কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ১০ বছর বয়সী শিশুর ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামির জামিনে উদ্বেগ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এবং আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠন দুটি এ প্রতিক্রিয়া জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ ভেড়ামারা উপজেলার কুটিবাজার এলাকার জামিলাতুন নিসা আদর্শ মহিলা হাফিজিয়া মাদ্রাসায় আবাসিক শিক্ষার্থী ১০ বছর বয়সী শিশুটিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান তার মা। পরে তাকে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানকার চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠান।
পরদিন, ১৬ মার্চ শিশুটিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের চিকিৎসকের পরীক্ষায় শিশুটির যৌনাঙ্গে অভ্যন্তরীণ আঘাতের চিহ্ন (হাইমেন ডিসরাপচার) পাওয়া যায়। এ ঘটনায় যৌন নির্যাতনের সন্দেহ তৈরি হয়। ওই দিন রাতে শিশুটির মা ভেড়ামারা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও সুপার মাওলানা মো. সাইদুর রহমানসহ তিনজনকে আসামি করা হয়।
সংগঠন দুটি জানায়, ঘটনার শুরু থেকেই তারা মামলার অগ্রগতি অনুসরণ করছে। এমন গুরুতর অভিযোগের মামলায় প্রধান আসামির জামিনের খবরে তারা উদ্বিগ্ন। তাদের ভাষ্য, ডিএনএ পরীক্ষার ফল বিবেচনায় আসামিকে জামিন দেওয়া হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিশুটির শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এবং ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আলামত সংগ্রহের সময়সীমা বিবেচনা না করে শুধু ডিএনএ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জামিনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে সংগঠন দুটি। এ সিদ্ধান্তে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সংগঠন দুটি আরও জানায়, শিশুটির জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও ন্যায়বিচারের পক্ষে তাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তার পরিবারের ওপর যেকোনও ধরনের চাপ বন্ধ করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোটের পক্ষে বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন সুলতানা কামাল, শাহিন আনাম, শীপা হাফিজা, জিনাত আরা হক, ফওজিয়া খোন্দকার ইভা, রেখা সাহা, মাহবুবা বেগম হেনা, সেলিনা আহমেদ, সাহিদা পারভীন শিখা, কাজী সুফিয়া, বনশ্রী মিত্র নিয়োগী, জিয়াউল আহসান, রাবেয়া বেগম, হাসিনা বেগম নীলা, লায়লা আরজুমান্দ বানু, রিজিয়া পারভীন, স্বপন কুমার বর্মণ, ফারহানা হাফিজ, শাহনাজ সুমি, মাহফুজা হক নীলা, ইলিরা দেওয়ান, ড. নীলিমা আখতার, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রয়েল, অ্যাডভোকেট বশির আহমেদ চৌধুরী, শাহনাজ পারভীন মনি, আফসানা বিনতে আমিন, নাজমুন নাহার পপি, ইশরাত জাহান ঊর্মি, ইরফাত আরা ইভা, শায়লা সুলতানা, অ্যাডভোকেট সুরাইয়া পারভীন, নুসাইফা আহসান ও নাসরিন জাহান।