করোনাকালীন অচলাবস্থা এবং স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তি ও মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা স্থায়ীভাবে ৩২ করার দাবি জানিয়েছে চাকরিপ্রত্যাশী সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (১২ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) চাকরিপ্রত্যাশী যুব প্রজন্ম কর্তৃক আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তারা তাদের দাবি তুলে ধরেন।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, করোনাকালীন অচলাবস্থায় সকল বয়সের শিক্ষার্থী চাকরিপ্রত্যাশীরা ইতোমধ্যেই দেড় বছর হারিয়ে ফেলেছে। যা দুই বছরের দিকে ধাবমান ও সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ হওয়ায় দেড় লাখ তরুণ-তরুণী (করোনার শুরুর সময়ে যারা ২৮ বছরের অধিক বয়সের ছিলো) চাকরির পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়ার সুযোগ না পেয়েই ৩০ বছরের গণ্ডি অতিক্রম করতে চলেছে। যে ছেলে-মেয়েরা ২৬ বছর বয়সে শিক্ষাজীবন শেষ করে সেই করোনা শুরুর সময় থেকে আশায় বসে আছে চাকরির পরীক্ষায় অবতীর্ণ হবে, তারাও এই দেড় বছর হারাতে চলেছে।
‘সরকারি বিধি মোতাবেক প্রচলিত যে ৩০ বছর বয়স অবধি আবেদনের সুযোগ পাওয়ার কথা করোনার আঘাত কিন্তু প্রকৃতই সেই সুযোগ দিচ্ছে না। ১৯৯১ সালে শেষবার সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ২৭ থেকে বৃদ্ধি করে ৩০ বছর করা হয়, যখন গড় আয়ু ছিলো ৫৭ বছর। এরপর বিগত ৩০ বছরে গড় আয়ু ১৬ বছর বৃদ্ধি পেয়ে ৭৩ বছর হলেও বৃদ্ধি পায়নি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা। ২০১১ সালে এসে অবসরের বয়স বেড়ে হয় ৫৯ আর মহান মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য হয় ৬০ বছর। অবসরের বয়স যেহেতু বছর বৃদ্ধি পেয়েছে সেক্ষেত্রে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ২ বছর বৃদ্ধি করলে সেটাও আর সাংঘর্ষিক হয় না।
প্রাপ্ত তথ্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন, করোনাকালে চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরিমাণ ৮৭ শতাংশ কমে ১৩ শতাংশে উপনীত হয়েছে। বেকারত্বের হার ২০ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। করোনাকালীন ক্ষতিগ্রস্ততার শিকার এই দেড় লাখ চাকরিপ্রত্যাশী বেকারত্বের হার আরও বৃদ্ধি করবে।
‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের সরকারি চাকরিতে প্রবেশ বা আবেদনের বয়সসীমা ৩০ বছর হলেও বিসিএস স্বাস্থ্য ও জুডিশিয়ারির ক্ষেত্রে ৩২ বছর পর্যন্ত সুযোগ দেওয়া হয়। অন্যদিকে বিভিন্ন কোটার ক্ষেত্রে এই বয়সসীমা ৩২ বছর দেওয়া হয়। ব্যাকডেট দেওয়ার মাধ্যমে সকল বয়সী শিক্ষার্থী তথা চাকরিপ্রত্যাশীদের ক্ষতিপূরণ সম্ভব নয়। চাকরিতে আবেদনের বয়স স্থায়ীভাবে ২ বছর বাড়িয়ে ৩২ বছর করলে সকলেই তাদের হারিয়ে যাওয়া সময় ২ বছর ফিরে পাবে। করোনাকালে ভারতের আসাম রাজ্যে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ২ বছর বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও বক্তারা জানান।
এসময় চাকরিপ্রত্যাশী সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন তানভির হোসেন, সাজিদ সেতু, আনোয়ার সাকিন, অক্ষয় রায়, শারমিন পরি, আয়েশা আমির, আকাইদ আকন্দসহ প্রমুখ বক্তারা।









