চিরাচরিত নিয়ম ভেঙে এবং সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত ১৮ মার্চ শুরু হয়েছে বাঙালির প্রাণের উৎসব, প্রাণের বইমেলা। আশার পালে হাওয়া লাগতে শুরু করে লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের।
কিন্তু দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাঝে বাড়ছে অসন্তোষ আর অভিযোগ। মেলার প্রথম দিনেই প্যাভিলিয়ন ও স্টল সংস্কৃতিকে বৈষম্যমূলক নীতি আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন একটি দল।
মূল মেলা শুরু হয়ে গেলেও সবগুলো স্টলের নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় এবং রোদের কারণে বাতাসে ধুলো উড়তে থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন মেলায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থী এবং পাঠকরা।
রবিবার (২১ মার্চ) মেলার চতুর্থ দিনে বিক্রেতারা অভিযোগ করেন, বই বিক্রি আগের তুলনায় অনেক কম।
অনুপম প্রকাশনীর বিক্রেতা আরিফুল হাসান বলেন,‘করোনাকাল বিবেচনায় সাড়া পেলেও বিক্রির পরিমাণ পূর্বের তুলনায় অনেক কম। মানুষজন আসেন, ঘোরাঘোরি করেন, বই দেখেন, তবে কেনার সংখ্যাটা নিতান্তই অল্প।’
সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় লিটল ম্যাগাজিনের স্টলের জায়গা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আগের জায়গায় স্থানান্তরের দাবিতে প্রতিবাদ মিছিল করেছেন লিটচল ম্যাগ সম্পাদক ও কর্মীরা। এবং স্থানান্তরের আগ পর্যন্ত তারা তাদের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেন।
লিটল ম্যাগাজিন ‘হালখাতা’র সম্পাদক শওকত হোসেন বলেন, ‘গত বছর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলা একাডেমির ভেতরে যে লিটল ম্যাগ চত্বরটি ছিল, সেটিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মূল মেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। যদি কোনও কারণে তা পরিবর্তন করতে হয়, তবে দ্বিপাক্ষিক সিদ্বান্তের ভিত্তিতে সেটা হতে হবে। বাংলা একাডেমি ন্যাক্কারজনক ও আপত্তিকরভাবে নিজেদের একক সিদ্বান্তের ভিত্তিতে মূল মেলার একদম পেছনে, যেখানে কোনও মানুষজন প্রবেশ করে না। এরকম একটি অন্ধকার ঝুপড়ির ভেতরে লিটল ম্যাগাজিনের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। মেলার উদ্দেশ্যই হচ্ছে— মানুষজনের সঙ্গে সংযোগ করা। যদি সেটিই না হয়, তাহলে বইমেলা বসিয়ে লাভ কী! আর স্টল খুলেই লাভ কী!’
আরেক লিটল ম্যাগাজিন 'অনন্ত'র নির্বাহী সম্পাদক শাফি সমুদ্র বলেন,‘আমাদের সঙ্গে কোনও আলোচনা ছাড়াই মূল মেলার বাইরে, যেখানে কোনও ক্রেতাতো দূরের কথা, ঘুরাফেরার জন্যও কেউ আসে না। শৌচাগারের পাশে আমাদেরকে জায়গা দেওয়া হয়েছে। মূল মেলা থেকে দেখে মনে হবে, যেন এখানে সার্কাসের প্যান্ডেল হয়েছে। এইভাবে এটা থাকতে পারে না। আমাদের দাবি, আমাদেরকে আগের জায়গায় বসতে দিতে হবে।'
লিটল ম্যাগাজিনের স্টল নিয়ে সম্পাদক-কর্মীদের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে বইমেলার আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব জালাল আহমেদ বলেন, ‘তাদের দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। তারা যেখানে যেতে চাচ্ছে তাদের জন্য সেখানে স্টল তৈরি করে দেওয়া হবে।’








