দেশের তিনটি গ্রামকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে গড়ে তুলছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী গ্রাম, রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর গ্রামক।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পানখালী, মিতিঙ্গাছড়ি ও নাফানগরকে এসডিজি ভিলেজ হিসেবে উদ্বোধন করবেন।
এসডিজি ভিলেজ কী?
এসডিজি বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা জাতিসংঘ ঘোষিত ১৭টি বৈশ্বিক লক্ষ্যের সমন্বিত কাঠামো। দারিদ্র্য দূরীকরণ, মানসম্মত শিক্ষা, সুস্বাস্থ্য, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন, লিঙ্গসমতা, কর্মসংস্থান, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন লক্ষ্য এতে অন্তর্ভুক্ত।
এসব লক্ষ্যকে স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সমন্বয় করে একটি গ্রামকে উন্নয়নের মডেল হিসেবে গড়ে তোলার ধারণাই ‘এসডিজি ভিলেজ’।
এ ধরনের গ্রামে শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান, পরিবেশ, নারীর ক্ষমতায়ন ও ডিজিটাল সেবার মতো বিভিন্ন খাতকে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া হয়। লক্ষ্য হলো এমন একটি স্বনির্ভর, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্প্রদায় গড়ে তোলা, যেখানে উন্নয়নের সুফল থেকে কেউ পিছিয়ে থাকবে না।
যেসব বিষয়ে কাজ করবে সরকার
এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যের আলোকে নির্বাচিত গ্রামগুলোতে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
দারিদ্র্য ও বেকারত্ব কমানো; জলাবদ্ধতা নিরসন; মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা; স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন; শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানো; নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করা; নারীর ক্ষমতায়ন; নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো; পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণ; কৃষি ও স্থানীয় জীবিকার উন্নয়ন; কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা; ডিজিটাল সেবা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো।
গ্রামের মানুষের কী লাভ?
স্থানীয়দের আশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা কমবে এবং গ্রামগুলোর জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসবে।
বিদ্যুৎ ও অন্যান্য মৌলিক নাগরিক সুবিধা বাড়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন পদ্ধতির ব্যবহার বাড়তে পারে। শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরিতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও নেওয়া হবে।
মৌলিক সেবা নিশ্চিত হলে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
বাংলাদেশে প্রথম উদ্যোগ
গ্রামীণ উন্নয়নে এসডিজি ভিলেজের ধারণা ইতোমধ্যে বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশে প্রয়োগ করা হয়েছে। চীন, ইন্দোনেশিয়া ও উগান্ডায় এ ধরনের মডেল নিয়ে কাজ হয়েছে।
সেসব উদ্যোগ থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলাদেশেও এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যকে স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচিত গ্রামগুলোকে মডেল হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত উন্নয়নকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে এসব গ্রামকে টেকসই উন্নয়নের উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।









