যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করে দেশকে বিপদে ফেলেছে অন্তর্বর্তী সরকার: আনু মুহাম্মদ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৭:০৮আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৭:০৮

গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে দেশকে মহাবিপদের মধ্যে ফেলে দিয়ে গেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এখন সংসদে সরকারি এবং বিরোধী দল দু-পক্ষই এই চুক্তির ভয়াবহতা নিয়ে নীরব রয়েছে। শুধু তাই নয়, সেগুলো বাস্তবায়নেরও উদ্যোগ নিচ্ছে। এটি দুঃখজনক।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিল, ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণবাস্তবায়নসহ চার দফা দাবিতে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির উদ্যোগে ঢাকা থেকে ফুলবাড়ী প্রচারযাত্রার উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

২৪ আগস্ট থেকে ২৬ আগস্ট ফুলবাড়ী অভ্যুত্থানের ২০ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে ঢাকা থেকে ফুলবাড়ী পর্যন্ত এ প্রচারযাত্রার আয়োজক গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি।

কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঢাকা থেকে ফুলবাড়ী পর্যন্ত প্রচার যাত্রাটি আয়োজিত হচ্ছে চারটি দাবিতে। সেগুলো হলো– দেশবিরোধী মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিল, ফুলবাড়ি চুক্তির পূর্ণবাস্তবায়ন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের জনবান্ধব সমাধান এবং জ্বালানি, বিদ্যুৎ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে বেসরকারিকরণ বন্ধ করা।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলসহ বেশকিছু দাবি নিয়ে এই প্রচারযাত্রা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসবগুলোর দাবিই হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যের বিরুদ্ধে। আমাদের আজকের এই প্রচারযাত্রার মূল লক্ষ্য হলো জনগণের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করা এবং জাতীয় সংকটের জনবান্ধব সমাধান করা।’

তিনি বলেন, ‘কোনও দেশের সরকার জনগণের বিরুদ্ধে গেলে জনগণের অধিকার ও দায়িত্ব হলো সরকারের বিরোধিতা করা এবং দেশের ভবিষ্যৎকে নিরাপদ ও জনগণের পক্ষে রাখা।’

আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, ‘২০০৬ সালে ফুলবাড়ীতে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোটের সরকারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একটি চুক্তি সই করেছিলেন। সেই চুক্তির মূল কথা ছিল বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী আর কোনও উন্নয়ন প্রকল্প হবে না, উন্মুক্ত খনি তৈরি হবে না এবং জনগণের সম্মতি ছাড়া কোনও উন্নয়ন প্রকল্প হবে না। সেই চুক্তি সই ২০ বছর পর আবার বিএনপি সরকার এখন ক্ষমতায়। আমরা উদ্বিগ্ন হচ্ছি, যেই চুক্তি খালেদা জিয়া করে গিয়েছিলেন, সেই চুক্তি বাতিলের কথা বলছেন, তার সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাই সেই তৎপরতার মুখে ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে আমরা এই প্রচারযাত্রা করছি।’

সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা ঋতু বলেন, ‘একটি দেশের সরকার যখন অনৈতিক হয় এবং সার, বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি কিছু ব্যবসায়ী ও মাফিয়া গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি থাকে, তখন সাবঅল্টার্ন সেই কৃষক, শ্রমিকেরা প্রতিবাদ গড়ে তোলে। এখন সারের সংকটে কৃষকদের বিক্ষোভ দেখছি, বিদ্যুতের অভাবে ভোক্তাদের বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করতে দেখছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগের সরকার যে পথে হাঁটছিল, বর্তমান সরকার সেই একই পথে হাঁটছে। আমরা দেখেছি এর আগে বিদ্যুৎ খাতকে বেসরকারিকরণের ফলে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে, কিন্ত সংকট সমাধান হয়নি। আমরা দেখেছি, এলপিজি বাজারে অস্থিরতা চলেছে মানুষকে বেশি দাম দিয়ে এলপিজি কিনতে হয়েছে। এখনও সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে ৩০ শতাংশ গ্যাস রাশিয়া থেকে আমদানি করে। এই বছরেও ১৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে সরকারকে। অথচ দেশীয় গ্যাস উত্তোলনে বিনিয়োগ করা হয়েছে মাত্র ১ হাজার কোটি টাকা। এই যে দেশীয় সক্ষমতাকে বিকাশ করার ক্ষেত্রে সরকারের বিনিয়োগের যে অনীহা তা প্রমাণ করে, সরকার আসলে বিভিন্ন ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর লুটপাটের অর্থনীতিকেই উৎসাহ করছে।’

/এমকে/আরকে/
সম্পর্কিত
আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দামে রেকর্ড
ইরানের বিরুদ্ধে ‘ডি-ডে’র হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের, জবাবে আরও বড় হুমকি তেহরানের 
মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় জ্বালানির দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত ইরানের
সর্বশেষ খবর
দক্ষিণ এশিয়ার জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের তাগিদ
দক্ষিণ এশিয়ার জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের তাগিদ
চেকপোস্টে জিজ্ঞাসাবাদের পর বাসায় গিয়ে মিললো বিদেশি অস্ত্র, গ্রেফতার ৬
চেকপোস্টে জিজ্ঞাসাবাদের পর বাসায় গিয়ে মিললো বিদেশি অস্ত্র, গ্রেফতার ৬
আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দামে রেকর্ড
আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দামে রেকর্ড
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিবের পরিচয়ে প্রতারণা, গ্রেফতার ১ 
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিবের পরিচয়ে প্রতারণা, গ্রেফতার ১ 
সর্বাধিক পঠিত
জেলেদের সঙ্গে ট্রলারেই দুপুরের খাবার খেলেন প্রতিমন্ত্রী
জেলেদের সঙ্গে ট্রলারেই দুপুরের খাবার খেলেন প্রতিমন্ত্রী
খেজুর-শসার সূত্র ধরে চার খুনে জড়িতদের যেভাবে ধরলো পুলিশ
খেজুর-শসার সূত্র ধরে চার খুনে জড়িতদের যেভাবে ধরলো পুলিশ
‘ঢাকায় যদি ফুটপাতে একটা দোকান থাকে, মিজানেরটাও থাকতে হইবো’
‘ঢাকায় যদি ফুটপাতে একটা দোকান থাকে, মিজানেরটাও থাকতে হইবো’
৩ দেশে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করা সাবেক ভারতীয় কূটনীতিককে দিতে হচ্ছে নাগরিকত্বের প্রমাণ
৩ দেশে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করা সাবেক ভারতীয় কূটনীতিককে দিতে হচ্ছে নাগরিকত্বের প্রমাণ
মাজারের সেই কুমির এখন কক্সবাজারে
মাজারের সেই কুমির এখন কক্সবাজারে