দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন নিয়ে উদ্বেগ 

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:০০ আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:০০

গত ১৫ মার্চ ভেড়ামারা উপজেলার কুটিবাজার এলাকার জামিলাতুন নিসা আদর্শ মহিলা হাফিজিয়া মাদ্রাসায় আবাসিক শিক্ষার্থী ১০ বছর বয়সী শিশুটিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান তার মা। পরে তাকে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানকার চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠান।

পরদিন ১৬ মার্চ শিশুটিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওসিসির চিকিৎসকের পরীক্ষায় শিশুটির শরীরে যৌন নির্যাতনের সন্দেহজনক আলামত পাওয়া যায়। এ ঘটনায় যৌন নির্যাতনের সন্দেহ তৈরি হলে ওই দিন রাতেই শিশুটির মা ভেড়ামারা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও সুপার মাওলানা মো. সাইদুর রহমানসহ তিনজনকে আসামি করা হয়। মামলাটির প্রধান আসামি ছাড়া বাকি দুই আসামি জামিনে মুক্তি পেলেও,সম্প্রতি প্রধান আসামিকেও জামিন দেওয়া হয়েছে।

মামলার প্রধান আসামির জামিনে উদ্বেগ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ এবং ‘আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট’। সংগঠন দুটি জানায়, ঘটনার শুরু থেকেই তারা মামলার অগ্রগতি অনুসরণ করছে। এমন গুরুতর অভিযোগের মামলায় প্রধান আসামির জামিনের খবরে তারা উদ্বিগ্ন। তাদের ভাষ্য, ডিএনএ পরীক্ষার ফল বিবেচনায় আসামিকে জামিন দেওয়া হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছে।

শিশুটির শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এবং ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আলামত সংগ্রহের সময়সীমা বিবেচনা না করে শুধু ডিএনএ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জামিনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে সংগঠন দুটি। এ সিদ্ধান্তে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার জানায়, শিশুটি কেবল যৌনাঙ্গে আঘাতের শিকার হয়নি, বরং তার শরীরের একাধিক স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পরীক্ষায় নিম্নলিখিত আঘাতের বিষয়গুলো নিশ্চিত হয়। সেখানে দেখা যায়, যোনিদ্বারে গুরুতর আঘাত ও রক্তক্ষরণ, কপালে আঘাত, বাম গোড়ালির জয়েন্টে আঘাত, বাম পায়ের নিচের অংশে আঘাত এবং ফুসফুসে সংক্রমণ হয়।

দেশে গত একবছরে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবেদনে। বিশেষ করে ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ ও পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা আগের বছরের তুলনায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।

ঘরের ভেতর থেকে রাস্তা, স্কুল থেকে কর্মক্ষেত্র—  নারী ও শিশু নির্যাতনের খবর এখন প্রায় প্রতিদিনের। ধর্ষণ, যৌতুকের জন্য নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, যৌন হয়রানি কিংবা শিশু গৃহকর্মীর ওপর নিষ্ঠুরতার ধরন বদলায়, কিন্তু চিত্রটা একই থাকে: ভুক্তভোগী বেশিরভাগ সময়ই নারী ও কন্যাশিশু।

আইনজীবী ও নারী অধিকারকর্মীদের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, যথাযথ নজরদারির অভাব এবং বিচারে ধীরগতির কারণে অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি নারী ও শিশু নির্যাতনকে উৎসাহিত করার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভেড়ামারার মতো মামলায় যখন গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত প্রধান আসামি শুধুমাত্র একটি ফরেনসিক রিপোর্টের ভিত্তিতে জামিন পেয়ে যায়, তখন ভুক্তভোগী পরিবারের মধ্যে ভয় ও অনাস্থা তৈরি হয়। মামলা তুলে নিতে চাপ, সামাজিকভাবে হেনস্তা এবং দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার ভোগান্তির ভয়ে অনেক পরিবারই আর মামলা করতে চায় না। অপরাধীরা বুঝে যায়, প্রভাব, টাকা বা আইনি ফাঁকফোকর ব্যবহার করে পার পাওয়া সম্ভব। এর ফলে একটি ঘটনার বিচার না হওয়া পরবর্তী ১০টি ঘটনার জন্ম দেয়— কারণ সমাজে বার্তা যায়, অপরাধ করলেও শাস্তি নিশ্চিত নয়।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ২০২৫ সালে প্রাপ্তবয়স্ক নারীর তুলনায় বেশি ধর্ষণের শিকার হয়েছে কন্যাশিশু, যা সামাজিক অবক্ষয়ের ভয়াবহ ইঙ্গিত দেয়। পরিসংখ্যান দেখলে বুঝা যায়, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, ভুক্তভোগীদের বড় অংশই কন্যাশিশু।

২০২৫ সালে ৫ মার্চ মাগুরার শিশু আছিয়ার ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনা ছিল সবচেয়ে আলোচিত। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই শিশুটি বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয় এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এই ঘটনায় সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

আমরাই পারি জোটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে দেখা যায়, গত তিন মাসে দেশে ১৬৫ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। একইসাথে, গত সাত মাসে দেশে প্রায় ১৫ হাজার শিশুর নিখোঁজ হওয়ার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অর্থাৎ, গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৭১টি শিশু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটছে।  পুলিশের ভাষ্যমতে, ওই সময়ে নিখোঁজ ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে অথবা তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, নিখোঁজ শিশুদের ১৩ শতাংশের সন্ধান এখনও মেলেনি। এই পরিসংখ্যান নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং তাদের জীবন ও মর্যাদা রক্ষার ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঝুঁকির একটি গভীর চিত্র তুলে ধরে।

এমন ঘটনা কয়েক দিনের সংবাদ হয়ে জনমনোযোগ থেকে হারিয়ে গেলে অস্বাভাবিক নৃশংসতাকেও স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এমজেএফ মনে করে, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতাকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক বা অনিবার্য হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না বলে মনে করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম মনে করেন, নারী ও শিশুকে বারবার ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যা করা গভীরভাবে উদ্বেগজনক এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একটি শিশু ঘরে, স্কুলে যাওয়ার পথে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবং নিজের কমিউনিটিতে নিরাপদ থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। এসব ঘটনা যেন কয়েক দিনের জন্য সংবাদ শিরোনাম হয়ে পরে জনমনোযোগ থেকে হারিয়ে না যায়।

তিনি বলেন, প্রতিটি ঘটনার দ্রুত তদন্ত করতে হবে, দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং সুরক্ষা ও প্রতিরোধব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। মা-বাবা ও অভিভাবকদেরও শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং ভয়, মানসিক অস্থিরতা বা ঝুঁকির কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত সাড়া দিতে হবে। শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা পরিবার, প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত দায়িত্ব।

নারী ও শিশু নির্যাতনে সরকারকে জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে বলে মনে করে আমরাই পারি জোট। উইক্যান নেটওয়ার্কের নির্বাহী পরিচালক জিনাত আরা হক বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন বৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ বিচারহীনতার সংস্কৃতি। বিচার ব্যবস্থাকে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। তিনি বলেন, অপরাধী যারা তারা তো বুঝে গেছে যে, অপরাধ করেও আমি বিচারের আওতায় আসব না। বিচার পেতে গেলে অনেক কাটখড় পোহাতে হবে।

জিনাত আরা হক বলেন, বিচার ব্যবস্থাকে অর্থ খরচ করে, ক্ষমতা ও রাজনীতি দিয়ে নিজের মতো করে ব্যবহার করা যায়— এই যে একটা ভাবনা তৈরি হয়েছে, এর ভয়াবহ প্রতিফলন হচ্ছে নারী ও শিশু নির্যাতনের ক্ষেত্রে।

বিচার না থাকার সংস্কৃতি এখন প্রতিটা মানুষের জীবনে ঘটছে। নারীদের প্রতি সহিংসতা এমনভাবে বেড়েছে, কারণ অপরাধমনস্করা বুঝতে পারছে যে এগুলো করা যায়। আপনি অপরাধ করার যে সংস্কৃতি তৈরি করছেন, সেটা খুবই ভয়াবহ। আগে অন্তত একটা টেনশন ছিল যে, আমি অপরাধী হলে মানুষ কী ভাববে। এখন সেই ভয়টাই নেই,বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এখন জানা যায় যে, বিচারকে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সবকিছুকে আমি ম্যানেজ করে ফেলতে পারি। এটা খুব খারাপ একটা চর্চা হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে রাষ্ট্রকেই মূল দায়িত্ব নিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারকে দেখাতে হবে যে নারী ও শিশু নির্যাতনের ইস্যুতে তারা জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছে। ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই যেন বিচার পাওয়া যায় এবং সরকার যে এই বিষয় বন্ধে ইতিবাচক, তা যেন সাথে সাথেই প্রচার হয়।

বিচার ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন,বিচার ব্যবস্থাটাকে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে দিতে হবে। অপরাধী যে, তাকে একদম স্বাধীনভাবে তদন্ত করে তার বিচার করতে হবে। বিচার ব্যবস্থা বলতে শুধু আদালত না। থানা, হাসপাতাল, কোর্টের পুরো পরিবেশ—সবকিছুই বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত। পুরো জায়গাগুলোকেই ধরে ধরে ঠিক করতে হবে।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, একটা রাষ্ট্র কেন তৈরি হয়? খালি বড় বড় কথা বলার জন্য আর ইন্টারন্যাশনাল পলিসিতে সই করার জন্য? নাগরিককে নিরাপত্তা দেবে তো সে। নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া তার দায়িত্ব। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা তো জরুরি। এখানে সিস্টেম ডেভেলপ করতে হবে। সিস্টেম ডেভেলপ না করলে সরকার বদলেও কোনো অবস্থার পরিবর্তন হয় না।

আমরাই পারি জোট জানায়, সম্প্রতি ন্যাম ভবনে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনা প্রমাণ করে যে, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন সকল স্তরে শ্রেণী-পেশা-ধর্ম-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সকল পর্যায়ে সংঘটিত হচ্ছে।

আমরাই পারি জোট দৃঢ়ভাবে মনে করে যে, নারীর প্রতি সহিংসতা কোনোভাবেই ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিষয় হিসেবে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই; এটি নারীর মানবাধিকার ও মর্যাদার প্রশ্ন। বিশেষত, কোনো জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে নারীর প্রতি সহিংসতা বা নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠলে

তাঁর রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

জিরো টলারেন্স নীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ জোটের সুপারিশমালা নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোটের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ১৬ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। জোটের নেতারা বলছেন, বিচ্ছিন্ন উদ্যোগে নয়, রাষ্ট্রীয় জরুরি ইস্যু হিসেবে এই সংকটকে মোকাবিলা করতে হবে।

১. জিরো টলারেন্স নীতি ও আইনি কাঠামো

নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতনকে জাতীয় জরুরি ইস্যু হিসেবে ঘোষণা করে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। ধর্ষণ, যৌন সহিংসতা, হত্যাসহ সকল প্রকার সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। হাইকোর্টের ২০০৯ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী যৌন হয়রানি প্রতিরোধে পৃথক আইন প্রণয়ন ও তার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

২. দ্রুত বিচার ও ভুক্তভোগী সুরক্ষা

নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করতে হবে এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আইন অনুযায়ী প্রতিটি মামলা ১৮০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। বিচার চলাকালে নির্যাতনের শিকার নারী, শিশু ও তার পরিবারের নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে এবং সাক্ষী প্রদান প্রক্রিয়াকে যুগোপযোগী ও হয়রানিমুক্ত করতে হবে।

৩. প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারি ও জবাবদিহি

মাদ্রাসাসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত মনিটরিং, স্বাধীন অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থা এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি বাধ্যতামূলক করতে হবে। সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা নীতিমালা বাস্তবায়নে কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। থানা পর্যায়ে নারী ও শিশুবান্ধব ডেস্ক শক্তিশালী করতে হবে এবং অভিযোগ গ্রহণে হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

৪. ডাটাবেজ, ট্র্যাকিং ও সাইবার সুরক্ষা

নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত, দণ্ডপ্রাপ্ত এবং পুনরাবৃত্ত অপরাধীদের তথ্য সমন্বিত করে পুলিশের কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে একটি কেন্দ্রীয় ট্র্যাকিং ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে, যাতে অপরাধীদের চলাচল ও পুনরাবৃত্ত অপরাধ পর্যবেক্ষণ করা যায়। একই সঙ্গে সাইবার সহিংসতা, অনলাইন ব্ল্যাকমেইল ও ডিজিটাল যৌন হয়রানি প্রতিরোধে বিশেষ সাইবার মনিটরিং ও দ্রুত প্রতিকার ব্যবস্থা চালু করতে হবে এবং নির্যাতনের ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে সমন্বিত জাতীয় ডাটা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

৫. প্রতিরোধ ও সামাজিক সচেতনতা

শিক্ষা কারিকুলামে লিঙ্গসমতা, সম্মানজনক আচরণ, সম্মতি ও মানবাধিকার বিষয়ে কার্যকর শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। গণপরিবহন ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে বাধ্যতামূলক নীতিমালা কার্যকর করতে হবে। স্থানীয় সরকার, নারী সংগঠন, শিক্ষক, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে সম্পৃক্ত করে জাতীয় পর্যায়ে সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
শিশু নির্যাতন মামলার আসামির জামিনে নিন্দা ও প্রতিবাদ
নারী-শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে কঠোর জিরো টলারেন্স নীতি: রাষ্ট্রপতি
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে বাড়ছে বাল্যবিবাহ: গণনা হচ্ছে না অ-অর্থনৈতিক ক্ষতি
সর্বশেষ খবর
ইতিহাস গড়া হ্যাটট্রিকে ক্যারিয়ারসেরা র‌্যাঙ্কিংয়ে হাসান 
ইতিহাস গড়া হ্যাটট্রিকে ক্যারিয়ারসেরা র‌্যাঙ্কিংয়ে হাসান 
গ্রাম ও শহরের মধ্যে টিকাদানের বৈষম্য দূর করতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
গ্রাম ও শহরের মধ্যে টিকাদানের বৈষম্য দূর করতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আগাম জামিনের আর্জি খারিজ, গ্রেফতার হবেন সোহম
আগাম জামিনের আর্জি খারিজ, গ্রেফতার হবেন সোহম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে প্রাণ গেলো পাঁচজনের, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১৯২০
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে প্রাণ গেলো পাঁচজনের, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১৯২০
সর্বাধিক পঠিত
অবশেষে সনদ পেলেন ‘ম্যাডামের মেসেজে হা হা’ দেওয়া সেই শিক্ষার্থী
অবশেষে সনদ পেলেন ‘ম্যাডামের মেসেজে হা হা’ দেওয়া সেই শিক্ষার্থী
হিজাব নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তুরস্ক-আজারবাইজান সম্পর্কে টানাপোড়েন
হিজাব নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তুরস্ক-আজারবাইজান সম্পর্কে টানাপোড়েন
২০ কোটি ডলারের রাজকীয় প্রকল্প এখন নির্জন ভৌতিক শহর
২০ কোটি ডলারের রাজকীয় প্রকল্প এখন নির্জন ভৌতিক শহর
বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতে পরাশক্তির নজর 
বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতে পরাশক্তির নজর 
আরবির শিক্ষক প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, বললেন ‘আল্লাহ তারেক রহমানকে দিয়ে বানিয়েছেন’
আরবির শিক্ষক প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, বললেন ‘আল্লাহ তারেক রহমানকে দিয়ে বানিয়েছেন’