হামিম গ্রুপের আহত শ্রমিক কাঞ্চন মিয়াকে আইএলও কনভেনশনের ১২১ ধারা মোতাবেক ক্ষতিপূরণ প্রদান ও আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর গুলি করা এবং আহত শ্রমিকদের নির্যাতন করা মালিকপক্ষ-পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছে পোশাক খাতের ৯টি সংগঠনের জোট গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলন।
রবিবার (২৩ মে) গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেন শ্রমিক নেতারা।
শ্রমিক নেতারা বলেন, করোনা মোকাবিলার দোহাই দিয়ে সরকার সব কারখানায় ৩ দিনের ছুটি দেওয়ার ঘোষণা দেয়। কিন্তু শ্রমিকরা প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের ছুটির জন্য দুই মাস ধরে সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে জেনারেল ডিউটি করেছেন। এই জেনারেল ডিউটির নামে শ্রমিকদের প্রাপ্য ছুটি থেকে বঞ্চিত করা কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। অন্যদিকে সরকার এবং মালিকপক্ষ শ্রমিকদের প্রাপ্য ছুটি কর্তন করায় অন্য অনেক কারখানার মতো গাজীপুরের টঙ্গির মিলগেট এলাকায় অবস্থিত হামিম গ্রুপের ক্রিয়েটিভ কালেকশন লি. কারখানার শ্রমিকরাও ১০ দিনের ছুটির দাবি জানিয়ে আন্দোলন করছিলেন ঈদের আগে গত ১০ মে। শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে শ্রমিকরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট ১০ দিনের ছুটি দাবি করেন। আচমকা মালিকপক্ষের নির্দেশে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ আক্রমণ করে। ফলে আন্দোলনরত শ্রমিকরা আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে ঢাকা গাজীপুর মহাসড়কে চলে আসলে পুলিশ বিনা উস্কানিতে মালিকপক্ষের নির্দেশে শ্রমিকদের ওপর টিয়ার শেল ও গুলি নিক্ষেপ করে। এতে করে ২০ জন শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হন এবং আরও প্রায় ৫০ জন আহত হন।
‘গুলিবিদ্ধ শ্রমিকরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও এখনও ঢাকা মেডিক্যালের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন মেশিন অপারেটর কাঞ্চন মিয়া। পুলিশের গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে যাওয়ায় তার পরিপাকতন্ত্রের একটি অংশ অপারেশন করে ৬০ সেন্টিমিটার অংশ কেটে ফেলে দিতে হয়েছে। জীবন রক্ষা করার জন্য পেটের মধ্যে পাইপ বসিয়ে মলত্যাগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাসপাতালের দেওয়া তথ্যমতে, আগামী ৩ মাস পরে আবারও অপারেশন করতে হবে। এ অবস্থায় ৮ সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম কাঞ্চন মিয়া কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন বাকি জীবনের জন্য। এ ছাড়া তার জীবন এখনও আশঙ্কামুক্ত নয়।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কাঞ্চন মিয়া আজকের দিন পর্যন্ত ১৪ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও তার চিকিৎসা ও সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণে সরকার ও মালিক গড়িমসি করছে।
শ্রমিক নেতারা বলেন, রানা প্লাজায় নিহত ও আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের জন্য আইএলও- কনভেনশন ১২১ ধারা মোতাবেক মহামান্য হাইকোর্ট যে মানদণ্ড নির্ধারণ করেছিলো সে অনুযায়ী কাঞ্চন মিয়ার ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। অর্থাৎ ‘লস অব ফিউচার আর্নিং’ ও ‘পেইন অ্যান্ড সাফারিং’ নীতিমালার ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণের এ অর্থ নির্ধারণ করা হয়ে থাকে; যা মালিক, সরকার এবং বিদেশি ক্রেতা, ব্র্যান্ড মিলে দিতে হবে। রানা প্লাজার মানদণ্ড অনুযায়ী যা বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী ৫০ লাখ টাকার অধিক হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের বর্তমান সমন্বয়কারী এবং গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম সবুজ, গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার, জাতীয় সোয়েটার ও গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এএএম ফয়েজ হোসেন, গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতা ভজন বিশ্বাস, ওএসকে গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দত্ত, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক জুলহাসনাইন বাবু, গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সহ সাধারণ সম্পাদক আমেনা আক্তার।








