দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীতে পানি বাড়তে থাকায় পাঁচ জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি কয়েকটি স্থানে বিপদসীমার অতিক্রম করতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
একই সময়ে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও আরও বাড়তে পারে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এ দুই নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। তবে আগে থেকে বন্যাকবলিত এলাকায় পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকাল ৩টায় প্রকাশিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় দুর্যোগ সাড়াদান সমন্বয় কেন্দ্রের দৈনিক দুর্যোগ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
কুশিয়ারার দুই পয়েন্টে বিপদসীমার ওপরে পানি
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ ও মারকুলি স্টেশনে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
শনিবার সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের মারকুলি স্টেশনে পানির উচ্চতা ছিল ৭ দশমিক ১৩ মিটার, যা বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপরে। তবে আগের ২৪ ঘণ্টায় সেখানে পানি ৮ সেন্টিমিটার কমেছে।
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনে পানির উচ্চতা ছিল ৯ দশমিক ৮০ মিটার, যা বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপরে। সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় পানি ১ সেন্টিমিটার বেড়েছে।
দেশের ১২৭টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৭৯টিতে নদীর পানি বেড়েছে, ৪১টিতে কমেছে এবং সাতটিতে অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে দুটি স্টেশনে পানি বিপদসীমার ওপরে রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান তুহিন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীর পানি বেড়েছে। এ প্রবণতা আগামী পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
তিনি জানান, আগামী ২০ থেকে ২২ জুলাই ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের কয়েকটি স্থানে সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও পানি প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় কীর্তনখোলা, লোয়ার মেঘনা, পশুর, ইছামতী, কর্ণফুলী, ছোট ফেনী ও নোয়াখালী খালসহ বিভিন্ন নদীতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি জোয়ার দেখা যাচ্ছে। আগামী এক দিনও এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।
উজানে ভারী বৃষ্টি, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সংকেত
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে নীলফামারীর ডালিয়ায়। এছাড়া ছাতকে ৮৯ মিলিমিটার, ঠাকুরগাঁওয়ে ৮২, জাফলংয়ে ৭৯, মহেশখোলায় ৬৯, পঞ্চগড়ে ৬৭, সিলেটে ৬৬ এবং কুড়িগ্রামে ৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশের উজানে ভারতের মাওসিনরামে ৩৮৯ মিলিমিটার, আরকে এম সোহরায় ২৮০ মিলিমিটার এবং চেরাপুঞ্জিতে ২৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। উজানের এই ভারী বৃষ্টির প্রভাব দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীতে পড়তে পারে।
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্য বেশি থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
এছাড়া খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রংপুর বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। ১৮ ও ১৯ জুলাই রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং অন্য বিভাগগুলোর অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। ২০ থেকে ২২ জুলাই দেশের আট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে।
বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসেও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
এদিকে মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ জুলাই রাত ১২টা থেকে ১৬ জুলাই রাত ১২টা পর্যন্ত সারাদেশে ১০টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। এর মধ্যে ঢাকায় ছয়টি এবং ময়মনসিংহ, বরিশাল, সিলেট ও রংপুর বিভাগে একটি করে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।









