দুর্নীতির ২ মামলায় বিচারপতি মানিকের জামিন আবেদন নাকচ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৯ মে ২০২৬, ১৩:৩৭আপডেট : ২২ মে ২০২৬, ১৬:১২

অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে পূর্বাচলে প্লট আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পৃথক দুই মামলায় অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৯ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন।

দুদক প্রসিকিউটর তরিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দুদকের দুই মামলায় বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের জামিন আবেদন করা হয়। দুদকের পক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। পরে আদালত জামিন নামঞ্জুরের আদেশ দিয়েছেন।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মানিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের  উপ-সহকারী পরিচালক পাপন কুমার শাহ। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলা করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিচারপতি হিসেবে কর্মরত থাকাকালে শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ পাঁচ কোটি ৩৯ লাখ ৬৬ হাজার ৮২০ টাকার সম্পদ অর্জন করেন। মামলায় এসব সম্পদের মালিকানা অর্জন করে তা দখলে রাখা এবং হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

প্লট আত্মসাতের অভিযোগে একই দিনে আরেক মামলা করেন সংস্থাটির উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন। বিচারপতি মানিক ছাড়াও সাতজনকে আসামি করা হয়েছে ওই মামলায়।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আসামিরা যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা ও মিথ্যা হলফনামার মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ নেন। পরবর্তীতে লিজ দলিলের শর্ত ভঙ্গ করে বেআইনিভাবে প্লট হস্তান্তর ও আত্মসাৎ করেন।

দুদক বলছে, নিয়ম অনুযায়ী রাজউকের অধিক্ষেত্রে কারও পূর্বে বাড়ি থাকলে নতুন প্লট বরাদ্দ দেওয়া যায় না। আবেদনকারীকেও প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট সাক্ষরিত হলফনামা দিতে হয়, যাতে বলা থাকবে তিনি বা তার নির্ভরশীলরা এ এলাকায় জমি, ফ্ল্যাট বা বাড়ির মালিক নন।

কিন্তু, শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বাড্ডা থানার ভাটারা মৌজায় পৈতৃক ও ক্রয়কৃত জমি এবং নির্মাণাধীন বাড়ি থাকা সত্ত্বেও হলফনামায় অসত্য তথ্য দেন। পরবর্তীতে রাজউক কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে পূর্বাচল প্রকল্পের প্লট নিজের নামে রেজিস্ট্রি করেন।

১৯৭৮ সালে শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক হাই কোর্টের আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ১৯৯৬ সালে তিনি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হন। ২০০১ সালে সরকার তাকে হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিলেও বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে তাকে অপসারণ করে। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর হাইকোর্টের এক রায়ে তিনি বিচারকের পদে পুনর্বহাল হন। ২০১৩ সালে তিনি পদোন্নতি পেয়ে আপিল বিভাগের বিচারক হন।

২০২৪ সালের ২৩ অগাস্ট সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে স্থানীয় জনতার সহায়তায় আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরদিন সকালে তাকে কানাইঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়। ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে সিলেটের জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

/এআই/এবিএম/
সম্পর্কিত
দুর্নীতির মামলায় পিকে হালদারসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা 
ডেইলি স্টারে হামলা: এক আসামি রিমান্ডে
দুর্নীতির মামলায় আবেদপুত্র সিয়ামের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য শুরু 
সর্বশেষ খবর
আমদানি নীতিতে পরিবর্তন, বিনিয়োগে আসছে নতুন আইন
আমদানি নীতিতে পরিবর্তন, বিনিয়োগে আসছে নতুন আইন
ডেঙ্গুতে প্রাণ গেলো আরও দুজনের, একদিনে হাসপাতালে ভর্তি ১৯০
ডেঙ্গুতে প্রাণ গেলো আরও দুজনের, একদিনে হাসপাতালে ভর্তি ১৯০
সরকারে গিয়ে বিএনপির দলীয় কাজে ভাটা, দল গোছাচ্ছেন কারা?
সরকারে গিয়ে বিএনপির দলীয় কাজে ভাটা, দল গোছাচ্ছেন কারা?
জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্রের খসড়া অনুমোদন মন্ত্রিসভায়
জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্রের খসড়া অনুমোদন মন্ত্রিসভায়
সর্বাধিক পঠিত
বিমানের ওভারটাইম: কেউ ঘুমান রেস্ট রুমে, কেউ মসজিদে, মাসে গচ্চা দেড় কোটি
বিমানের ওভারটাইম: কেউ ঘুমান রেস্ট রুমে, কেউ মসজিদে, মাসে গচ্চা দেড় কোটি
যে কারণে হত্যার শিকার আলোচিত সেই শিশু, খুনি থাকতো পাশের ঘরে
একমাত্র আসামির মৃত্যুদণ্ডযে কারণে হত্যার শিকার আলোচিত সেই শিশু, খুনি থাকতো পাশের ঘরে
খামেনির জানাজায় লাখো মানুষের ঢল, তবে আড়ালে অন্য চিত্র
খামেনির জানাজায় লাখো মানুষের ঢল, তবে আড়ালে অন্য চিত্র
লন্ডন অচল করা ব্রিটিশ-বাংলাদেশি মিলিয়নার হ্যাকার কে এই তালহা
লন্ডন অচল করা ব্রিটিশ-বাংলাদেশি মিলিয়নার হ্যাকার কে এই তালহা
সাত লাখের কথা বলে দুই লাখ গাছ লাগানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বললেন ‘দুঃখজনক’ 
সাত লাখের কথা বলে দুই লাখ গাছ লাগানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বললেন ‘দুঃখজনক’