রাজধানীর উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাউশেদ আলম নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রকে চড়- থাপ্পড় দিয়েছেন। এদিকে শিক্ষার্থীকে মারধরের বিষয়টি বাইরে চলে আসায় অভিভাবকরা সক্রিয় হয়েছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক জাউশেদ আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাকে নিয়ে কয়েকজন ছাত্র কটূ মন্তব্য করে বলে আমার কানে আসে। সেই ছাত্রটিও কটূক্তি করেছিল। আমি তার কাছে সেইদিন জানতে চেয়েছিলাম, কারা এমন কথা বলে। এক পর্যায়ে আমি তাকে কয়েকটা চড় থাপ্পড় দিয়েছি। চড় থাপ্পড়ের কথা স্বীকার করলেও তিনিও এও বলেন, এটা এমন কিছু বড় বিষয় না।
কী এমন বলেছে যাতে মারধর করতে হলো প্রশ্নে এই শিক্ষক বলেন, সেইদিন আমি যখন করিডর দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন ওই শিক্ষার্থী আমাকে ‘সিএনজি’ বলে ডাক দেয়। আমি তাকে ডেকে এনে হালকা চড়-থাপ্পড় দিয়েছি। আর কে কে এমন কথা বলে জানার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সে কিছুই বলেনি।শিক্ষার্থীকে এভাবে মারধর করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে, সেটা তিনি জানেন কিনা প্রশ্নে শিক্ষক চুপ করে থাকেন। তিনি বলেন, বিষয়টিকে যতটা বড় করে তোলা হলো ততটা বড় নাও হতে পারতো।
আরও পড়ুন: দুই সাংবাদিককে বহিষ্কার করল জবিসাস
এদিকে অভিভাবকরা বলছেন, বিশ্বাস করেন আর নাইবা করেন, আমরা অভিভাবকরাও আমাদের বাচ্চাদের কোনও সমস্যার কথা স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে বলতে সাহস পাই না। তারা কথায় কথায় বলে থাকেন, পছন্দ না হলে বাচ্চা নিয়ে যান। এটাতো কোনও কথা হতে পারে না। এদিকে উদয়ন বিদ্যালয়ে নির্যাতনের শিকার এই শিক্ষার্থীর ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর প্রায় ৫০ জন অভিভাবক আজ সোমবার সকালে বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করতে এসে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের বিদ্যালয়ের মূল ফটকের ভেতরেই ঢুকতে দেয়নি কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষক জাউশেদের হাতে শিক্ষার্থীকে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ উম্মে সালেমা বেগম। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার আছে। টেলিফোনে আমি কিছু বলতে পারব না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এদিকে, প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী জানান, নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্র উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। ঘটনার দিন ১৩ এপ্রিল সে অঙ্কের শিক্ষক জাকির হোসেনের ক্লাস করছিল। এ সময় শিক্ষক জাউশেদ আলম তাকে ক্লাস থেকে ডেকে এনে মারধর করেন।
আরও পড়ুন: জবির ৩ শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত
একটি ব্লগপোস্টে ওই স্কুলের এক শিক্ষার্থী সেদিনের ঘটনার বর্ণনা লেখেন এভাবে, ঘটনাটি ১৩ এপ্রিল বুধবারের। চতুর্থ পিরিয়ডে গণিত ক্লাস চলার সময় গোঙানির আওয়াজ শুনলাম। ক্লাসের অনেকেই শুনেছে। কিন্তু কেউ উচ্চবাচ্য না করায় আমিও চুপ করে রইলাম। এরপর এলো ধস্তাধস্তির আওয়াজ। দেখলাম বাইরে একজন শিক্ষক এক ছাত্রকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করছেন ও মারছেন। লাথি, কিল, ঘুসি কিছুই বাদ যায়নি।এতো মার খেয়েও ছাত্রটি একবারও প্রতিবাদ করছে না। কেবল ওকে বলতে শুনলাম, "স্যার আমি কী করেছি?" যতবার ও জিজ্ঞেস করছে ততবার মার খাচ্ছে। মার খেয়ে মাটিতে পড়ে যাওয়ার পর দেখলাম ওকে পা দিয়ে পিষ্ট করা হচ্ছে।
জাউশেদ আলম তদন্ত চলাকালে বিদ্যালয়ে কী করছেন জানতে চেয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা অভিভাবকরা বলেন, তদন্ত চলবে যখন তখন তাকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে রাখতে হবে। শুনতে পেয়েছি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলছেন তদন্ত কমিটির শিক্ষকরা। শিক্ষার্থীরা ভয়েই কিছু বলবে না। আমরাইতো ভয় পাই।
তদন্ত কমিটি প্রসঙ্গে জাউশেদ আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তদন্ত কমিটি কাজ করছে, শিক্ষার্থীদের সাক্ষাতকার নেওয়া চলছে। আপনি কী করে তদন্ত কমিটির বিষয়ে এতো কিছু জানেন প্রশ্ন করা হলে তিনি চুপ করে গিয়ে বলেন, আমি আসলে তদন্ত কমিটি নিয়ে কথা বলতে পারবো না।
উল্লেখ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শারীরিক ও মানসিক শাস্তি বন্ধে ২০১০ সালের ৯ আগস্ট সরকারের পক্ষ থেকে একটি পরিপত্র জারি করা হয়।
এপিএইচ/








