বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে আকাশপথে বিমান চলাচলে নতুন মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। এখন বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে সপ্তাহে ৮৪টি করে ফ্লাইট পরিচালনা করা যাবে, যা আগে ছিল মাত্র ৪৯টি। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ হাসান সিদ্দিকের নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সাম্প্রতিক সৌদি আরব সফরকালে এই দ্বিপক্ষীয় চুক্তিটি সম্পাদিত হয়েছে।
গত ৫ আগস্ট সৌদি আরবে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি সই হয়। বর্তমানে বেবিচক চেয়ারম্যানসহ প্রতিনিধিদলটি সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই তিনি সাংবাদিকদের এই চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গত ৩ আগস্ট তিনি প্রতিনিধিদল নিয়ে সৌদি সফরে যান।
হজ ও ওমরাহ মৌসুমের অনিশ্চয়তা অবসান
অ্যাভিয়েশন খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই চুক্তির ফলে প্রতিবছর হজ ও ওমরাহ মৌসুমে ফ্লাইট শিডিউল এবং অবতরণের অনুমতি (স্লট) নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের জটিলতা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে। এতদিন হজ মৌসুম এলেই বাংলাদেশি বিমান সংস্থাগুলোকে সৌদি আরবের বিমানবন্দরে উড্ডয়ন ও অবতরণের অনুমতি পেতে চরম বেগ পেতে হতো। শেষ মুহূর্তে স্লট বরাদ্দ পাওয়া, অনাকাঙ্ক্ষিত সময়ে ল্যান্ডিং অনুমোদন কিংবা হঠাৎ শিডিউল পরিবর্তনের কারণে আশকোনা হজ ক্যাম্প ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাজার হাজার হজযাত্রীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বের কারণে এয়ারলাইন্সগুলোকেও দিতে হতো বিপুল অঙ্কের আর্থিক খেসারত। নতুন চুক্তি অনুযায়ী সাপ্তাহিক ফ্লাইট সংখ্যা ৩৫টি বাড়ায় এই সমস্ত অনিশ্চয়তা কেটে যাবে এবং আর্থিক ক্ষতি থেকেও রক্ষা মিলবে।
কমবে টিকিটের দাম ও প্রবাসী দুর্ভোগ
বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দুই দেশের বিভিন্ন এয়ারলাইনস মিলিয়ে সপ্তাহে সর্বমোট ৪৯টি প্রস্তাবিত ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছিল। তবে সৌদি আরবে অবস্থানরত লাখ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী, বছরজুড়ে চলতে থাকা ওমরাহ যাত্রী এবং হজ মৌসুমের অতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে এই সংখ্যা ছিল অত্যন্ত অপ্রতুল। চাহিদার তুলনায় সিট কম থাকায় প্রতিবছর ঢাকা-সৌদি রুটে উড়োজাহাজের টিকিটের দাম আকাশচুম্বী হয়ে যেতো, যার চূড়ান্ত ভুক্তভোগী হতেন সাধারণ প্রবাসী কর্মীরা।
এই সংকট নিরসনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সপ্তাহে অতিরিক্ত ৩৫টি বাড়িয়ে মোট ৮৪টি ফ্লাইট পরিচালনার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়। বেবিচক চেয়ারম্যানের সফল কৌশলগত আলোচনায় সৌদি কর্তৃপক্ষ তা অনুমোদন দিয়ে চুক্তিতে সই করে। এর ফলে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে সরাসরি রিয়াদ, জেদ্দা, দাম্মাম ও মদিনা রুটে দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট সংখ্যা আশাতীতভাবে বাড়বে। যা বাজারে বিমানের টিকিটের কৃত্তিম সংকট কাটাতে এবং টিকিটের মূল্য সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে নিয়ে আসতে বড় ভূমিকা রাখবে।
পছন্দসই সময় ও পরিচালন ব্যয় কমানোর সুযোগ
জানা গেছে, এতদিন ধরে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস তাদের ব্যবসায়িক সুবিধা অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত সময়ে উড্ডয়ন বা অবতরণের অনুমতি পাচ্ছিল না। অনেক ক্ষেত্রে মধ্যরাত বা অপ্রতুল সময়ে স্লট দেওয়ায় যাত্রীদের যাতায়াতে যেমন চরম ভোগান্তি হতো, তেমনই দেশীয় উড্ডয়ন সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যেতো।
চুক্তিটি বাস্তবায়নের ফলে এখন থেকে সুবিধাজনক সময়ে ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা এয়ারলাইনসগুলোর পরিচালন ব্যয় অনেকাংশে কমিয়ে আনবে এবং যাতায়াত আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করবে।

সাশ্রয়ী ও নিরাপদ হজ নিশ্চিতে যেসব উদ্যোগের কথা জানালেন মন্ত্রী 







