বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনকে বিদায় জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় রাষ্ট্রদূতের সম্মানে বিদায়ী মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন তিনি।
মধ্যাহ্নভোজে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকীসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
পররাষ্ট্র সচিব বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক জোরদারে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের প্রায় চার বছরের দায়িত্বকালের অবদানের প্রশংসা করেন। চলতি বছরের জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সফরটি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এ সময় দুই দেশ সম্পর্ককে ‘নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যতের চীন-বাংলাদেশ সম্প্রদায়’-এ উন্নীত করেছে।
সফরের সফল ফলাফল, বিশেষ করে যৌথ বিবৃতি প্রকাশে চীনের সহযোগিতারও প্রশংসা করেন পররাষ্ট্র সচিব।
তিনি তিস্তা নদীর ব্যাপক ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, নদী ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা, চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর এবং বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলসহ (সিইআইজেড) বিভিন্ন চলমান সহযোগিতার ক্ষেত্র তুলে ধরেন। এসব উদ্যোগে গতি বজায় রাখার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বিদায়ী মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করায় পররাষ্ট্র সচিবকে ধন্যবাদ জানান। বাংলাদেশে প্রায় চার বছরের দায়িত্বকালকে ঘটনাবহুল ও স্মরণীয় উল্লেখ করে তিনি এ সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর, যৌথ বিবৃতি প্রকাশসহ দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন অগ্রগতির কথা স্মরণ করেন।
চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম সহজতর করতে সরকারের সহযোগিতার প্রশংসা করেন ইয়াও ওয়েন। তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডোরের কাজ দ্রুত শুরুর আশাও প্রকাশ করেন তিনি।
বহুপাক্ষিক ফোরামে বাংলাদেশের প্রতি চীনের অব্যাহত সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করে রাষ্ট্রদূত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের জন্য চীনের ৮ লাখ মার্কিন ডলার অনুদানের কথাও উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা আগামী দিনে আরও গভীর ও বিস্তৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করে দুই পক্ষ। সাম্প্রতিক প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে স্বাক্ষরিত সমঝোতাগুলোর বাস্তবায়নে উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ ও কার্যকর ফলোআপের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিদায়ী রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি বন্ধুত্ব ও উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মধ্যাহ্নভোজ শেষে পররাষ্ট্র সচিব ও রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উপহার বিনিময় করেন। এ সময় পররাষ্ট্র সচিব তার ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য শুভকামনা জানান।









