ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে টঙ্গীর হা-মীম গ্রুপের কারখানায় পুলিশের গুলিবর্ষণের ঘটনায় গুরুতর আহত শ্রমিক কাঞ্চন মিয়াসহ সকলের সুচিকিৎসা ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র’র আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এসব দাবি জানানো হয়েছে।
সমাবেশ থেকে ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বাঁশখালীসহ সকল শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারের দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে বক্তারা ঈদের আগে টঙ্গীর হা-মীম গ্রুপে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনরত শ্রমিকের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর ঘটনায় অদ্যাবধি দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, একজন গুলিবিদ্ধ শ্রমিক কাঞ্চন মিয়া ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। সরকার তার জন্য মাত্র পঞ্চাশ হাজার টাকার সহায়তা দেওয়ার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব শেষ করেছে।
বক্তারা আরও বলেন, পাওনা ছুটির দাবিতে গত ১০ মে গাজীপুরের টঙ্গী মিলগেইটে অবস্থিত হা-মীম গ্রুপের দ্যাটস ইট গার্মেন্টস লি. ও ক্রিয়েটিভ কালেকশনস লি. কারখানা দু’টির শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে করতে গেলে পুলিশ সেখানে গুলি চালায়। এ ঘটনায় অন্তত পনেরজন শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হন এবং আরও অনেকেই আহত হন।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা বলেন, খুব কাছে থেকে শ্রমিকদের গায়ে শর্টগান দিয়ে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। শ্রমিক কাঞ্চন মিয়ার শরীর থেকে ডাক্তাররা শিশার প্যালেট গুলি উদ্ধার করেছে। তারা বলেন, কথায় কথায় শ্রমিকদের ওপর গুলি চালানোর উপযুক্ত জবাব না দেয়ার ফলেই রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলো একের পর এক ঘটনায় এমন ঔদ্ধত্য দেখিয়ে যাচ্ছে।
সমাবেশে তারা আরও বলেন, কারখানা মালিকের পুত্রসহ যাদের নির্দেশে শ্রমিকদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছে অবিলম্বে তাদের গ্রেফতার দাবি করছি। তারা বলেন, আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসারত কাঞ্চন মিয়াসহ আহত সকল শ্রমিকের সুচিকিৎসার ব্যয়ভার মালিক ও সরকারকে বহন করতে হবে। চিরস্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করা কাঞ্চন মিয়াসহ স্থায়ী অক্ষম হয়ে যাওয়া শ্রমিকদের আইএলও কনভেনশন অনুসারে সারা জীবনের আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে।
সংগঠনের সভাপতি শ্রমিকনেতা মন্টু ঘোষের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা জলি তালুকদার, প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান শামীম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুস সালাম বাবুল, লুৎফর রহমান আকাশ প্রমুখ। এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন আহত শ্রমিক কাঞ্চন মিয়ার স্ত্রী ফাতেমা বেগম ও পুত্র মুত্তাকিন।








