X
রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২
৯ আশ্বিন ১৪২৯

বিদেশে লোক পাঠানোর নামে মা-ছেলের কোটি টাকার প্রতারণা

রিয়াদ তালুকদার
১১ আগস্ট ২০২২, ১৭:৫৩আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২২, ১৮:১৪

বিদেশে লোক পাঠানোর নামে প্রতারণা এবং মানবপাচারের অভিযোগে দুই জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন র‌্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। বুধবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর পল্টন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাব-৩-এর স্টাফ অফিসার (পুলিশ সুপার) বীণা রানী দাস বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন– জাবেদ হোসেন রকি (৩৩) ও আবির হোসেন ওরফে শুভ (২৭)। সম্পর্কে তারা খালাতো ভাই। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি সিপিইউ, পাঁচটি পাসপোর্ট, ২০টি খালি স্ট্যাম্প, ১০টি ট্রেনিংয়ের সার্টিফিকেট, ওমান কনস্যুলেট ও দূতাবাসের ভুয়া সিল, ভুয়া ভিসার ফটোকপি, করোনার ভুয়া রিপোর্ট, বেশ কয়েকটি ব্যাংকের চেকের পাতা উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব বলেছে, ২০০৪ সাল থেকে ওমানে থাকেন সেলিনা রহমান ওরফে রোকেয়া। সেখানে স্থানীয় একটি রিক্রুটিং এজেন্সিতে কাজ করার পরিপ্রেক্ষিতে গত চার বছর ধরে ভিসা পাঠিয়ে প্রায় অর্ধশত নারীকে ওমান নিয়ে গেছেন তিনি। প্রলোভনে পড়ে বিদেশ যাওয়া সেসব নারী বিভিন্নভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দেশ থেকে নারী কর্মী খোঁজা এবং এ কাজে রোকেয়াকে সহায়তা করে আসছিল ছেলে জাবেদ ও তার সহযোগী আবির। তাদের নিজেদের ছিল না কোনও রিক্রুটিং লাইসেন্স। রোকেয়া ওমান থেকে ভিসা পাঠাতেন আর বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের বিদেশ পাঠাতো ছেলে  জাবেদ। পরে পুরুষ কর্মীদেরও টার্গেট করতো তারা। মধ্যপ্রাচ্য, ওমানসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর নামে প্রায় শতাধিক পুরুষের কাছ থেকে তারা হাতিয়ে নিয়েছে কোটি টাকা।

র‌্যাব জানায়, গ্রেফতার জাবেদ ২০১২ সালে ওয়েটার ভিসায় দুবাই যায় এবং সেখানে চার বছর অবস্থান করে। পরবর্তী সময়ে দেশে ফিরে এসে ২০১৮ সাল থেকে সে মানবপাচারকে পেশা হিসেবে নিয়ে লোকজনের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। তার মা রোকেয়া বর্তমানে ওমানে অবস্থান করছেন। এছাড়া জাবেদের বাবা মো. খোকন দীর্ঘদিন ধরে দুবাইয়ে বাবুর্চির কাজ করেছেন। বর্তমানে রাজধানীর মতিঝিলে একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর পরিচালনা করছেন। এছাড়া গ্রেফতারকৃত আবির ২০১৮ সালে এয়ারপোর্ট ক্লিনার হিসেবে ওমানে যায়। ২০১৯ সালে দেশে ফিরে এসে জাবেদের সঙ্গে প্রতারণা ও মানবপাচারে জড়িয়ে পড়ে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, বিশ্বাস অর্জনের জন্য প্রথমে বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করে নারী কর্মীদের ওমানে পাঠানো হতো। পরবর্তী সময়ে পুরুষ কর্মীদের বিদেশে পাঠানোর নামে পাসপোর্ট সংগ্রহ করা হতো। জনপ্রতি চার লাখ টাকা করে নেওয়া হতো। টাকা এবং পাসপোর্ট নেওয়ার পর জাবেদ তার কম্পিউটারের মাধ্যমে ওমানের ভিসা তৈরি করে পাসপোর্টে সংযুক্ত করে দিতো। তারপর ভুয়া ভিসা, নকল টিকিট এবং নকল বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স বিদেশগামী ব্যক্তিকে সরবরাহ করা হতো। পরে জাল ভিসা ও টিকিটের কারণে বিমানবন্দর থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হতেন ভুক্তভোগীরা। পরে ওই চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করলে পুনরায় নতুন ভিসা ইস্যুর জন্য সময় চাওয়া হতো। আবার অনেকে টাকা ফেরত চাইলে ব্যাংকের চেক দেওয়া হতো। ব্যাংকে গিয়ে তারা দেখতেন অ্যাকাউন্টে টাকা নেই। এভাবেই হয়রানি এবং প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল চক্রটি।

বীণা রানী দাস বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে তাদের পরিবারের অনেকেই আগে বিদেশে ছিলেন, এখনও আছেন। এদের যোগসাজশে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল তারা।

তিনি বলেন, বিদেশ যাওয়ার জন্য সরকার অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি রয়েছে। ভালোভাবে খোঁজ-খবর নিয়ে বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। আর্থিক লেনদেনে আরও সচেতন থাকার কথা বলেন র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

 

/আরকে/এমওএফ/
সম্পর্কিত
ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে স্কুলছাত্রীকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেছে গৃহশিক্ষক
আদালতে জবানবন্দিধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে স্কুলছাত্রীকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেছে গৃহশিক্ষক
কামরাঙ্গীরচরে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার
কামরাঙ্গীরচরে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার
ডিজে দম্পতি ‘হত্যাকাণ্ডের’ ৪ বছর পর আসামিদের স্বীকারোক্তি
ডিজে দম্পতি ‘হত্যাকাণ্ডের’ ৪ বছর পর আসামিদের স্বীকারোক্তি
আবু হেনা রনিকে কেবিনে নেওয়া হয়েছে
আবু হেনা রনিকে কেবিনে নেওয়া হয়েছে
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
এতদিন কোথায় ছিলেন রহিমা?
এতদিন কোথায় ছিলেন রহিমা?
আ.লীগ সব সময় জনগণের ভোটেই ক্ষমতায় আসে: প্রধানমন্ত্রী
আ.লীগ সব সময় জনগণের ভোটেই ক্ষমতায় আসে: প্রধানমন্ত্রী
মহরতে স্মৃতিকাতর প্রযোজক অপু বিশ্বাস (ভিডিও)
মহরতে স্মৃতিকাতর প্রযোজক অপু বিশ্বাস (ভিডিও)
আজ মহালয়া, দেবীপক্ষের শুরু
আজ মহালয়া, দেবীপক্ষের শুরু
এ বিভাগের সর্বশেষ
কামরাঙ্গীরচরে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার
কামরাঙ্গীরচরে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার
ডিজে দম্পতি ‘হত্যাকাণ্ডের’ ৪ বছর পর আসামিদের স্বীকারোক্তি
ডিজে দম্পতি ‘হত্যাকাণ্ডের’ ৪ বছর পর আসামিদের স্বীকারোক্তি
আবু হেনা রনিকে কেবিনে নেওয়া হয়েছে
আবু হেনা রনিকে কেবিনে নেওয়া হয়েছে
এডিস নিয়ন্ত্রণে যেভাবে কাজ করছে দুই সিটি করপোরেশন
‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ ২৭ ওয়ার্ডএডিস নিয়ন্ত্রণে যেভাবে কাজ করছে দুই সিটি করপোরেশন
থানা হেফাজতে আসামির অসুস্থতা নিয়ে ধোঁয়াশা
থানা হেফাজতে আসামির অসুস্থতা নিয়ে ধোঁয়াশা