শর্ত ভঙ্গ করে নির্ধারিত সময়ের আগেই রাজধানী ঢাকার অস্থায়ী হাটগুলোতে আনা হয়েছে কোরবানির পশু। শর্ত অনুযায়ী ২৮ জুলাই (মঙ্গলবার) থেকে হাট শুরুর কথা থাকলেও এরইমধ্যে কোরবানি পশু এসে গেছে নগরীর অস্থায়ী হাটগুলোতে। হাটের নির্ধারিত জায়গা পেরিয়ে মানুষের বাসাবাড়ির সামনের দরজা থেকে শুরু করে অলিগলিতে ছড়িয়ে গেছে। মানা হচ্ছে না সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্যবিধিও। রবিবার (২৬ জুলাই) নগরীর বিভিন্ন কোরবানি পশুর হাট ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।
দুই সিটির ইজারা শর্ত অনুযায়ী ঈদের দিনসহ মোট পাঁচ দিন কোরবানির অস্থায়ী হাট চালু থাকবে। আর হাট বসার দুই দিন আগে ইজারাদার হাটের প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করতে পারবেন। তাছাড়া প্রতি ৭ ফুট বাই ১০ ফুট তথা ৭০ বর্গফুটে একটি করে গরু রাখতে হবে। কিন্তু এসবের কিছুই দেখা যাচ্ছে না হাটগুলোতে।
আগামী ১ আগস্ট দেশে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। সে হিসাবে ২৮ আগস্ট থেকে নগরে হাট বসার কথা আর রবিবার থেকে প্রস্তুতি নেওয়ার কথা। তবে এসব শর্তের তোয়াক্কা না করে আরও অন্তত সপ্তাহখানেক আগ থেকেই হাটের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাটগুলোতে রাখা হয়েছে কোরবানির পশু।
সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেরাদিয়া হাটে গিয়ে দেখা গেছে, হাটের মূল এলাকা পেরিয়ে আশপাশের বিভিন্ন বাসাবাড়ির দরজা ও অলিগলিতে ইজারাদারের দেওয়া বাঁশের খুঁটিতে পশু রাখা হয়েছে। গলির মাঝ অংশে শামিয়ানা টানিয়ে পশুর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেসব গলিতে চলাচল করা যাচ্ছে না। হাটগুলোতে যেভাবে আয়োজন করা হয়েছে তাতে সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি। ফলে আশপাশের বাসাবাড়ির মানুষ করোনা ঝুঁকির পাশাপাশি চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
দক্ষিণ বনশ্রীর সাত নম্বর গলির বাসিন্দা ইকবাল হোসেন বলেন, ‘কোরবানি হাট নিয়ে দুই সিটি করপোরেশনের কঠোর স্বাস্থ্যবিধির কথা শুনে আসছি। কিন্তু কোথায় স্বাস্থ্যবিধি? যে পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে সেটা তো অন্যান্য বছরের চেয়েও খারাপ।’
এ বিষয়ে হাটের ইজারাদার ময়েন উদ্দিন মিলন বলেন, ‘মানুষ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু নিয়ে চলে এলে আমাদের কী করার থাকে? সিটি করপোরেশন থেকে যেসব শর্ত দিয়েছে সেগুলো পালন করেই কাজ করছি। আমাদের দুই দিনের সময় দেওয়া হয়েছে, দুই দিনে একটা হাট প্রস্তুত করা যায় না।’
একই অবস্থা দেখা গেছে উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজারের মৈত্রী সংঘের মাঠ সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গার হাটে। এই হাটটি রেলওয়ে কলোনির ভেতরে বস্থিত। হাটটিতে কলোনির বাসাবাড়ির উঠানেই পশু রাখার জন্য বাঁশ ও খুঁটি রাখা হয়েছে। এই হাটটি বাতিল করার জন্য এরইমধ্যে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছেন। পাশাপাশি দক্ষিণ সিটি মেয়রকেও স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা।
একই অবস্থা দেখা গেছে পুরান ঢাকার ধূপখোলা হাটেও। এই হাটের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। সেখানে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে পশু। হাটে আগত অধিকাংশ মানুষের মুখে ছিল না মাস্ক। নেই সিটি করপোরেশনের কোনও তদারকিও।
এ বছর জনবহুল এলাকায় কোরবানি পশুর হাট বসানো হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছিল দুই সিটি করপোরেশন। তবে উত্তর সিটি করপোরেশন দরপত্র আহ্বান করেও ছয়টি হাট বাতিল করেছে। আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন দরপত্র জমা না পড়াসহ বেশ কিছু কারণে শেষ ধাপে তিনটি হাট বাতিল করেছে।
এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শর্ত অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনেই আগামী মঙ্গলবার থেকে হাট বসানোর কথা। এর আগে হাটে পশু তোলার সুযোগ নেই। আমরা সব ইজারাদারকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাট পরিচালনা করার জন্য বলেছি। হাট পরিচালনার ক্ষেত্রে কেউ যদি স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে না পারেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’








