্রুত মামলা দায়ের, গ্রেফতার এবং বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা;
২. নির্যাতিত মো. ইউনুস ফকিরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে তার পূর্ণাঙ্গ ও মানসম্মত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা;
৩. ভুক্তভোগীর প্রতি ন্যায়বিচারের অংশ হিসেবে তাকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করা;
৪. আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য মানবাধিকার ও পেশাগত নৈতিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ জোরদার করা এবং একটি শক্তিশালী জবাবদিহিমূলক কাঠামো গড়ে তোলা।
মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক ভিত্তি উল্লেখ করে আসক এই ঘটনার দ্রুত, দৃশ্যমান এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে।









