কণ্ঠশিল্পী কৃষ্ণকলির গৃহকর্মী জান্নাত আকতার শিল্পী আত্মহত্যা করেছেন বলে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ এ বিষয়ে গতসপ্তাহে আদালতে একটি প্রতিবেদন দেওয়ার পর কৃষ্ণকলির স্বামী খালেকুর রহমান অর্ক কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছেন।
শেরে বাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুশীল চন্দ্র বর্মন বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে গৃহকর্মী শিল্পীর গলায় ফাঁস লেগে মৃত্যু হয়েছে। তিনি নিজেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।’
এসআই বলেন, ‘গৃহকর্মীকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছিল কিনা? তা জানতে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছিলাম। এরপর তার ময়নাতদন্ত করা হয়। ময়নতাদন্তের রিপোর্টে ধর্ষণের কোনও আলামত পাওয়া যায়নি। ওই রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তাকে হত্যা করাও হয়নি। তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।’
গত ২৩ মার্চ কৃষ্ণকলির শেরে বাংলা নগর থানা এলাকার বাসায় একটি কক্ষের সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় শিল্পীকে পাওয়া যায়। তাকে নামিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান কৃষ্ণকলির স্বামী খালেকুরসহ কয়েকজন। পরে চিকিৎসক গৃহকর্মীকে মৃত ঘোষণা করেন। সেদিনই গ্রেফতার করা হয় খালেকুরকে।
আরও পড়ুন: ৫ দিনের রিমান্ডে শফিক রেহমান
খালেকুর দাবি করেছিলেন,গৃহকর্মী আত্মহত্যা করেছেন। তবে পুলিশ তারপরও ওই গৃহকর্মীর লাশের ময়নাতদন্ত করার জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। খালেকুরকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করে আদালতে পাঁচদিনের রিমান্ড চান এসআই সুশীল চন্দ্র বর্মন। আদালত তাকে দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে হাজির করে পুলিশ। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গত ৩০ মার্চ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেয় ঢামেক হাসপাতাল। এরপর মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুশীল আদালতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টসহ খালেকুরের বিরুদ্ধে আনিত ৫৪ ধারা খারিজ করে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। আদালত ওই প্রতিবেদন গ্রহণের পর কারাগার থেকে মুক্তিপান খালেকুর।
এসআই বলেন,‘মেডিক্যাল প্রতিবেদনে যেহেতু কিছু পাওয়া যায়নি, তাই খালেকুরকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এটি আত্মহত্যা।’
আত্মহত্যার কারণ হিসেবে এসআই বলেন,‘কৃষ্ণকলির বাসায় গৃহকর্মীকে আর কাজে রাখবে না বলে জানিয়েছিল। এতে রাগ করে তিনি আত্মহত্যা করেন। গরিব মানুষ তিনি পেটের টানে ঢাকায় এসেছেন, যদি আবার ঢাকা থেকে চলে যেতে হয়। এসব ভেবে রাগ করেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তাকে বাড়ি পাঠানোর কথা ছিল।’
তবে কী কারণে তাকে কাজ থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি শুধু এটুকু জানি তাকে কাজ থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কী কারণ তা আমি জানি না।’
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকেও আর কোনও অভিযোগ নাই বলে জানিয়েছেন এসআই সুশীল।
ঘটনার দেড়মাস আগে রাশেদা নামের এক নারী গৃহকর্মী শিল্পীকে কৃষ্ণকলির বাসায় কাজে দিয়েছিলেন। তার বাড়ি নেত্রকোনায়।
/এআরআর/ এপিএইচ/








