‘আমিনবাজার ল্যান্ডফিল্ডের এটির মেয়াদ ২০১৯ সাল পর্যন্ত ছিল। ২০২১ সালের ডিসেম্বরের পরে এখানে আর ময়লা ফেলার জায়গা থাকবে না। ঢাকা শহরের প্রতিদিন যে আবর্জনা তৈরি হয়, তা ২০২২ সাল থেকে কোথায় ময়লা ফেলা হবে তার পরিকল্পনা এখনই নিতে হবে।’ শনিবার (২২ আগস্ট) আমিনবাজারে অবস্থিত ডিএনসিসির যান্ত্রিক ওয়ার্কশপ এবং ল্যান্ডফিল পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।
মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে জমি অধিগ্রহণ করে একটি ইকো পার্ক তৈরি করা হবে। এখন ময়লা আমরা লিনিয়ার ইকোনমিতে ফেলি, তখন হবে সার্কুলার ইকনোমি। সে ক্ষেত্রে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও বায়োগ্যাস উৎপাদন হবে। আমরা এখানে ৮০ একর জায়গা অধিগ্রহণ করে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, জৈব সার ইত্যাদি উৎপাদনে যাবো। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পরিবেশ অধিদফতরের সমন্বয়ে আমরা এক নতুন স্বপ্নের বাস্তবায়ন দেখতে পাবো।’
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমিন বাজারে নির্মিতব্য দেশের প্রথম বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ প্লান্ট স্থাপিত হলে ঢাকা শহরের রাস্তা-ঘাট এবং খাল-বিলসহ যত্রতত্র ময়লা পড়ে থাকবে না। বিদ্যুৎ প্লান্ট স্থাপিত হলে সেখানে প্রতিদিন তিন হাজার টন ময়লা-আবর্জনা প্রয়োজন হবে। এত পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে বিদ্যুৎ প্লান্ট দিলে ঢাকা শহরের যেখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ আর থাকবে না। বিদেশি একটি কোম্পানির সঙ্গে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চুক্তি করা হবে। চুক্তি হওয়ার ১৮ মাসের মধ্যেই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। যদিও তারা এর থেকে কিছুটা সময় বেশি চেয়েছেন। চূড়ান্ত চুক্তির সময় এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।’
বেলা ১১টায় আমিনবাজারে ডিএনসিসি’র পাইকারি কাঁচাবাজারে যান্ত্রিক ওয়ার্কশপ পরিদর্শন করেন এবং পরে আমিনবাজার ল্যান্ডফিল পরিদর্শন করেন তারা। মেয়র আতিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘ডিএনসিসির এই পাইকারি কাঁচাবাজারে এবং যাত্রাবাড়িতে কাওরান বাজারের কাঁচাবাজার স্থানান্তর করার কথা ছিল। কিন্তু কাজটি আমরা এখনও করতে পারিনি। এখানে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। ব্যবসায়ীরা একেক সময় একেক ধরনের দাবি করছে। কিন্তু দাবিগুলো আমরা লিখিত আকারে পাচ্ছি না। কাওরান বাজারের মতো এরকম একটা বিশৃঙ্খল মার্কেট ঢাকা শহরে হতে দেওয়া যায় না।’
গাবতলী পশুর হাটের পাশে একটি মডার্ন স্লটারিং হাউজ করা হবে বলে জানিয়ে মেয়র আতিক বলেন, ‘৫২ একর জমি প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক উদ্ধার করেছিলেন। এটি কোথাও কোথাও আবার দখল হয়ে গিয়েছে। এসব জায়গা আবারও উদ্ধার করে, বাউন্ডারি ওয়াল করে এখানে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা হবে।’
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল হাই, সচিব রবীন্দ্রশ্রী বড়ুয়া, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এম সাইদুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।








