লালবাগ জামেয়া কোরানিয়া আরাবিয়া মাদরাসার শূরা সদস্য ও সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা জসিম উদ্দিনকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় জনৈক শাহিন হুজুরকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে ঢাকা মহানগর হেফাজত। রবিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ঢাকা মহানগর হেফাজতের সেক্রেটারি মাওলানা মামুনুল হক এ দাবি জানান।
মাওলানা জসিম উদ্দিন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব। তিনি গত ৯ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থেকে বাসায় ফেরার পথে আততায়ীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। হামলার একদিন পর মাওলানা জসিম উদ্দিন লালবাগ থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, হামলার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হামলার সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ায় হামলাকারী শনাক্ত হয় ও তার ছবি ভাইরাল হয়। স্থানীয়রা জানায়, হামলাকারীর নাম মাসুম আহমেদ ইমরান। সে টাকার বিনিময়ে এসব কাজ করে থাকে। হামলার ঘটনার চারদিন পর দক্ষিণখান থেকে মাসুমকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে মামুনুল হক দাবি করেন, গ্রেফতারের পর পুলিশকে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে মাসুম জানায়, বড় কাটারা মাদরাসার ‘শাহিন হুজুর’ নামক এক ব্যক্তি তাকে এ কাজের জন্য টাকা দিয়েছে। পরবর্তীতে ১৪ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানা থেকে কোর্টে পাঠানো ফরওয়ার্ডিংয়ে হুকুমদাতা হিসেবে ‘শাহিন হুজুর’ এর নাম উল্লেখ করে দেয় পুলিশ।
মামুনুল হক আরও বলেন, শাহিনের সঙ্গে মাওলানা জসিমের ব্যক্তিগত কোনও সম্পর্ক নেই। হত্যাচেষ্টার মতো কোনও ক্ষোভ বা শত্রুতা তো দূরের কথা, সামান্য বৈরি সম্পর্কও তাদের পরস্পরের মধ্যে কখনও ছিল না। শাহিন কারও নির্দেশেই মাওলানা জসিমকে হত্যার উদ্দেশে ভাড়াটে খুনির সাথে আর্থিক লেনদেন করেছিল। শাহিনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলেই মূলহোতাদের নাম বেরিয়ে আসবে।
মামুনুল হক বলেন, ‘শাহিন হুজুর’ নামে যে নির্দেশদাতার কথা হামলাকারী মাসুমের স্বীকারোক্তিতে উঠে এসেছে তার পরিচয় আমরা বের করতে সক্ষম হয়েছি। শাহিনের গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাটে। সে পরিবার নিয়ে লালবাগে থাকে। আশরাফুল উলুম বড় কাটারা মাদ্রাসার কিতাব বিভাগে শিক্ষকতা করে।








