‘নিষেধ করলে উল্টো হুমকি দেন যাত্রীরা’, শাহজালালে বিশৃঙ্খলা ঠেকাবে কে

ইমরান আলী 
১৭ জুলাই ২০২৬, ১৯:০০আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৬, ১৯:০০

বুধবার (১৪ জুলাই) দুপুর। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আগমনী টার্মিনাল-২-এর বাইরে বের হওয়ার গেট থেকে সামান্য কিছু অংশ ফাঁকা। আর সেই ফাঁকা অংশ ঘিরে শুধু মানুষ আর মানুষের উপচে পড়া ভিড়। সবাই তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন গেটের দিকে— কাঙ্ক্ষিত প্রবাসী স্বজন বের হলেন কিনা, তা দেখার জন্য। আগমনী ক্যানোপি-১-এর চিত্র যেমনই হোক, ক্যানোপি-২-এর অবস্থা আরও শোচনীয়। সেখানে ভিড়ের তীব্রতা এমন যে, অপেক্ষমাণ স্বজনরা যেন বাহির হওয়ার গেট ঠেলে ভেতরেই ঢুকে পড়ছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বিমানবন্দরে ক্যানোপি ঘিরে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তা দুই বছর পার হতে চললেও আর ঠিক হয়নি। অথচ বিমানবন্দরে যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থে যাত্রীসহ সর্বোচ্চ দুই জনের বেশি সঙ্গী আসা যাবে না মর্মে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এর কোনও প্রয়োগ নেই। বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে বিমানবন্দরে নিয়োজিত কোনও সংস্থাকেই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না। ফলে একজন যাত্রীর সঙ্গে ৪-৫ জন বা তারও বেশি স্বজন অনায়াসে চলে আসছেন এবং বিমানবন্দরের ক্যানোপিগুলোতে শৃঙ্খলার লেশমাত্র থাকছে না। সরেজমিন বিমানবন্দর ঘুরে প্রতিনিয়ত এমন দৃশ্যই চোখে পড়ছে। 

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দর্শনার্থীদের ভিড় ২ বছরের পুরনো নির্দেশনা, বাস্তবায়ন শূন্য

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৭ জুলাই ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগত ও গমনকারী যাত্রীদের সঙ্গে সর্বোচ্চ দুই জন সঙ্গী প্রবেশ করতে পারবেন’ মর্মে একটি জরুরি নির্দেশনা জারি করেছিল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিমানবন্দর এলাকার ডিপারচার ড্রাইভওয়ে ও অ্যারাইভাল ক্যানোপিতে যাত্রীপ্রতি সর্বোচ্চ দুইজন ব্যক্তি ভেতরে প্রবেশের অনুমতি পাওয়ার কথা ছিল। যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছিল, ঈদ, ছুটি বা শিক্ষাবর্ষ শেষে অভিভাবকসহ ভ্রমণপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের আগমনে বিমানবন্দরে বাড়তি ভিড় ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে এই নিয়ম প্রয়োজনে আরও কড়াকড়ি করা হতে পারে। এমনকি প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল। তবে আজ একবছর পার হলেও এই নির্দেশনার ছিটেফোঁটাও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে না।

জানেন না যাত্রীরা, চোখের সামনেই চলছে অনিয়ম

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বিমানবন্দরের বহির্গমন ও আগমনী ক্যানোপিতে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখের সামনেই যাত্রীদের সঙ্গে ৩-৪ জন বা তার চেয়েও বেশি স্বজন আসছেন। আগমনী যাত্রীর সঙ্গে ক্যানোপির ভেতরেই আস্ত গাড়ি ভর্তি লোকজন উঠে চলে যাচ্ছেন, অথচ কর্তব্যরত কেউ এই বিষয়ে কোনও কথা বলছেন না।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় বহির্গমন ক্যানোপিতে সৌদি আরবগামী যাত্রী আব্দুল আহাদের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, তাকে বিদায় জানাতে স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে, মা ও বাবার পাশাপাশি আরও দুই প্রতিবেশী একটি হাইস গাড়ি ভাড়া করে এসেছেন। বিধিনিষেধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা এই নিয়ম জানি না, কেউ আমাদের বলেনি। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এখানে বসে আছি, কর্তব্যরত কেউ তো এই বিষয়ে কিছু বললো না।”

একই প্রতিক্রিয়া জানান আরেক যাত্রী আশরাফুল। ৫ জন সঙ্গী নিয়ে আসা এই যাত্রী বলেন, “আমরা বিষয়টি সম্পর্কে জানি না। যদি জানতাম, অবশ্যই নিয়ম মানতাম।” 

কথা বললে উল্টো হুমকি ও ভিডিও করে, দায়িত্বরতদের অসহায়ত্ব

ক্যানোপির ভেতরে লোকে ঠাসা অবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা তার অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, “এখানে কেউ কোনও নিয়ম মানতে চায় না। যাত্রীর সঙ্গে দুই জনের বেশি আসা যাবে না— এটি আমরা জানি, কিন্তু বাস্তবে তা প্রয়োগ করা অনেক কঠিন। লোকজনকে বারণ করলে তারা কথা শোনে না। কিছু বলতে গেলে যাত্রী ও তার স্বজনরা উল্টো আমাদের হুমকি দেন। আবার মোবাইল ফোনে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেয়। এমন পরিস্থিতিতে আমরা কী করবো বলুন? তবে আমরা আমাদের মতো করে শৃঙ্খলা রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। জনগণ সচেতন না হলে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা অসম্ভব।”

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দর্শনার্থীদের ভিড় এই বিষয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমরা ক্যানোপির ভেতরে অতিরিক্ত মানুষ না আসার জন্য জনসাধারণকে প্রতিনিয়ত বলে যাচ্ছি এবং সচেতন করার চেষ্টা করছি। কিন্তু তারা কোনও কথাই শুনতে চান না। তারপরও আমাদের পক্ষ থেকে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং সবাইকে এই ব্যাপারে সতর্ক করা হচ্ছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা নিজেরা নাগরিক হিসেবে সচেতন না হলে কেবল সরকারি নির্দেশনা দিয়ে এই পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।”

/এসটি/
সম্পর্কিত
আতঙ্কের নাম ডেভিড ইমন, কেন ধরতে পারছে না পুলিশ
শাহজালালে ভিজছে আমদানি পণ্য, ক্ষতির শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা
ডিএফটি ও আইকাও অডিট সামনে রেখে জোর প্রস্তুতি বেবিচকের
সর্বশেষ খবর
এয়ারপোর্টে নামলেই বুফেতে যত খুশি ডুরিয়ান, আকর্ষণ মুসাং কিং
এয়ারপোর্টে নামলেই বুফেতে যত খুশি ডুরিয়ান, আকর্ষণ মুসাং কিং
‘মানুষ আসলেই কি মানুষকে ভালোবাসে’, প্রশ্ন রেখে নিজেকে শেষ করলেন কনস্টেবল সাইদুল
‘মানুষ আসলেই কি মানুষকে ভালোবাসে’, প্রশ্ন রেখে নিজেকে শেষ করলেন কনস্টেবল সাইদুল
দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
চাকরির প্রলোভনে কম্বোডিয়ার সাইবার প্রতারণা-চক্রে বাংলাদেশিরা
চাকরির প্রলোভনে কম্বোডিয়ার সাইবার প্রতারণা-চক্রে বাংলাদেশিরা
সর্বাধিক পঠিত
খেতাবপ্রাপ্ত ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন ভাতা নির্ধারণ
খেতাবপ্রাপ্ত ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন ভাতা নির্ধারণ
তিন ধরনের কেক-পাউরুটি বিক্রি বন্ধের নির্দেশ
তিন ধরনের কেক-পাউরুটি বিক্রি বন্ধের নির্দেশ
এনসিপির সমাবেশে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান
এনসিপির সমাবেশে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান
বুফে আর বাফেটের মধ্যে পার্থক্য কী
বুফে আর বাফেটের মধ্যে পার্থক্য কী
শহীদ আবু সাঈদের স্মরণসভায় লোক কম দেখে মন্ত্রী বললেন, ‘আমি হতাশ’
শহীদ আবু সাঈদের স্মরণসভায় লোক কম দেখে মন্ত্রী বললেন, ‘আমি হতাশ’